১০:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

নীরবে লিভার নষ্ট করার জন্য দায়ী যে ৩ খাবার

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৩৭:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 125

শরীরের ভেতরে নীরব যোদ্ধার মতো কাজ করে লিভার। প্রতিদিনকার খাবার হজম করা থেকে শুরু করে টক্সিন দূর করা, শক্তি জোগানো এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখাসহ ৫০০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে এই অঙ্গ। অথচ আমরা অজান্তেই কিছু পরিচিত খাবারের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ক্ষতি করছি লিভারের। এর ফলেই একসময় দেখা দেয় ফ্যাটি লিভার, সিরোসিসসহ নানা জটিলতা।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন—আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার কিছু খাবারই আসলে লিভারের বড় শত্রু।

১. সিড অয়েল বা বীজজাত তেল

সয়াবিন, কর্ন বা সানফ্লাওয়ার অয়েল ঘরোয়া রান্নায় বহুল ব্যবহৃত হলেও এতে অতিরিক্ত ‘ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড’ থাকে। এটি শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ বাড়ায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে লিভারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ‘স্টিয়াটো হেপাটাইটিস’-এর মতো জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি করে।

সমাধান: অলিভ অয়েল, সরিষার তেল বা নারকেল তেলের মতো স্বাস্থ্যকর তেল বেছে নিন। ভাজাপোড়া ও প্যাকেটজাত খাবার কম খান।

আরও পড়ুন : সতর্কবার্তা দিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

২. অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট

ভাত, রুটি, আলু—এসব আমাদের প্রধান খাবার। কিন্তু বেশি পরিমাণে খেলে তা শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তরিত হয়ে জমতে থাকে লিভারে। এতে তৈরি হয় নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD)।

সমাধান: পরিমিত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করুন। গোটা শস্য, সবজি ও ফলকে শর্করার উৎস হিসেবে বেছে নিন। নিয়মিত শরীরচর্চা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে সাহায্য করবে।

৩. প্রসেসড ফ্রুকটোজ

ফলে থাকা প্রাকৃতিক ফ্রুকটোজ ক্ষতিকর নয়। কিন্তু কোমল পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টি দই কিংবা ক্যান্ডিতে ব্যবহৃত ‘হাই-ফ্রুকটোজ কর্ন সিরাপ’ লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি লিভারে চর্বি জমায় ও প্রদাহ বাড়ায়।

সমাধান: প্রাকৃতিক ফল খান, তবে ফ্রুট জুস, কোল্ড ড্রিংকস ও অতিরিক্ত মিষ্টি এড়িয়ে চলুন। খাবারের লেবেলে ‘অ্যাডেড সুগার’ বা ‘হাই-ফ্রুকটোজ কর্ন সিরাপ’ আছে কিনা, অবশ্যই খেয়াল করুন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনভাবে খাবার বাছাই করলে লিভারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। কারণ শরীরের এই অঙ্গ সুস্থ থাকলেই পুরো শরীর থাকবে কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

নীরবে লিভার নষ্ট করার জন্য দায়ী যে ৩ খাবার

সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৩৭:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শরীরের ভেতরে নীরব যোদ্ধার মতো কাজ করে লিভার। প্রতিদিনকার খাবার হজম করা থেকে শুরু করে টক্সিন দূর করা, শক্তি জোগানো এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখাসহ ৫০০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে এই অঙ্গ। অথচ আমরা অজান্তেই কিছু পরিচিত খাবারের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ক্ষতি করছি লিভারের। এর ফলেই একসময় দেখা দেয় ফ্যাটি লিভার, সিরোসিসসহ নানা জটিলতা।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন—আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার কিছু খাবারই আসলে লিভারের বড় শত্রু।

১. সিড অয়েল বা বীজজাত তেল

সয়াবিন, কর্ন বা সানফ্লাওয়ার অয়েল ঘরোয়া রান্নায় বহুল ব্যবহৃত হলেও এতে অতিরিক্ত ‘ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড’ থাকে। এটি শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ বাড়ায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে লিভারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ‘স্টিয়াটো হেপাটাইটিস’-এর মতো জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি করে।

সমাধান: অলিভ অয়েল, সরিষার তেল বা নারকেল তেলের মতো স্বাস্থ্যকর তেল বেছে নিন। ভাজাপোড়া ও প্যাকেটজাত খাবার কম খান।

আরও পড়ুন : সতর্কবার্তা দিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

২. অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট

ভাত, রুটি, আলু—এসব আমাদের প্রধান খাবার। কিন্তু বেশি পরিমাণে খেলে তা শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তরিত হয়ে জমতে থাকে লিভারে। এতে তৈরি হয় নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD)।

সমাধান: পরিমিত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করুন। গোটা শস্য, সবজি ও ফলকে শর্করার উৎস হিসেবে বেছে নিন। নিয়মিত শরীরচর্চা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে সাহায্য করবে।

৩. প্রসেসড ফ্রুকটোজ

ফলে থাকা প্রাকৃতিক ফ্রুকটোজ ক্ষতিকর নয়। কিন্তু কোমল পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টি দই কিংবা ক্যান্ডিতে ব্যবহৃত ‘হাই-ফ্রুকটোজ কর্ন সিরাপ’ লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি লিভারে চর্বি জমায় ও প্রদাহ বাড়ায়।

সমাধান: প্রাকৃতিক ফল খান, তবে ফ্রুট জুস, কোল্ড ড্রিংকস ও অতিরিক্ত মিষ্টি এড়িয়ে চলুন। খাবারের লেবেলে ‘অ্যাডেড সুগার’ বা ‘হাই-ফ্রুকটোজ কর্ন সিরাপ’ আছে কিনা, অবশ্যই খেয়াল করুন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনভাবে খাবার বাছাই করলে লিভারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। কারণ শরীরের এই অঙ্গ সুস্থ থাকলেই পুরো শরীর থাকবে কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া