আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ ২২টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে অনেকগুলো তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা হিসেবে অপ্রত্যাশিত স্থান উল্লেখ করেছে। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন জায়গায়, যেমন কল্যাণপুরের একটি পুরোনো টিনশেড ঘর, গাজীপুরের একটি বন্ধ পোশাক কারখানা, এবং ঢাকার কিছু বাসা বা কোচিং সেন্টারে চলছে এসব দলের কার্যক্রম।
বাংলাদেশের একটি পত্রিকার অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-শাজাহান সিরাজ) তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় খুলেছে কল্যাণপুরের একটি সঙ্কীর্ণ টিনের ঘরে। একইভাবে, বাংলাদেশ সলুশন পার্টি তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে গাজীপুরের কাপাসিয়ার একটি বন্ধ পোশাক কারখানাকে ব্যবহার করছে। এছাড়া, বাংলাদেশ বেকার সমাজ (বাবেস) তাদের কার্যালয় হিসেবে দলের সভাপতির বাসা ব্যবহার করছে।
আরও পড়ুন : নুরের ওপর হামলা নিয়ে অন্তবর্তী সরকারের বিবৃতি
এছাড়া, ফরওয়ার্ড পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ধানমন্ডির একটি কোচিং সেন্টারের মধ্যে অবস্থিত, যেখানে দলটি দুটি কক্ষ ব্যবহার করে। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-সিপিবি (এম) এবং ভাসানী জনশক্তি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও এক কক্ষের ছোট স্থানে পরিচালিত হচ্ছে।
এই ধরনের পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এমন অস্থায়ী বা অস্বাভাবিক কার্যালয় থাকা রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা ও কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন। বিশেষত কিছু দলের লক্ষ্য হতে পারে নির্বাচনী নিবন্ধন পাওয়ার পর এটি বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো এবং বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করে সংসদ সদস্য হওয়া।
এদিকে, নির্বাচনী কমিশন (ইসি) এই দলগুলোর কার্যক্রম তদন্ত করে শর্ত পূরণের বিষয়টি যাচাই করছে। যদিও নিবন্ধন শর্তের মধ্যে সুনির্দিষ্ট অফিসের উপস্থিতি ও স্থায়ী কার্যক্রমের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, বেশ কিছু দলের পক্ষ থেকে এমন অস্থায়ী এবং অপ্রত্যাশিত ঠিকানা প্রবর্তিত হওয়ায় তাদের নিবন্ধন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের দৃষ্টান্ত দেশের রাজনীতিতে নতুন এক বিপদ ডেকে আনতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন আইনের শর্ত পূরণে অসামঞ্জস্য এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের দায়বদ্ধতার অভাব গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো
ঢাকা ডেস্ক 









