চট্টগ্রামে চার বছর আগে সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের সত্য প্রকাশ পেয়েছে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে। ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ মাহবুবা আক্তারকে হত্যার জন্য স্বামী ও শাশুড়ি দেড় লাখ টাকায় ভাড়াটে খুনি ঠিক করেছিলেন। সেই টাকার বিনিময়ে খুনি ও তার সহযোগীরা বাসায় ঢুকে গলাটিপে হত্যা করেন মাহবুবাকে।
২০২১ সালের ১৬ জুলাই নগরের ইপিজেড এলাকার নারকেলতলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনাটিকে তখন ‘ডাকাতির সময় খুন’ বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ তদন্ত শেষে সত্য উন্মোচিত হয়।
গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে আটক আসামি মো. আরিফ হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, স্বামী আবদুল গোফরান ও তার মা নাজনীন আক্তার দেড় লাখ টাকায় তাকে ভাড়া করেন। আরিফ আরও তিন সহযোগী নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী বাসায় ঢুকে মাহবুবাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান। পরে চুক্তির টাকা গোফরানের মায়ের কাছ থেকে নিয়ে সহযোগীদের মধ্যে ভাগ করে দেন।
আরও পড়ুন: শপথ গ্রহণ করলেন হাইকোর্টের ২৫ নতুন বিচারপতি
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান জানান, আরিফ আদালতে খুনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকি তিন সহযোগীকে ধরতে অভিযান চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই উপপরিদর্শক মহসীন চৌধুরী বলেন, আরিফ আগে গোফরানের বাসার ভাড়াটিয়া ছিলেন এবং পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। পরিচয়ের সূত্রে গোফরান ও তার মা তাঁকে হত্যার দায়িত্ব দেন।
এর আগে মাহবুবার ভাই মো. মিশকাত বাদী হয়ে ইপিজেড থানায় মামলা করেন। পুলিশ ২০২২ সালে অভিযোগপত্র দিলেও সেখানে ভাড়াটে খুনিদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। পরে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেয়।
মৃত গৃহবধূর ভাই মিশকাত বলেন, “আমার বোনকে যারা হত্যা করেছে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে। আমি ন্যায়বিচার চাই, যেন এ ধরনের হত্যার পুনরাবৃত্তি না হয়।”
ঢাকা ডেস্ক 









