ঢাকার কেরানীগঞ্জের বুড়িগঙ্গা নদী থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ভিন্ন দুটি এলাকা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
প্রথমে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মীরেরবাগ কোল্ড স্টোরের কাছে এক নারী ও এক শিশুর লাশ ভেসে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সদরঘাট নৌ পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী ওই নারীর গলায় বোরকা প্যাঁচানো ছিল, আর চার থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুটির গলায় একইভাবে ওড়না প্যাঁচানো ছিল।
সদরঘাট নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোহাগ রানা বলেন, “নারী ও শিশুর দুজনেরই মৃত্যু শ্বাসরোধে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। একই স্থানের কাছাকাছি মিললেও লাশ দুটির মধ্যে কিছুটা দূরত্ব ছিল।”
এর কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় কালিন্দী ইউনিয়নের মাদারীপুর ঘাট এলাকা থেকে আরও দুইজনের লাশ উদ্ধার করে বরিশুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। এদের মধ্যে একজন নারী ও একজন পুরুষ। বিশেষভাবে নজরে আসে—পুরুষটির এক হাতের সঙ্গে বাঁধা ছিল নারীর একটি হাত।
আরও পড়ুন : মায়ের মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে গিয়ে মারা গেলেন ছেলেও
বরিশুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোক্তার হোসেন বলেন, “প্রায় দুই থেকে তিন দিন আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহগুলো ফুলে যাওয়ায় চেহারা চেনা যাচ্ছে না, এমনকি আঙুলের ছাপও নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর হতে পারে।”
তিনি জানান, পুরুষটির পরনে ছিল লাল চেক শার্ট ও ট্রাউজার, আর নারীর পরনে ছিল লাল সালোয়ার ও ধূসর রঙের টি-শার্ট।
মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে সিআইডি ও পিবিআইয়ের ফরেনসিক দল পৌঁছে প্রমাণ সংগ্রহ শুরু করেছে। পুলিশ বলছে, চারজনকেই হত্যা করা হয়েছে বলে দৃঢ়ভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ পৃথকভাবে দুটি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
হঠাৎ চারটি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো কেরানীগঞ্জ জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
ঢাকা ডেস্ক 









