১২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

‘মব’ সৃষ্টি করে ৩ কিশোরকে সেতুর সঙ্গে পিটুনি, নিহত ১

  • রিপোর্টার
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৫২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
  • 61

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চুরির অভিযোগে তিন কিশোরকে সেতুর রেলিংয়ের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাতভর মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এতে মো. রিহান উদ্দিন মাহিন (১৫) নামের এক কিশোর ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

আজ শুক্রবার (২২ আগস্ট) ভোরে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের সাকর আলী তালুকদার বাড়ির চেইঙ্গার ব্রিজ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

মাহিন ওই এলাকার মুহাম্মদ লোকমানের ছেলে। সে কাঞ্চননগর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

মৃত্যুর আগে ওই কিশোরের বাবা সেখানে ছুটে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। এমনকি মাহিন মৃত্যুর আগে পানি পান করতে চাইলেও তাকে তা দিতে বাধা দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন মো. নোমান ও আজাদ।

সেতুর সঙ্গে বেঁধে মারধরে আহত দুই কিশোর হলো রাহাত ও মানিক। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া মাহিনের আহত বাবা মুহাম্মদ লোকমানকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন : মেঘনা নদী থেকে সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ উদ্ধার

থানা-পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাহিন, মানিক ও রাহাত গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়িতে ফিরছিল। এ সময় সড়কে ওঁৎ পেতে থাকা একদল যুবক মাহিন ও তার বন্ধুদের ধাওয়া করেন।

তারা ধাওয়ার একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদে উঠে যায়। এ সময় ওই ভবনে চুরির অভিযোগ তোলেন আক্রমণকারীরা। এরপর তাদের ধরে এনে চেইঙ্গার ব্রিজের ওপর বেঁধে সকাল পর্যন্ত বেধড়ক মারধর করতে থাকেন। খবর পেয়ে মাহিনের বাবা মুহাম্মদ লোকমান ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে তাঁকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে মাহিন ঘটনাস্থলে মারা যায়।

মাহিনের ফুফু সুখী বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার ভাইপো আমার কাছে পানি চেয়েছিল। তারা পানিও দিতে দেয়নি। তারা মাহিনকে রশি দিয়ে বেঁধে মারতে মারতে হত্যা করেছে।’

তিন কিশোর ধাওয়া খেয়ে যে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল, সেই বাড়ির মালিক মোবারক বলেন, ‘আমাদের ঘরে কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। লোকজনের চেঁচামেচি শুনে ঘুম ভাঙলে দেখি, স্থানীয় কয়েকজন ওই তিন কিশোরকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।’

কাঞ্চননগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আব্দুল কাদের চৌধুরী বলেন, চোর সন্দেহে ওই কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এটি আইনবহির্ভূত।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ বলেন, ভোরে সাকর তালুকদার বাড়ির একটি সড়কের ওপর মাহিনরা অটোরিকশায় করে এলাকায় ফিরছিল। এ সময় ওঁৎ পেতে থাকা স্থানীয় কয়েকজন মাহিন ও অপর দুই কিশোরকে মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলে মাহিন নামের কিশোর মারা যায়।

ওসি আরও বলেন, আহত দুই কিশোর চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

‘মব’ সৃষ্টি করে ৩ কিশোরকে সেতুর সঙ্গে পিটুনি, নিহত ১

সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৫২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চুরির অভিযোগে তিন কিশোরকে সেতুর রেলিংয়ের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাতভর মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এতে মো. রিহান উদ্দিন মাহিন (১৫) নামের এক কিশোর ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

আজ শুক্রবার (২২ আগস্ট) ভোরে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের সাকর আলী তালুকদার বাড়ির চেইঙ্গার ব্রিজ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

মাহিন ওই এলাকার মুহাম্মদ লোকমানের ছেলে। সে কাঞ্চননগর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

মৃত্যুর আগে ওই কিশোরের বাবা সেখানে ছুটে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। এমনকি মাহিন মৃত্যুর আগে পানি পান করতে চাইলেও তাকে তা দিতে বাধা দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন মো. নোমান ও আজাদ।

সেতুর সঙ্গে বেঁধে মারধরে আহত দুই কিশোর হলো রাহাত ও মানিক। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া মাহিনের আহত বাবা মুহাম্মদ লোকমানকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন : মেঘনা নদী থেকে সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ উদ্ধার

থানা-পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাহিন, মানিক ও রাহাত গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়িতে ফিরছিল। এ সময় সড়কে ওঁৎ পেতে থাকা একদল যুবক মাহিন ও তার বন্ধুদের ধাওয়া করেন।

তারা ধাওয়ার একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদে উঠে যায়। এ সময় ওই ভবনে চুরির অভিযোগ তোলেন আক্রমণকারীরা। এরপর তাদের ধরে এনে চেইঙ্গার ব্রিজের ওপর বেঁধে সকাল পর্যন্ত বেধড়ক মারধর করতে থাকেন। খবর পেয়ে মাহিনের বাবা মুহাম্মদ লোকমান ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে তাঁকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে মাহিন ঘটনাস্থলে মারা যায়।

মাহিনের ফুফু সুখী বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার ভাইপো আমার কাছে পানি চেয়েছিল। তারা পানিও দিতে দেয়নি। তারা মাহিনকে রশি দিয়ে বেঁধে মারতে মারতে হত্যা করেছে।’

তিন কিশোর ধাওয়া খেয়ে যে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল, সেই বাড়ির মালিক মোবারক বলেন, ‘আমাদের ঘরে কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। লোকজনের চেঁচামেচি শুনে ঘুম ভাঙলে দেখি, স্থানীয় কয়েকজন ওই তিন কিশোরকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।’

কাঞ্চননগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আব্দুল কাদের চৌধুরী বলেন, চোর সন্দেহে ওই কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এটি আইনবহির্ভূত।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ বলেন, ভোরে সাকর তালুকদার বাড়ির একটি সড়কের ওপর মাহিনরা অটোরিকশায় করে এলাকায় ফিরছিল। এ সময় ওঁৎ পেতে থাকা স্থানীয় কয়েকজন মাহিন ও অপর দুই কিশোরকে মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলে মাহিন নামের কিশোর মারা যায়।

ওসি আরও বলেন, আহত দুই কিশোর চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।