দেশি পেঁয়াজের দাম নিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের দুশ্চিন্তা যেন শেষই হচ্ছে না। পাইকারি পর্যায়ে সামান্য দাম কমলেও তার কোনো প্রভাব এখনো খুচরা বাজারে দেখা যায়নি। রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে এখনো প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ মান ও আকারভেদে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতারা দাবি করছেন, পাইকারিতে কিছুটা দাম কমলেও সরবরাহ ঘাটতি তীব্র হওয়ায় খুচরায় দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে পাইকাররা বলছেন, কৃষকের ঘরে মজুত শেষ হয়ে আসছে, আড়তেও সরবরাহ কমছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খুচরায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
কারওয়ান বাজারের আড়তদার আবুল কালাম বলেন, ‘আগে প্রতিদিন ট্রাকভর্তি পেঁয়াজ নামতো, এখন সপ্তাহে একটি ট্রাকও আসে না। ভারত থেকে আমদানি কমে যাওয়ার পর বাজারের ওপর চাপ বেড়েছে, কিন্তু স্থানীয় উৎপাদন ও মজুত সেই চাহিদা মেটানোর মতো নয়।’
আরও পড়ুন : সবজির দাম লাগামহীন, বাজারে ৮০ টাকার নিচে নেই কিছুই
অন্য এক পাইকারি ব্যবসায়ী হাশেম আলী জানান, ‘আগে প্রতি মণ পেঁয়াজ কিনতাম ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকায়। এখন সেটি ২২০০–২৫০০ টাকা ছুঁয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা আমাদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত পণ্যই পাচ্ছেন না। এর দায় পাইকার বা খুচরা ব্যবসায়ীদের নয়, মূল সমস্যা সরবরাহে।’
ক্রেতারা অবশ্য ব্যবসায়ীদের দিকেই অভিযোগ তুলছেন। আজমপুর বাজারে গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, ‘এক মাস আগেও ৬৫ টাকায় যে পেঁয়াজ কিনেছি, এখন সেটিই ৮০ টাকা। মরিচের দাম তো একেবারেই নাগালের বাইরে।’ বর্তমানে রাজধানীতে কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়।
অন্যদিকে সরকারি সংস্থা টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) তথ্যেও বাড়তি দামের প্রতিফলন দেখা গেছে। সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক মাসে খুচরায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। গত মাসে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৫৫–৬৫ টাকা, আর এখন ৭৫–৮৫ টাকা। তবে গত বছর একই সময়ে এই দাম ছিল আরও বেশি—কেজিপ্রতি ১১০–১২০ টাকা।
ঢাকা ডেস্ক 









