১১:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

স্ট্রাকচারাল কমিটিতে থাকতে চান না কলা অনুষদের ডিন, উপাচার্যকে চিঠি

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
  • 155

অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক। ছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে সংঘটিত সহিংসতা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট কর্তৃক গঠিত স্ট্রাকচারাল কমিটি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক।

১৮ আগস্ট উপাচার্যের কাছে লেখা এক চিঠিতে তিনি কমিটির সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৫ জুলাই ২০২৪ তারিখে উপাচার্যের বাসভবন ও এর আগে-পরে ক্যাম্পাসে সংগঠিত সহিংস ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকবৃন্দের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কর্তৃক গঠিত স্ট্রাকচারাল কমিটির আমি একজন সদস্য (ডিন হিসেবে)। গত ১৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে আসা একজন শিক্ষার্থী আমাদের উপস্থিতিতে আপনাকে জানান যে তিনি কমিটির উপস্থিত সদস্যবৃন্দের সামনে সাক্ষ্য দিতে অনাগ্রহী কারণ কমিটিতে এমন একজন সদস্য আছেন (আমাকে ইঙ্গিত করে) যিনি উল্লিখিত সহিংস ঘটনার নিমিত্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ শিক্ষকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করছে কি না তা খতিয়ে দেখতে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দকে ইতোমধ্যে অনুরোধ করেছেন। উপস্থিত শিক্ষার্থীর এ মনোভাব প্রকাশের পর আপনি কমিটির কয়েকজন সদস্যকে (আমিসহ) পাশের কক্ষে পাঠিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন : ডাকসুতে ২৮ পদে লড়াইয়ে মনোনয়ন নিলেন ৬৫৮ শিক্ষার্থী

আপনার পক্ষ থেকে এই উদ্যোগে কমিটির একজন সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদের নির্বাচিত ডিন হিসেবে আমি যথেষ্ট বিব্রতবোধ করেছি; এবং আপনার বিচারবোধে বিচলিত বোধ করেছি। এই পরিস্থিতিতে সংবেদনশীল এই তদন্ত কমিটিতে আপনার সাথে কাজ করতে আমি নিরাপদ বোধ করছি না। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে ভবিষ্যতেও আপনি শিক্ষকদের সম্মানহানি করবেন বলে আমি আশঙ্কা করি। এ ধরণের অসম্মানজনক পরিস্থিতি এড়াতে আমি স্ট্রাকচারাল কমিটিতে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী নই, বলেন তিনি।

তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়া/পদ্ধতি ও যে ধরণের দ্রুততার সাথে শিক্ষক-সংশ্লিষ্ট বিষয়টির তদন্ত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে তাতে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়া কঠিন বলে আমি মনে করি। কাজের পদ্ধতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনি সন্তুষ্টিবিধানের রাস্তা গ্রহণ করছেন বলে ভাববার যথেষ্ট কারণ আমার রয়েছে। আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করবার পাশাপাশি প্রত্যাশা করি যে আপনি বিবিধ পক্ষকে সন্তুষ্ট করবার রাস্তা ত্যাগ করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবেন।

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় শিক্ষকদের সংশ্লিষ্টতা তদন্তে  স্ট্রাকচারাল কমিটি গঠিত হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

স্ট্রাকচারাল কমিটিতে থাকতে চান না কলা অনুষদের ডিন, উপাচার্যকে চিঠি

সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে সংঘটিত সহিংসতা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট কর্তৃক গঠিত স্ট্রাকচারাল কমিটি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক।

১৮ আগস্ট উপাচার্যের কাছে লেখা এক চিঠিতে তিনি কমিটির সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৫ জুলাই ২০২৪ তারিখে উপাচার্যের বাসভবন ও এর আগে-পরে ক্যাম্পাসে সংগঠিত সহিংস ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকবৃন্দের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কর্তৃক গঠিত স্ট্রাকচারাল কমিটির আমি একজন সদস্য (ডিন হিসেবে)। গত ১৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে আসা একজন শিক্ষার্থী আমাদের উপস্থিতিতে আপনাকে জানান যে তিনি কমিটির উপস্থিত সদস্যবৃন্দের সামনে সাক্ষ্য দিতে অনাগ্রহী কারণ কমিটিতে এমন একজন সদস্য আছেন (আমাকে ইঙ্গিত করে) যিনি উল্লিখিত সহিংস ঘটনার নিমিত্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ শিক্ষকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করছে কি না তা খতিয়ে দেখতে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দকে ইতোমধ্যে অনুরোধ করেছেন। উপস্থিত শিক্ষার্থীর এ মনোভাব প্রকাশের পর আপনি কমিটির কয়েকজন সদস্যকে (আমিসহ) পাশের কক্ষে পাঠিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন : ডাকসুতে ২৮ পদে লড়াইয়ে মনোনয়ন নিলেন ৬৫৮ শিক্ষার্থী

আপনার পক্ষ থেকে এই উদ্যোগে কমিটির একজন সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদের নির্বাচিত ডিন হিসেবে আমি যথেষ্ট বিব্রতবোধ করেছি; এবং আপনার বিচারবোধে বিচলিত বোধ করেছি। এই পরিস্থিতিতে সংবেদনশীল এই তদন্ত কমিটিতে আপনার সাথে কাজ করতে আমি নিরাপদ বোধ করছি না। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে ভবিষ্যতেও আপনি শিক্ষকদের সম্মানহানি করবেন বলে আমি আশঙ্কা করি। এ ধরণের অসম্মানজনক পরিস্থিতি এড়াতে আমি স্ট্রাকচারাল কমিটিতে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী নই, বলেন তিনি।

তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়া/পদ্ধতি ও যে ধরণের দ্রুততার সাথে শিক্ষক-সংশ্লিষ্ট বিষয়টির তদন্ত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে তাতে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়া কঠিন বলে আমি মনে করি। কাজের পদ্ধতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনি সন্তুষ্টিবিধানের রাস্তা গ্রহণ করছেন বলে ভাববার যথেষ্ট কারণ আমার রয়েছে। আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করবার পাশাপাশি প্রত্যাশা করি যে আপনি বিবিধ পক্ষকে সন্তুষ্ট করবার রাস্তা ত্যাগ করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবেন।

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় শিক্ষকদের সংশ্লিষ্টতা তদন্তে  স্ট্রাকচারাল কমিটি গঠিত হয়।