১২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যে শর্ত দিলেন পুতিন

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:২১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫
  • 101

ছবি : সংগৃহীত

আলাস্কায় মার্কিন সশস্ত্রবাহিনীর এক ঘাঁটিতে ট্রাম্প–পুতিন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় । ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর এটি ছিল কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পুতিনের প্রথম সাক্ষাৎ।

রাশিয়া ইউক্রেনের কিছু ছোট ছোট দখলকৃত এলাকা ছেড়ে দেবে, বিনিময়ে কিয়েভ দেশের পূর্বাঞ্চলের বিশাল এলাকা মস্কোর হাতে তুলে দেবে। আলাস্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন বলে জানিয়েছে, মস্কোর ভাবনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প–পুতিন বৈঠকের একদিন পরই এ খবর সামনে এল।

পুতিন যখন এই প্রস্তাব দিয়েছেন, তখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি আগামীকাল সোমবার ওয়াশিংটন যাচ্ছেন। সেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ সমাধান নিয়ে আলোচনা করবেন।

আরও পড়ুন : ১১ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে ঢাকার যেসব এলাকায়

যদিও এই সম্মেলনে ট্রাম্প প্রত্যাশিত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে পারেননি, তবে ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি ও পুতিন ইউক্রেনের ভূখণ্ড হস্তান্তর ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁরা ‘ব্যাপকভাবে একমত’ হয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা চুক্তির খুব কাছাকাছি। তবে ইউক্রেনকেও এতে সম্মত হতে হবে। ওরা হয়তো না বলবে।’

তবে এটি স্পষ্ট নয় যে পুতিনের এই প্রস্তাবগুলো কেবল আলোচনার শুরু করার উদ্দেশ্যে নাকি চূড়ান্ত প্রস্তাব, যা নিয়ে আর দর-কষাকষি করা যাবে না। প্রথম দর্শনে অন্তত কিছু শর্ত ইউক্রেনের নেতৃত্বের জন্য মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হবে। পুতিনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না।

এতে জেলেনস্কির মূল দাবি ব্যাহত হচ্ছে, কারণ তাঁর দেশ প্রতিদিন রাশিয়ার ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হচ্ছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, কিয়েভকে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে। বিনিময়ে রাশিয়া দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে যুদ্ধক্ষেত্র স্থির রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দেবে। ইউক্রেন আগেই ঘোষণা করেছে, দোনেৎস্কের মতো ভূমি থেকে কোনো অবস্থাতেই তারা পিছু হটবে না।

ইউক্রেনের মতে, দোনেৎস্ক প্রতিরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রাশিয়া যাতে ইউক্রেনের গভীরে হামলা চালাতে না পারে সেই লক্ষ্যে ঢাল হিসেবে কাজ করছে।

সূত্র আরও জানায়, রাশিয়া সুমি ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে দখল করা তুলনামূলক ছোট ছোট এলাকা ফেরত দিতে রাজি হতে পারে। ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ প্রকল্প ডিপ স্টেটের তথ্য অনুযায়ী, সুমি ও খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়ার দখল প্রায় ৪৪০ বর্গকিলোমিটার।

অপরদিকে দনবাসের (দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল) বেশির ভাগ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। ৫৩ হাজার বর্গকিলোমিটার এই এলাকার প্রায় ৬ হাজার ৬০০ বর্গকিলোমিটার ভূমি নিয়ন্ত্রণ করছে ইউক্রেন।

আরও পড়ুন : রাজধানীতে গণপিটুনিতে ‘কিলার বাবু’ নিহত

আমেরিকার পক্ষ থেকে স্পষ্ট কিছু বলা না হলেও সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট অন্তত ক্রিমিয়ার ওপর রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চান।

২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে নেয়। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের একার স্বীকৃতি নাকি সব পশ্চিমা দেশ ও ইউক্রেনের সম্মিলিত স্বীকৃতি—তা স্পষ্ট নয়। ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা ক্রিমিয়ার ওপর রাশিয়ার কর্তৃত্বকে কোনোভাবেই স্বীকৃতি দেয়নি।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ইউক্রেন ন্যাটো সামরিক জোটে যোগ দিতে পারবে না। তবে ইউক্রেনের জন্য কোনো ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়ে পুতিন কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছেন। তবে এই নিশ্চয়তা আসলে কীভাবে কার্যকর হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এ ছাড়া, প্রস্তাবে ইউক্রেনে রুশ ভাষার সরকারি মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চকে অবাধে কাজ করার অনুমতি দিতে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যে শর্ত দিলেন পুতিন

সর্বশেষ আপডেট : ০২:২১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

আলাস্কায় মার্কিন সশস্ত্রবাহিনীর এক ঘাঁটিতে ট্রাম্প–পুতিন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় । ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর এটি ছিল কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পুতিনের প্রথম সাক্ষাৎ।

রাশিয়া ইউক্রেনের কিছু ছোট ছোট দখলকৃত এলাকা ছেড়ে দেবে, বিনিময়ে কিয়েভ দেশের পূর্বাঞ্চলের বিশাল এলাকা মস্কোর হাতে তুলে দেবে। আলাস্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন বলে জানিয়েছে, মস্কোর ভাবনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প–পুতিন বৈঠকের একদিন পরই এ খবর সামনে এল।

পুতিন যখন এই প্রস্তাব দিয়েছেন, তখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি আগামীকাল সোমবার ওয়াশিংটন যাচ্ছেন। সেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ সমাধান নিয়ে আলোচনা করবেন।

আরও পড়ুন : ১১ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে ঢাকার যেসব এলাকায়

যদিও এই সম্মেলনে ট্রাম্প প্রত্যাশিত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে পারেননি, তবে ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি ও পুতিন ইউক্রেনের ভূখণ্ড হস্তান্তর ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁরা ‘ব্যাপকভাবে একমত’ হয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা চুক্তির খুব কাছাকাছি। তবে ইউক্রেনকেও এতে সম্মত হতে হবে। ওরা হয়তো না বলবে।’

তবে এটি স্পষ্ট নয় যে পুতিনের এই প্রস্তাবগুলো কেবল আলোচনার শুরু করার উদ্দেশ্যে নাকি চূড়ান্ত প্রস্তাব, যা নিয়ে আর দর-কষাকষি করা যাবে না। প্রথম দর্শনে অন্তত কিছু শর্ত ইউক্রেনের নেতৃত্বের জন্য মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হবে। পুতিনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না।

এতে জেলেনস্কির মূল দাবি ব্যাহত হচ্ছে, কারণ তাঁর দেশ প্রতিদিন রাশিয়ার ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হচ্ছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, কিয়েভকে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে। বিনিময়ে রাশিয়া দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে যুদ্ধক্ষেত্র স্থির রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দেবে। ইউক্রেন আগেই ঘোষণা করেছে, দোনেৎস্কের মতো ভূমি থেকে কোনো অবস্থাতেই তারা পিছু হটবে না।

ইউক্রেনের মতে, দোনেৎস্ক প্রতিরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রাশিয়া যাতে ইউক্রেনের গভীরে হামলা চালাতে না পারে সেই লক্ষ্যে ঢাল হিসেবে কাজ করছে।

সূত্র আরও জানায়, রাশিয়া সুমি ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে দখল করা তুলনামূলক ছোট ছোট এলাকা ফেরত দিতে রাজি হতে পারে। ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ প্রকল্প ডিপ স্টেটের তথ্য অনুযায়ী, সুমি ও খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়ার দখল প্রায় ৪৪০ বর্গকিলোমিটার।

অপরদিকে দনবাসের (দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল) বেশির ভাগ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। ৫৩ হাজার বর্গকিলোমিটার এই এলাকার প্রায় ৬ হাজার ৬০০ বর্গকিলোমিটার ভূমি নিয়ন্ত্রণ করছে ইউক্রেন।

আরও পড়ুন : রাজধানীতে গণপিটুনিতে ‘কিলার বাবু’ নিহত

আমেরিকার পক্ষ থেকে স্পষ্ট কিছু বলা না হলেও সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট অন্তত ক্রিমিয়ার ওপর রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চান।

২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে নেয়। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের একার স্বীকৃতি নাকি সব পশ্চিমা দেশ ও ইউক্রেনের সম্মিলিত স্বীকৃতি—তা স্পষ্ট নয়। ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা ক্রিমিয়ার ওপর রাশিয়ার কর্তৃত্বকে কোনোভাবেই স্বীকৃতি দেয়নি।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ইউক্রেন ন্যাটো সামরিক জোটে যোগ দিতে পারবে না। তবে ইউক্রেনের জন্য কোনো ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়ে পুতিন কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছেন। তবে এই নিশ্চয়তা আসলে কীভাবে কার্যকর হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এ ছাড়া, প্রস্তাবে ইউক্রেনে রুশ ভাষার সরকারি মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চকে অবাধে কাজ করার অনুমতি দিতে হবে।