ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী আসমা আক্তার লিজার মৃত্যুকে ‘অবহেলার ফল’ বলে দাবি করেছেন তার সহপাঠীরা। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের আবাসিক এই শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শুক্রবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
লিজা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তার বাড়ি নাটোরে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লিজার হৃদপিণ্ডে টিউমার, ফুসফুসে পানি জমা এবং পরবর্তীতে ব্রেইন ইনফেকশন হয়েছিল।
তবে সহপাঠীদের অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা ও হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে অবহেলার শিকার হন লিজা। একই হলের ছাত্রী উম্মে সুহালা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন—“লিজা আপু মারা যাওয়ার একটা কারণ অবহেলা। এখানকার কর্মচারীরাও আমাদের চেয়ে ভালো জীবনযাপন করেন। হলে ডাক্তার থাকলেও তাকে সময়মতো পাওয়া যায় না। তার কাছে থাকে কেবল নাপা, এন্টাসিড আর প্রেশার মাপার মেশিন। শ্বাস নিতে না পারলেও তিনি শুধু প্রেশার মাপেন।”
আরও পড়ুন : ঢাবির হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ আন্দোলনে ‘ছাত্রলীগ নেতা’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এম্বুলেন্স আসতে দেরি হয়েছে, স্ট্রেচার না থাকায় সহপাঠীরাই লিজাকে হাতে ধরে উঠিয়েছেন। এমনকি এম্বুলেন্স ছাড়তেও বিলম্ব হয়, কারণ দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফ নাকি তখন ওয়াশরুমে ছিলেন।
লিজার দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার কথা উল্লেখ করে সুহালা লেখেন, “হার্টে টিউমার, ফুসফুসে পানি জমা, শেষে ব্রেইন ইনফেকশন—কোনো নিয়মিত চেকআপ হয়নি। অথচ কোটি কোটি টাকার স্বাস্থ্যবীমার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে রমরমা ব্যবসা।”
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে আরও লেখেন,“আপুর স্ট্রোক করার পর ছটফট করা চেহারা আমার বহুদিন মনে থাকবে। আপু, আমাদের মাফ করবেন। আমরা ব্যর্থ, আমাদের প্রতিষ্ঠানও ব্যর্থ।”
লিজার মৃত্যুর ঘটনায় সহপাঠী ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও জরুরি সেবা মিললে হয়তো লিজাকে বাঁচানো সম্ভব হতো।
ঢাকা ডেস্ক 









