কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় দুই তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ এনে স্থানীয় এক ব্যক্তি এই নির্যাতন চালান।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বড় গাছের সঙ্গে দুই তরুণকে শক্তভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে। আশপাশে কয়েকজন তাদের ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে লাঠি ও হাত দিয়ে আঘাত করছে। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা— ‘লাইসেন্সপ্রাপ্ত চোর, সবাই সাবধান থাকুন।’
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বিকেলে, উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের দক্ষিণ নাগাইশ গ্রামের বড় ফিশারি এলাকায়। সন্ধ্যার পর ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
আরও পড়ুন : তরুণকে বেধড়ক পেটালেন ইউএনও, ভিডিও ভাইরাল
মারধরের শিকার তরুণরা হলেন— উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধান্যদৌল এলাকার বাদশা মিয়া (পিতা রৌশন) এবং মেহেদী হাসান (পিতা জাহাঙ্গীর আলম)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার ভোরে প্রবাস ফেরত শিমুলের ঘর থেকে দুটি মোবাইল চুরি হয়। একইদিন বিকেলে ওই দুই তরুণ এলাকায় মোবাইল বিক্রি করতে এলে শিমুল তাদের আটক করেন এবং গাছে বেঁধে মারধর করেন।
শিমুলের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা চুরির কথা স্বীকার করে এবং মোবাইল ফেরত দেয়। পরে পরিবারের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তিনি অভিযোগ করেন, পরদিন সকালে (১৪ আগস্ট) ওই দুই তরুণ তার ওপর হামলা চালায় এবং স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া বলেন, ‘ঘটনাটি এখনো আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আকারে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিন্দার ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছেন, চুরির অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঢাকা ডেস্ক 









