১১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধায় নবজাতকের মৃত্যু

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫
  • 91

শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধায় ঢাকার পথে আটকে থেকে এক নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু অ্যাম্বুলেন্স চালক বাইরের জেলার গাড়িকে রোগী পরিবহনে বাধা দিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন। এই অমানবিক আচরণের বলি হতে হলো জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জীবন হারানো শিশুটিকে।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে শরীয়তপুর পৌর এলাকার নিউ মেট্রো ক্লিনিকের সামনে। ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর গ্রামের নূর হোসেন সরদারের স্ত্রী রুমা বেগম সিজারিয়ানের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পর থেকেই নবজাতক শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকায় চিকিৎসক তাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।

আরও পড়ুন : সড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষ, দুই শিক্ষার্থী নিহত

পরিবার তৎক্ষণাৎ একটি ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে যাত্রা শুরু করলেও ক্লিনিকের সামনেই বাধা দেন স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালক সবুজ দেওয়ান ও আবু তাহের দেওয়ান। অভিযোগ, তারা জোর করে গাড়ির চাবি নিয়ে নেন, চালককে লাঞ্ছিত করেন এবং রোগীর স্বজনদেরও মারধর করেন। প্রায় ৪০ মিনিট অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ অবস্থায় আটকে থাকার পর অ্যাম্বুলেন্সেই শিশুটি মারা যায়।

শিশুর নানী সেফালী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ঢাকায় নিতে পারলে আমার নাতি বেঁচে যেত। ওরা তাকে বাঁচতে দেয়নি।’

আরেক স্বজন রানু আক্তারের ক্ষোভ, ‘অনেক অনুরোধ করেও গাড়ি ছাড়াতে পারিনি। এই সিন্ডিকেটই আমাদের শিশুটিকে কেড়ে নিল।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, শরীয়তপুরে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সক্রিয়, যারা বাইরের গাড়িকে রোগী পরিবহন করতে দেয় না এবং জোর করে রোগীদের নিজেদের গাড়িতে তুলতে বাধ্য করে। এর ফলে বিপদজনক পরিস্থিতিতে অনেক রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।

পালং মডেল থানার ওসি হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনা শুধু একটি নবজাতকের জীবন কেড়ে নেয়নি, বরং স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবায় সিন্ডিকেটের ভয়ঙ্কর প্রভাবকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। মানবিকতার এই ভয়াবহ অবক্ষয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধায় নবজাতকের মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫

শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধায় ঢাকার পথে আটকে থেকে এক নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু অ্যাম্বুলেন্স চালক বাইরের জেলার গাড়িকে রোগী পরিবহনে বাধা দিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন। এই অমানবিক আচরণের বলি হতে হলো জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জীবন হারানো শিশুটিকে।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে শরীয়তপুর পৌর এলাকার নিউ মেট্রো ক্লিনিকের সামনে। ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর গ্রামের নূর হোসেন সরদারের স্ত্রী রুমা বেগম সিজারিয়ানের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পর থেকেই নবজাতক শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকায় চিকিৎসক তাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।

আরও পড়ুন : সড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষ, দুই শিক্ষার্থী নিহত

পরিবার তৎক্ষণাৎ একটি ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে যাত্রা শুরু করলেও ক্লিনিকের সামনেই বাধা দেন স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালক সবুজ দেওয়ান ও আবু তাহের দেওয়ান। অভিযোগ, তারা জোর করে গাড়ির চাবি নিয়ে নেন, চালককে লাঞ্ছিত করেন এবং রোগীর স্বজনদেরও মারধর করেন। প্রায় ৪০ মিনিট অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ অবস্থায় আটকে থাকার পর অ্যাম্বুলেন্সেই শিশুটি মারা যায়।

শিশুর নানী সেফালী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ঢাকায় নিতে পারলে আমার নাতি বেঁচে যেত। ওরা তাকে বাঁচতে দেয়নি।’

আরেক স্বজন রানু আক্তারের ক্ষোভ, ‘অনেক অনুরোধ করেও গাড়ি ছাড়াতে পারিনি। এই সিন্ডিকেটই আমাদের শিশুটিকে কেড়ে নিল।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, শরীয়তপুরে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সক্রিয়, যারা বাইরের গাড়িকে রোগী পরিবহন করতে দেয় না এবং জোর করে রোগীদের নিজেদের গাড়িতে তুলতে বাধ্য করে। এর ফলে বিপদজনক পরিস্থিতিতে অনেক রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।

পালং মডেল থানার ওসি হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনা শুধু একটি নবজাতকের জীবন কেড়ে নেয়নি, বরং স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবায় সিন্ডিকেটের ভয়ঙ্কর প্রভাবকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। মানবিকতার এই ভয়াবহ অবক্ষয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে।