চার দিন ধরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে বঙ্গোপসাগরে ভাসছিল একটি মাছ ধরার ট্রলার। মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় তীরে কোনো বার্তা পাঠাতে পারেননি মাঝি-মাল্লারা। অবশেষে বৃহস্পতিবার ট্রলারটি নেটওয়ার্কের আওতায় এলে ৯৯৯-এ ফোন করে সাহায্য চান জেলেরা। জরুরি বার্তা পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে নোয়াখালীর হাতিয়ার কাছাকাছি থেকে ১৪ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, ‘এফবি জামিলা’ নামের ট্রলারটি ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট থেকে সাগরে মাছ ধরতে যায়। কিন্তু যাত্রার পরদিনই ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। এরপর টানা চার দিন তারা সমুদ্রে ভেসে থাকেন। সাগরের গভীরে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় কোনো যোগাযোগও সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন : পদ্মায় বিরল প্রজাতির কুমিরের দেখা, আতঙ্কে মৎস্যজীবীরা
বৃহস্পতিবার কোনোভাবে নেটওয়ার্ক পেয়ে একজন জেলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে, সেখান থেকে নির্দেশনার ভিত্তিতে হাতিয়া কোস্টগার্ড টহল দল ট্রলারটির সন্ধানে নামে। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর তারা গাংগুরিয়া চরের কাছাকাছি ট্রলারটি শনাক্ত করে এবং সেখান থেকে সব জেলেকে উদ্ধার করে সূর্যমুখী ঘাটে নিয়ে আসে।
উদ্ধার হওয়া জেলেদের একজন, সুমন, বলেন,“চার দিন সাগরে ভেসে ছিলাম। খাবার, পানি কিছুই ছিল না। নেটওয়ার্ক আসতেই ৯৯৯-এ ফোন দিই। কোস্টগার্ড না এলে আমরা কেউ হয়তো বাঁচতাম না।”
উদ্ধার অভিযানের সময় ট্রলারে থাকা এক জেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম উল হক বলেন,“সমুদ্রে বিপদে পড়া জেলেদের উদ্ধার ও উপকূলীয় নিরাপত্তায় কোস্টগার্ড সদা প্রস্তুত। জনগণের জানমাল রক্ষায় আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
ঢাকা ডেস্ক 









