১১:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সোহাগ হত্যাকাণ্ডে আসামি মহিনের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
  • 102

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের পেছনে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মহিন আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে দাবি করেছেন—এই হত্যাকাণ্ড তার পরিকল্পনায় নয়, বরং মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন পলাতক আসামি সারওয়ার হোসেন টিটু।

রবিবার (২০ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমানের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন মহিন। স্বেচ্ছায় দেওয়া এই জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা উঠে আসে।

মহিন জানান, সোহাগের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। বরং ব্যবসা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল সোহাগ ও টিটুর মধ্যে। মহিনের ভাষায়, ‘ঘটনার দিন আমরা মূলত সোহাগকে হুমকি দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে টিটু, আমি, টিটন গাজী, আলমগীর, লম্বা মনির, অ্যাম্বুলেন্সচালক সজীব ব্যাপারীসহ অন্যরা মিলে তাকে মারধর করি।’

আরও পড়ুন : মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার ৫, বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত সরকার আমলে সোহাগ এককভাবে ভাঙারি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে ছিল। আমরা বঞ্চিত ছিলাম। ক্ষমতার পালাবদলের পর আমরা নিয়ন্ত্রণে আসতে চাইলে সোহাগ তা মেনে নেয়নি। বরং সে আওয়ামী লীগের লোকজন দিয়ে আমাদের মারধর করিয়েছে। এসব পুরনো ক্ষোভ থেকেই এই হামলা চালানো হয়।’

জবানবন্দিতে মহিন আরও জানান, ‘ঘটনার দিন যারা পাথর দিয়ে আঘাত করেছে, তারা প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে অতীতে সোহাগের হাতে নিগৃহীত হয়েছে। সেই পুরনো ক্ষোভ থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।’

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সোহাগের সঙ্গে মহিন ও টিটনের বিরোধ দীর্ঘদিনের। ওই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিতে বহুবার তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে পূর্বপরিকল্পিতভাবেই সোহাগকে হত্যা করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, ‘এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৯ জনের মধ্যে পাঁচজন ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। পাশাপাশি পলাতক আসামি টিটুকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি আরও জানান, রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে মহিন স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানান। এরপর আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

সোহাগ হত্যাকাণ্ডে আসামি মহিনের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের পেছনে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মহিন আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে দাবি করেছেন—এই হত্যাকাণ্ড তার পরিকল্পনায় নয়, বরং মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন পলাতক আসামি সারওয়ার হোসেন টিটু।

রবিবার (২০ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমানের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন মহিন। স্বেচ্ছায় দেওয়া এই জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা উঠে আসে।

মহিন জানান, সোহাগের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। বরং ব্যবসা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল সোহাগ ও টিটুর মধ্যে। মহিনের ভাষায়, ‘ঘটনার দিন আমরা মূলত সোহাগকে হুমকি দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে টিটু, আমি, টিটন গাজী, আলমগীর, লম্বা মনির, অ্যাম্বুলেন্সচালক সজীব ব্যাপারীসহ অন্যরা মিলে তাকে মারধর করি।’

আরও পড়ুন : মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার ৫, বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত সরকার আমলে সোহাগ এককভাবে ভাঙারি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে ছিল। আমরা বঞ্চিত ছিলাম। ক্ষমতার পালাবদলের পর আমরা নিয়ন্ত্রণে আসতে চাইলে সোহাগ তা মেনে নেয়নি। বরং সে আওয়ামী লীগের লোকজন দিয়ে আমাদের মারধর করিয়েছে। এসব পুরনো ক্ষোভ থেকেই এই হামলা চালানো হয়।’

জবানবন্দিতে মহিন আরও জানান, ‘ঘটনার দিন যারা পাথর দিয়ে আঘাত করেছে, তারা প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে অতীতে সোহাগের হাতে নিগৃহীত হয়েছে। সেই পুরনো ক্ষোভ থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।’

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সোহাগের সঙ্গে মহিন ও টিটনের বিরোধ দীর্ঘদিনের। ওই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিতে বহুবার তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে পূর্বপরিকল্পিতভাবেই সোহাগকে হত্যা করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, ‘এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৯ জনের মধ্যে পাঁচজন ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। পাশাপাশি পলাতক আসামি টিটুকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি আরও জানান, রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে মহিন স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানান। এরপর আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।