গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে হামলা–সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ নিহত হয়েছেন। এছাড়াও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। বুধবার (১৬ জুলাই) বিকালের সংঘর্ষে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন শহরের উদয়ন রোডের সন্তোষ সাহার ছেলে দীপ্ত সাহা (৩০), কোটালিপাড়ার হরিণাহাটি গ্রামের কামরুল কাজীর ছেলে রমজান কাজী (১৯), শহরের শানাপাড়ার সোহেল রানা (৩৫) এবং সদর উপজেলার ভেড়ার বাজার এলাকার ইমন।
গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস জানান, তাদের মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ওই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত অনেকে চিকিৎসা নিলেও তাদের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি
তিনি জীবিতেষ বিশ্বাস আরও বলেন, আরও ৯ জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের অস্ত্রোপচার চলছে।
নিহতের সত্যতা নিশ্চিত হতে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান ও পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে কল দিলে তারা ধরেননি।
আরও পড়ুন : ‘এই বর্বরতার জন্য যারা দায়ী, তাদের বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে’
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে।
আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের সমর্থকরা লাঠি ও ইটপাটকেল নিয়ে বিভিন্ন রাস্তা ও গলিতে অবস্থান নেয়। এর ফলে র্যাব, সেনাবাহিনী এবং বিজিবি সদস্যরা শহরে তাদের টহল জোরদার করেছে।
এর আগে, গোপালগঞ্জ সদরে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।
আরও পড়ুন : ‘শেখ পালিয়েছিল পাকিস্তানে, শেখের বেটি পালিয়েছে ভারত’
এনসিপির সমাবেশ ঘিরে গোপালগঞ্জ সদরে আজ সকালে প্রথমে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। পরে হামলা করা হয়েছে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িতেও।
এনসিপির সমাবেশ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একদল ব্যক্তি এনসিপি নেতা-কর্মীদের ঘিরে হামলার চেষ্টা করে। তারা চারদিক থেকে এনসিপির নেতা-কর্মী ও পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়।
এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এনসিপির নেতা-কর্মীরা অন্য দিক দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
হামলার ঘটনার পর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন , আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন। এ সময় পুলিশ-সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
তাদের (এনসিপি) বলা হয়েছিল, সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু তাঁরা সমাবেশস্থলে এসে দেখেন, পরিস্থিতি ঠিক নেই।
ঢাকা ডেস্ক 









