বর্ষা—প্রকৃতির এক অনন্য ঋতু হলেও এর সঙ্গে আসে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। অতিরিক্ত বৃষ্টি, জমে থাকা পানি ও পরিবেশের অতিরিক্ত আর্দ্রতা রোগজীবাণুর প্রজননে সহায়ক হয়ে ওঠে। এসময় বিভিন্ন সংক্রামক ও জলবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। তাই এই মৌসুমে সুস্থ থাকতে হলে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
বর্ষাকালে সাধারণ ও গুরুতর রোগসমূহ:
১. ডেঙ্গু:
বর্ষার সবচেয়ে পরিচিত ও আশঙ্কাজনক রোগ হলো ডেঙ্গু। এটি এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়, যা সাধারণত পরিষ্কার জমে থাকা পানিতে জন্মায়। ডেঙ্গুর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, চোখ ও মাথাব্যথা, শরীরে ফুসকুড়ি এবং প্লেটলেট কমে যাওয়া।
২. চিকুনগুনিয়া:
জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তারের মাধ্যমে ছড়ায় এই ভাইরাসজনিত রোগ। এতে উচ্চমাত্রার জ্বর, জয়েন্টে তীব্র ব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দেয়।
৩. ম্যালেরিয়া:
বর্ষায় পানি জমে থাকলে অ্যানোফেলিস মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া ছড়াতে পারে। উপসর্গ হিসেবে জ্বর, ঘাম, শরীর ব্যথা ও মারাত্মক ক্লান্তি দেখা যায়।
৪. টাইফয়েড ও কলেরা:
দূষিত পানি ও খাদ্য গ্রহণের ফলে এই রোগগুলো সংক্রমিত হয়। টাইফয়েডে জ্বর, পেটব্যথা ও দুর্বলতা এবং কলেরায় ডিহাইড্রেশন, পাতলা পায়খানা ও রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
৫. ভাইরাল জ্বর ও ইনফ্লুয়েঞ্জা:
আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনে জ্বর, মাথাব্যথা, কাশি ও শরীরব্যথা সাধারণ হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন : বর্ষায় দই খাওয়া কেন ক্ষতিকর?
৬. পেটের রোগ ও ডায়রিয়া:
অপরিষ্কার খাবার ও পানি গ্রহণ করলে গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস, ডায়রিয়ার মতো সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।
সুস্থ থাকার উপায়:
স্বাস্থ্যসচেতন কিছু অভ্যাস বর্ষাকালে অসুখ থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ডা. সি এম শামীম কবীর পরামর্শ দিয়েছেন কিছু কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের:
- ✔ জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলুন, মশারি ব্যবহার করুন এবং মশা তাড়ানোর ক্রিম লাগান।
✔ সিদ্ধ বা ফিল্টারকরা পানি পান করুন, ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে খান।
✔ বাচ্চাদের টিকা দিন, এবং বাইরে থেকে এলে হাত-পা ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
✔ খোলা খাবার এড়িয়ে চলুন এবং ঘরে তৈরি খাবার ভালোভাবে ঢেকে রাখুন।
✔ পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার খান, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
✔ দুগ্ধজাত পণ্য খাওয়ার সময় সতর্ক থাকুন, কারণ এতে সহজে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে।
✔ ভেষজ চা ও ফুটানো পানি পান করুন, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
✔ নিয়মিত যোগব্যায়াম, ধ্যান এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন, যা শরীর ও মনের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ঢাকা ডেস্ক 















