০১:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ জানালো তদন্ত দল

  • রিপোর্টার
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • 67

ভারতের আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার কারণ অবশেষে প্রকাশ করেছে তদন্তকারীরা। গত ১২ জুন বোয়িং ৭৮৭ মডেলের এই বিমানটি একটি মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে আছড়ে পড়লে ৩০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বিমানটির ২৪২ আরোহীর মধ্যে মাত্র একজন বেঁচে যান।

ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো সম্প্রতি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার মূল কারণ ছিল জ্বালানি সরবরাহের সুইচ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া। ব্ল্যাকবক্সের তথ্য ঘেঁটে জানা গেছে, দুর্ঘটনার ঠিক আগে জ্বালানি সরবরাহের দুটি সুইচই এক সেকেন্ডেরও কম ব্যবধানে চালু (রান) থেকে বন্ধ (কাট অফ) অবস্থায় চলে যায়। এ সময় বিমানটির গতি ছিল ১৮০ নট।

আরও পড়ুন : পাকিস্তানে ৯ বাসযাত্রীকে গুলি করে হত্যা

ব্ল্যাকবক্স থেকে উদ্ধার হওয়া অডিও রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, এক পাইলট অপর পাইলটকে প্রশ্ন করেন, তিনি কেন জ্বালানি সরবরাহের সুইচ বন্ধ করেছেন। জবাবে অপর পাইলট দাবি করেন, তিনি তা করেননি। এরপরই আতঙ্কিত ক্রুরা দ্রুত সুইচগুলো পুনরায় চালু করার চেষ্টা করেন। যদিও তখন ইঞ্জিনে আবার জ্বালানি প্রবাহ শুরু হলেও, সময়মতো ইঞ্জিন সচল করা সম্ভব হয়নি এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে।

বোয়িং ৭৮৭ বিমানের জ্বালানি সরবরাহের সুইচগুলো পাইলটদের আসনের মাঝখানে, থ্রটল লেভারের নিচে থাকে। এগুলো ধাতব দণ্ড এবং লকিং সিস্টেম দিয়ে সুরক্ষিত থাকে যাতে ভুলক্রমে বন্ধ না হয়ে যায়।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উড্ডয়নের সময় কোনো ত্রুটি ছিল না এবং বিমানের জ্বালানির মানও যথেষ্ট ভালো ছিল।

এই দুর্ঘটনা শুধু ভারতে নয়, সারা বিশ্বেই শোকের ছায়া ফেলেছে। তদন্তকারীরা এখনো খতিয়ে দেখছেন কীভাবে সুরক্ষিত সুইচগুলো এমনভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানোর উপায় বের করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র: সিএনএন

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ জানালো তদন্ত দল

সর্বশেষ আপডেট : ১১:০০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

ভারতের আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার কারণ অবশেষে প্রকাশ করেছে তদন্তকারীরা। গত ১২ জুন বোয়িং ৭৮৭ মডেলের এই বিমানটি একটি মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে আছড়ে পড়লে ৩০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বিমানটির ২৪২ আরোহীর মধ্যে মাত্র একজন বেঁচে যান।

ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো সম্প্রতি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার মূল কারণ ছিল জ্বালানি সরবরাহের সুইচ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া। ব্ল্যাকবক্সের তথ্য ঘেঁটে জানা গেছে, দুর্ঘটনার ঠিক আগে জ্বালানি সরবরাহের দুটি সুইচই এক সেকেন্ডেরও কম ব্যবধানে চালু (রান) থেকে বন্ধ (কাট অফ) অবস্থায় চলে যায়। এ সময় বিমানটির গতি ছিল ১৮০ নট।

আরও পড়ুন : পাকিস্তানে ৯ বাসযাত্রীকে গুলি করে হত্যা

ব্ল্যাকবক্স থেকে উদ্ধার হওয়া অডিও রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, এক পাইলট অপর পাইলটকে প্রশ্ন করেন, তিনি কেন জ্বালানি সরবরাহের সুইচ বন্ধ করেছেন। জবাবে অপর পাইলট দাবি করেন, তিনি তা করেননি। এরপরই আতঙ্কিত ক্রুরা দ্রুত সুইচগুলো পুনরায় চালু করার চেষ্টা করেন। যদিও তখন ইঞ্জিনে আবার জ্বালানি প্রবাহ শুরু হলেও, সময়মতো ইঞ্জিন সচল করা সম্ভব হয়নি এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে।

বোয়িং ৭৮৭ বিমানের জ্বালানি সরবরাহের সুইচগুলো পাইলটদের আসনের মাঝখানে, থ্রটল লেভারের নিচে থাকে। এগুলো ধাতব দণ্ড এবং লকিং সিস্টেম দিয়ে সুরক্ষিত থাকে যাতে ভুলক্রমে বন্ধ না হয়ে যায়।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উড্ডয়নের সময় কোনো ত্রুটি ছিল না এবং বিমানের জ্বালানির মানও যথেষ্ট ভালো ছিল।

এই দুর্ঘটনা শুধু ভারতে নয়, সারা বিশ্বেই শোকের ছায়া ফেলেছে। তদন্তকারীরা এখনো খতিয়ে দেখছেন কীভাবে সুরক্ষিত সুইচগুলো এমনভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানোর উপায় বের করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র: সিএনএন