০২:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখলে থাকবেন মা-বাবা: আইনমন্ত্রী

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • 123

‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’ সংশোধনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মধ্যে সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও জীবদ্দশায় তা ভোগদখলের অধিকার মা-বাবার হাতে রাখার বিধান যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দেশে সিভিল মামলার অধিকাংশই আসে সম্পত্তির বণ্টন বা হিসাব-নিকাশ নিয়ে। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। প্রস্তাবিত এই আইনি পরিবর্তনের ফলে আদালতে দেওয়ানি বা সিভিল মামলার সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে।

আইনি ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, যেমন আমাদের মুসলিম আইনে হেবা হয়, হিন্দু আইনে উইল হচ্ছে, আবার আমাদের মুসলিম আইনে ওয়াসিয়তনামা হচ্ছে। বাবা-মা যদি সন্তানকে বা সন্তানদের হেবা করে দেন, সাথে সাথে তাদের হাত থেকে সম্পত্তিটা চলে যাচ্ছে। বাবা-মা শূন্য হয়ে যাচ্ছেন। যদি ছেলেমেয়ে তাদের না দেখেন, তাহলে বাবা-মায়ের কিছু করার থাকে না, অসহায় হয়ে পড়ছেন।

বিকল্প আইনের বিষয় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, হেবার পাশাপাশি ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’-এ (সম্পত্তি হস্তান্তর আইন) একটা ধারা আছে, সেটা হলো গিফটের ধারা। স্বাভাবিকভাবে হেবার বাইরেও যে কেউ গিফট করতে পারেন। গিফটের জায়গায় ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে ইউসুফ্রাক্ট রাইট (অন্যের সম্পত্তি নষ্ট বা অপচয় না করে ভোগদখলের অধিঅকার বা জীবনস্বত্ব) বিধান যুক্ত করার চিন্তাভাবনা করছি।

এই জীবনস্বত্ব নিয়ে তিনি আরও বলেন, ধরেন আপনি হেবা করতে চাচ্ছেন বা উইল করতে চাচ্ছেন না। আপনি এমন ব্যবস্থা করে যেতে চাচ্ছেন যে আপনি জীবদ্দশায় ভোগদখল করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বাবা-মাকে যদি গিফটের জন্য ইউসুফ্রাক্ট রাইট দেওয়া হয়, তাহলে যত দিন তারা বেঁচে থাকবেন, তত দিন ভোগদখল করবেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় ভোগদখল করতে পারবেন কিন্তু বিক্রি করতে পারবেন না। বিক্রি করতে গেলে সন্তান বা সন্তানদের অনুমতি লাগবে। আবার সন্তানও জমি বিক্রি করতে পারবে না, সে ক্ষেত্রে বাবা-মার অনুমতি লাগবে।

তবে বিশেষ প্রয়োজনে ছাড়ের বিধান থাকছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে বাবার চিকিৎসার দরকার এবং এই সম্পত্তি বিক্রি ছাড়া চিকিৎসা সম্ভব নয়, কিন্তু সন্তান বিক্রিতে সম্মতি দিচ্ছে না, সে ক্ষেত্রে জেলা জজকে একটা ক্ষমতা দেওয়া থাকবে। জেলা জজের কাছে আবেদন করলে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবেন।

তিনি আশা করেন, এই সংশোধনের ফলে ভবিষ্যতে সিভিল মামলা ফাইলিং কমে আসবে এবং অনেক পারিবারিক সমস্যার সমাধান হবে। আমরা কাজ করতে চাই, আমরা পরিবর্তন করতে চাই জনগণের কল্যাণে। জনগণের কল্যাণে পরিবর্তন করতে আমাদের যেখানে যেভাবে সম্ভব আমরা করব।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখলে থাকবেন মা-বাবা: আইনমন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’ সংশোধনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মধ্যে সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও জীবদ্দশায় তা ভোগদখলের অধিকার মা-বাবার হাতে রাখার বিধান যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দেশে সিভিল মামলার অধিকাংশই আসে সম্পত্তির বণ্টন বা হিসাব-নিকাশ নিয়ে। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। প্রস্তাবিত এই আইনি পরিবর্তনের ফলে আদালতে দেওয়ানি বা সিভিল মামলার সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে।

আইনি ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, যেমন আমাদের মুসলিম আইনে হেবা হয়, হিন্দু আইনে উইল হচ্ছে, আবার আমাদের মুসলিম আইনে ওয়াসিয়তনামা হচ্ছে। বাবা-মা যদি সন্তানকে বা সন্তানদের হেবা করে দেন, সাথে সাথে তাদের হাত থেকে সম্পত্তিটা চলে যাচ্ছে। বাবা-মা শূন্য হয়ে যাচ্ছেন। যদি ছেলেমেয়ে তাদের না দেখেন, তাহলে বাবা-মায়ের কিছু করার থাকে না, অসহায় হয়ে পড়ছেন।

বিকল্প আইনের বিষয় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, হেবার পাশাপাশি ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’-এ (সম্পত্তি হস্তান্তর আইন) একটা ধারা আছে, সেটা হলো গিফটের ধারা। স্বাভাবিকভাবে হেবার বাইরেও যে কেউ গিফট করতে পারেন। গিফটের জায়গায় ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে ইউসুফ্রাক্ট রাইট (অন্যের সম্পত্তি নষ্ট বা অপচয় না করে ভোগদখলের অধিঅকার বা জীবনস্বত্ব) বিধান যুক্ত করার চিন্তাভাবনা করছি।

এই জীবনস্বত্ব নিয়ে তিনি আরও বলেন, ধরেন আপনি হেবা করতে চাচ্ছেন বা উইল করতে চাচ্ছেন না। আপনি এমন ব্যবস্থা করে যেতে চাচ্ছেন যে আপনি জীবদ্দশায় ভোগদখল করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বাবা-মাকে যদি গিফটের জন্য ইউসুফ্রাক্ট রাইট দেওয়া হয়, তাহলে যত দিন তারা বেঁচে থাকবেন, তত দিন ভোগদখল করবেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় ভোগদখল করতে পারবেন কিন্তু বিক্রি করতে পারবেন না। বিক্রি করতে গেলে সন্তান বা সন্তানদের অনুমতি লাগবে। আবার সন্তানও জমি বিক্রি করতে পারবে না, সে ক্ষেত্রে বাবা-মার অনুমতি লাগবে।

তবে বিশেষ প্রয়োজনে ছাড়ের বিধান থাকছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে বাবার চিকিৎসার দরকার এবং এই সম্পত্তি বিক্রি ছাড়া চিকিৎসা সম্ভব নয়, কিন্তু সন্তান বিক্রিতে সম্মতি দিচ্ছে না, সে ক্ষেত্রে জেলা জজকে একটা ক্ষমতা দেওয়া থাকবে। জেলা জজের কাছে আবেদন করলে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবেন।

তিনি আশা করেন, এই সংশোধনের ফলে ভবিষ্যতে সিভিল মামলা ফাইলিং কমে আসবে এবং অনেক পারিবারিক সমস্যার সমাধান হবে। আমরা কাজ করতে চাই, আমরা পরিবর্তন করতে চাই জনগণের কল্যাণে। জনগণের কল্যাণে পরিবর্তন করতে আমাদের যেখানে যেভাবে সম্ভব আমরা করব।