১০:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

মৃত্যুর আগের দিন : রুমে ঢুকেই সালমান-শাবনূরকে একসঙ্গে দেখেন সামিরা

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • 226

ঢালিউডের অমর নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পরও তার অকাল প্রয়াণের রহস্য ঘিরে রয়েছে অসংখ্য প্রশ্ন। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে নতুন করে হত্যা মামলা দায়েরের পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে এই তারকার জীবনের শেষ দিনগুলো।

১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার—এটাই ছিল সালমান শাহর জীবনের শেষ পূর্ণ দিন। সেদিন তিনি ব্যস্ত ছিলেন তার নতুন ছবি ‘প্রেম পিয়াসী’-র ডাবিং নিয়ে। কাজ চলছিল ঢাকায় এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে, সঙ্গে ছিলেন সহ-অভিনেত্রী শাবনূর।

সেটজুড়ে ছিল হাসিঠাট্টা আর প্রাণবন্ত পরিবেশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে সালমান শাহ তার বাবাকে ফোন করে অনুরোধ করেন, স্ত্রী সামিরা হককে যেন এফডিসিতে নিয়ে আসা হয়। কিছুক্ষণ পরই শ্বশুর তাকে নিয়ে সেখানে পৌঁছান।

রুমে ঢুকেই সামিরা দেখতে পান, সালমান ও শাবনূর ডাবিং রুমে একসঙ্গে হাসিঠাট্টা করছেন। সেই দৃশ্য দেখে সামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন, কারণ সে সময় মিডিয়াজুড়ে তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে ছিল।

আরও পড়ুন : বিয়ারিং প্যাড পড়ে নিহত আবুল কালামের দাফন সম্পন্ন

ক্ষুব্ধ সামিরা কিছুক্ষণ পর দ্রুত বেরিয়ে যান স্টুডিও থেকে। সালমানের বাবা তখনও উপস্থিত ছিলেন। পরে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে—সামিরা গাড়িতে ওঠেন, পেছনে সালমান ও পরিচালক বাদল খন্দকারও একই গাড়িতে বসেন।

পুরো পথজুড়ে কেউ কারও সঙ্গে কথা বলেননি। বাদল খন্দকারের চেষ্টাতেও কথাবার্তা হয়নি দুজনের মধ্যে। গাড়ি এফডিসির মূল গেটে পৌঁছালে সালমান নেমে কিছুক্ষণ আড্ডা দেন পরিচালকের সঙ্গে, তারপর ফেরেন স্টুডিওতে—কিন্তু সেদিন আর কোনো কাজ হয়নি।

রাত ১১টার দিকে বাদল খন্দকার সালমানকে নিউ ইস্কাটন রোডের ফ্ল্যাটে পৌঁছে দেন। এরপরই যেন সবকিছু থেমে যায়। পরদিন সকালে পুরো দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সালমান শাহর মৃত্যুর খবর—যা আজও কোটি ভক্তের কাছে এক অমীমাংসিত রহস্য।

পরিচালক শাহ আলম ও ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে সালমান ছিলেন গভীর মানসিক চাপে—পারিবারিক টানাপোড়েন, পেশাগত দ্বন্দ্ব, প্রযোজকদের সঙ্গে মতবিরোধ ও শিল্পী সমিতির নিষেধাজ্ঞা তাকে প্রচণ্ডভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।

মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে সালমান শাহ ঢালিউডে গড়ে তুলেছিলেন অমর এক ইতিহাস।

তার মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরও দর্শকের মনে একটিই প্রশ্ন—এটি কি আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যা?

এবার আদালতের নির্দেশে সেই রহস্যের তদন্ত নতুনভাবে শুরু হয়েছে।

 

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

মৃত্যুর আগের দিন : রুমে ঢুকেই সালমান-শাবনূরকে একসঙ্গে দেখেন সামিরা

সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

ঢালিউডের অমর নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পরও তার অকাল প্রয়াণের রহস্য ঘিরে রয়েছে অসংখ্য প্রশ্ন। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে নতুন করে হত্যা মামলা দায়েরের পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে এই তারকার জীবনের শেষ দিনগুলো।

১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার—এটাই ছিল সালমান শাহর জীবনের শেষ পূর্ণ দিন। সেদিন তিনি ব্যস্ত ছিলেন তার নতুন ছবি ‘প্রেম পিয়াসী’-র ডাবিং নিয়ে। কাজ চলছিল ঢাকায় এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে, সঙ্গে ছিলেন সহ-অভিনেত্রী শাবনূর।

সেটজুড়ে ছিল হাসিঠাট্টা আর প্রাণবন্ত পরিবেশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে সালমান শাহ তার বাবাকে ফোন করে অনুরোধ করেন, স্ত্রী সামিরা হককে যেন এফডিসিতে নিয়ে আসা হয়। কিছুক্ষণ পরই শ্বশুর তাকে নিয়ে সেখানে পৌঁছান।

রুমে ঢুকেই সামিরা দেখতে পান, সালমান ও শাবনূর ডাবিং রুমে একসঙ্গে হাসিঠাট্টা করছেন। সেই দৃশ্য দেখে সামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন, কারণ সে সময় মিডিয়াজুড়ে তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে ছিল।

আরও পড়ুন : বিয়ারিং প্যাড পড়ে নিহত আবুল কালামের দাফন সম্পন্ন

ক্ষুব্ধ সামিরা কিছুক্ষণ পর দ্রুত বেরিয়ে যান স্টুডিও থেকে। সালমানের বাবা তখনও উপস্থিত ছিলেন। পরে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে—সামিরা গাড়িতে ওঠেন, পেছনে সালমান ও পরিচালক বাদল খন্দকারও একই গাড়িতে বসেন।

পুরো পথজুড়ে কেউ কারও সঙ্গে কথা বলেননি। বাদল খন্দকারের চেষ্টাতেও কথাবার্তা হয়নি দুজনের মধ্যে। গাড়ি এফডিসির মূল গেটে পৌঁছালে সালমান নেমে কিছুক্ষণ আড্ডা দেন পরিচালকের সঙ্গে, তারপর ফেরেন স্টুডিওতে—কিন্তু সেদিন আর কোনো কাজ হয়নি।

রাত ১১টার দিকে বাদল খন্দকার সালমানকে নিউ ইস্কাটন রোডের ফ্ল্যাটে পৌঁছে দেন। এরপরই যেন সবকিছু থেমে যায়। পরদিন সকালে পুরো দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সালমান শাহর মৃত্যুর খবর—যা আজও কোটি ভক্তের কাছে এক অমীমাংসিত রহস্য।

পরিচালক শাহ আলম ও ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে সালমান ছিলেন গভীর মানসিক চাপে—পারিবারিক টানাপোড়েন, পেশাগত দ্বন্দ্ব, প্রযোজকদের সঙ্গে মতবিরোধ ও শিল্পী সমিতির নিষেধাজ্ঞা তাকে প্রচণ্ডভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।

মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে সালমান শাহ ঢালিউডে গড়ে তুলেছিলেন অমর এক ইতিহাস।

তার মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরও দর্শকের মনে একটিই প্রশ্ন—এটি কি আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যা?

এবার আদালতের নির্দেশে সেই রহস্যের তদন্ত নতুনভাবে শুরু হয়েছে।