বরগুনায় ত্রিভুজ প্রেমের ঘটনায় প্রেমিকা মিন্নির পরিকল্পনায় রিফাত হত্যার সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসেন হত্যার মিল রয়েছে।
২০১৯ সালের ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজ রোডের ক্যালিক্স একাডেমির সামনে স্ত্রী মিন্নির সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে জখম করে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীর সহযোগীরা। গুরুতর অবস্থায় রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাত মারা যান।
এরপর রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ডকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। স্বাভাবিক কারণেই এ মামলার প্রধান সাক্ষী হন নিহত রিফাতের স্ত্রী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। কিন্তু পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য। রিফাত হত্যা মামলায় মিন্নি হয়ে যান প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসেন হত্যাও একই ধরনের বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, হত্যার পুরো পরিকল্পনা বর্ষার। বরগুনার মিন্নির ঘটনার সঙ্গে অনেকাংশ মিল রয়েছে। মেয়েটা দুজনের কারো কাছ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলো না। ফলে সে নিজেই হত্যার পরিকল্পনা সাজায়।
গত রোববার (১৯ অক্টোবর) টিউশনির ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষার পরিকল্পনায় খুন হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুবায়েদ হোসেন। ২৬ সেপ্টেম্বর মাহির জুবায়েদের সঙ্গে সম্পর্ক জেনে যাওয়ার পর থেকে শুরু হয় হত্যার পরিকল্পনা। খুন করেন বর্ষার সাবেক প্রেমিক মাহির রহমান ও তার বন্ধু ফারদিন আহমেদ ও আইলান।
তিনি আরও জানান, মাহিরের সঙ্গে প্রেম করলেও জুবায়েদের সঙ্গে পরিচয়ের পর জোবায়েদের প্রেমে পড়ে বর্ষা। পরে মাহিরের সঙ্গে ব্রেকআপ করে। কিন্তু মাহিরকে কিছুতেই ভুলতে পারছিলেন না বর্ষা। তাই মাহিরকে ফিরে পেতে জুবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করে বর্ষা।
ঢাকা ডেস্ক 









