০১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

‘কিছু দল জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে’—জুলাই সনদের দিনে নাহিদের ক্ষোভ

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১২:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
  • 108

যেদিন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনার প্রস্তুতি—সেই দিনই রাজধানীর বাংলামোটরে উচ্চারিত হলো ভিন্ন সুর। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, “কিছু রাজনৈতিক দল জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে সনদে সই করছে।”

শুক্রবার সকালে ইস্কাটন নেভি কলোনিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নবগঠিত অঙ্গসংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’-র আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ তোলেন। এ সংগঠনের আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির, সদস্য সচিব রিয়াজ মোরশেদ এবং মুখ্য সংগঠক আরমান হোসেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আজ কিছু দল যখন জাতীয় ঐকমত্যের নামে প্রতারণার পথে হাঁটছে, আমরা তখন রাজপথে দাঁড়িয়ে নিজেদের অবস্থান জানাচ্ছি। আমরা জানি, রাজপথের শক্তিই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়।”

আরও পড়ুন : অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেই রাজস্বে রেকর্ড

তিনি মনে করেন, “রাজনৈতিক দলের ঐক্য মানেই জাতীয় ঐক্য নয়। প্রকৃত জাতীয় ঐক্য তখনই হয়, যখন ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও পেশাজীবী মানুষ দেশপ্রেমের ভিত্তিতে এক কাতারে লড়াই করে। সেই চেতনা আমরা দেখেছিলাম জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে।”

গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনার শাসনামলে শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ছিল বলেও দাবি করেন নাহিদ। তিনি বলেন, “ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলনে নামতেই গুলি খেতে হয়েছে শ্রমিকদের, অথচ আজও সেই শোষক শ্রেণি বিচারহীনভাবে বেঁচে আছে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কমিশনগুলো নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তাঁর বক্তব্য, “স্বাস্থ্য বা শ্রম সংস্কার নিয়ে কোনো আলোচনা নেই, অথচ নির্বাচনকেন্দ্রিক কমিশন নিয়েই সব ব্যস্ততা। এই পথে গণতন্ত্রের কোনো বাস্তব অগ্রগতি আমি দেখি না।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “আমরা কেবল রাজনৈতিক রূপান্তর নয়, অর্থনৈতিক রূপান্তরেরও আন্দোলনে আছি। ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক—সবাইকে একত্রিত করেই ন্যায্যতার রাষ্ট্র গড়া সম্ভব।”

অন্যদিকে, শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, “হাজারো শ্রমিকের মৃত্যু হলেও বিচার হয়নি। বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য।”

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

‘কিছু দল জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে’—জুলাই সনদের দিনে নাহিদের ক্ষোভ

সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১২:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

যেদিন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনার প্রস্তুতি—সেই দিনই রাজধানীর বাংলামোটরে উচ্চারিত হলো ভিন্ন সুর। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, “কিছু রাজনৈতিক দল জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে সনদে সই করছে।”

শুক্রবার সকালে ইস্কাটন নেভি কলোনিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নবগঠিত অঙ্গসংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’-র আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ তোলেন। এ সংগঠনের আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির, সদস্য সচিব রিয়াজ মোরশেদ এবং মুখ্য সংগঠক আরমান হোসেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আজ কিছু দল যখন জাতীয় ঐকমত্যের নামে প্রতারণার পথে হাঁটছে, আমরা তখন রাজপথে দাঁড়িয়ে নিজেদের অবস্থান জানাচ্ছি। আমরা জানি, রাজপথের শক্তিই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়।”

আরও পড়ুন : অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেই রাজস্বে রেকর্ড

তিনি মনে করেন, “রাজনৈতিক দলের ঐক্য মানেই জাতীয় ঐক্য নয়। প্রকৃত জাতীয় ঐক্য তখনই হয়, যখন ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও পেশাজীবী মানুষ দেশপ্রেমের ভিত্তিতে এক কাতারে লড়াই করে। সেই চেতনা আমরা দেখেছিলাম জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে।”

গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনার শাসনামলে শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ছিল বলেও দাবি করেন নাহিদ। তিনি বলেন, “ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলনে নামতেই গুলি খেতে হয়েছে শ্রমিকদের, অথচ আজও সেই শোষক শ্রেণি বিচারহীনভাবে বেঁচে আছে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কমিশনগুলো নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তাঁর বক্তব্য, “স্বাস্থ্য বা শ্রম সংস্কার নিয়ে কোনো আলোচনা নেই, অথচ নির্বাচনকেন্দ্রিক কমিশন নিয়েই সব ব্যস্ততা। এই পথে গণতন্ত্রের কোনো বাস্তব অগ্রগতি আমি দেখি না।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “আমরা কেবল রাজনৈতিক রূপান্তর নয়, অর্থনৈতিক রূপান্তরেরও আন্দোলনে আছি। ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক—সবাইকে একত্রিত করেই ন্যায্যতার রাষ্ট্র গড়া সম্ভব।”

অন্যদিকে, শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, “হাজারো শ্রমিকের মৃত্যু হলেও বিচার হয়নি। বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য।”