১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

রোববার থেকে দেশের প্রথম জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • 66

দেশের শিশুদের টাইফয়েড থেকে সুরক্ষা দিতে আগামীকাল (১২ অক্টোবর) দেশের প্রথম জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। এক মাসব্যাপী চলমান এই কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে বিনামূল্যে ইনজেকটেবল টাইফয়েড টিকা প্রদান করা হবে।

শুক্রবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা, আজিমপুরে উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, জন্মসনদবিহীন শিশুরাও এই কর্মসূচির আওতায় থাকবে, যাতে কেউ বাদ না পড়ে। এটি দেশের ইতিহাসে প্রথম জাতীয় টাইফয়েড টিকা কর্মসূচি। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট তৈরি করা এই টিকা আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভির সহযোগিতায় সরকার সংগ্রহ করেছে।

আরও পড়ুন : পশ্চিমবঙ্গে আবারও মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে) জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত এই টিকাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। ইতিমধ্যে নেপাল, পাকিস্তানসহ আটটি দেশে এটি সফলভাবে ব্যবহার হয়েছে, এবং কোনো বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুল ও মাদ্রাসায় টিকা পাবেন। এরপর ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী বাকি শিশুরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা গ্রহণ করবে। শহরের পথশিশুদের টিকাদানের দায়িত্বে থাকবে বিভিন্ন এনজিও।

সরকারের লক্ষ্য- মোট ৪ কোটি ৯০ লাখ শিশুকে টিকা প্রদান। ইতিমধ্যে ১ কোটি ৬৮ লাখ শিশু নিবন্ধিত হয়েছে, এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখনো চলমান। জন্মসনদ না থাকলেও নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীর সহায়তায় শিশুরা নিবন্ধন করতে পারবে। অভিভাবকরা [https://vaxepi.gov.bd/registration/tcv](https://vaxepi.gov.bd/registration/tcv) ওয়েবসাইটে গিয়ে ১৭ সংখ্যার জন্মনিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন এবং নিবন্ধনের পর ভ্যাকসিন কার্ড ডাউনলোড করা যাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

রোববার থেকে দেশের প্রথম জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু

সর্বশেষ আপডেট : ১০:১০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

দেশের শিশুদের টাইফয়েড থেকে সুরক্ষা দিতে আগামীকাল (১২ অক্টোবর) দেশের প্রথম জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। এক মাসব্যাপী চলমান এই কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে বিনামূল্যে ইনজেকটেবল টাইফয়েড টিকা প্রদান করা হবে।

শুক্রবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা, আজিমপুরে উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, জন্মসনদবিহীন শিশুরাও এই কর্মসূচির আওতায় থাকবে, যাতে কেউ বাদ না পড়ে। এটি দেশের ইতিহাসে প্রথম জাতীয় টাইফয়েড টিকা কর্মসূচি। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট তৈরি করা এই টিকা আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভির সহযোগিতায় সরকার সংগ্রহ করেছে।

আরও পড়ুন : পশ্চিমবঙ্গে আবারও মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে) জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত এই টিকাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। ইতিমধ্যে নেপাল, পাকিস্তানসহ আটটি দেশে এটি সফলভাবে ব্যবহার হয়েছে, এবং কোনো বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুল ও মাদ্রাসায় টিকা পাবেন। এরপর ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী বাকি শিশুরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা গ্রহণ করবে। শহরের পথশিশুদের টিকাদানের দায়িত্বে থাকবে বিভিন্ন এনজিও।

সরকারের লক্ষ্য- মোট ৪ কোটি ৯০ লাখ শিশুকে টিকা প্রদান। ইতিমধ্যে ১ কোটি ৬৮ লাখ শিশু নিবন্ধিত হয়েছে, এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখনো চলমান। জন্মসনদ না থাকলেও নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীর সহায়তায় শিশুরা নিবন্ধন করতে পারবে। অভিভাবকরা [https://vaxepi.gov.bd/registration/tcv](https://vaxepi.gov.bd/registration/tcv) ওয়েবসাইটে গিয়ে ১৭ সংখ্যার জন্মনিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন এবং নিবন্ধনের পর ভ্যাকসিন কার্ড ডাউনলোড করা যাবে।