গাজায় বহু প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) দুপুর থেকে যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী তাদের সেনাদের ধীরে ধীরে গাজার ভেতরের বিভিন্ন স্থান থেকে সরিয়ে নির্ধারিত সীমান্তে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গাজার দক্ষিণাঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনিদের উত্তরমুখী যাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকালে হামাস ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উভয়পক্ষ বন্দি ও জিম্মিদের মুক্তি দেবে। বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর নাগাদ হামাস অন্তত ২০ জন জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দেবে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আবিচাই আদ্রায়ি জানান, দক্ষিণ গাজা থেকে উত্তরের দিকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হলেও কিছু অঞ্চল ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত থাকায় সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক হুমকির প্রতি সজাগ রয়েছি।”
আরও পড়ুন : রাজধানীতে বৃষ্টি নিয়ে যা জানাল আবহাওয়া অফিস
এএফপির খবরে জানা গেছে, ইসরায়েলি সেনারা গাজা সিটি ও খান ইউনিস থেকে সরে যাচ্ছে। ফলে দক্ষিণে আশ্রয় নেওয়া হাজারো ফিলিস্তিনি এখন উত্তরাঞ্চলের পথে। গাজার উপকূলীয় সড়কে বিপুলসংখ্যক মানুষকে ব্যাগ ও শিশু কোলে নিয়ে হাঁটতে দেখা গেছে।
খান ইউনিসের বাসিন্দা আমির আবু (৩২) বলেন, “আমাদের ঘরবাড়ি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবুও আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ যে অবশেষে আমরা ফিরে যেতে পারছি। হয়তো আবার জীবন শুরু করা সম্ভব হবে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি টেকসই হলে এটি গাজার পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার পথ খুলে দিতে পারে। তবে এখনও আশঙ্কা রয়ে গেছে— সামান্য উত্তেজনাই পরিস্থিতিকে আবারও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
ঢাকা ডেস্ক 









