ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনজামিন নেতানিয়াহু একসঙ্গে ঘোষণা করলেন গাজা যুদ্ধ থামানোর নতুন এক শান্তি পরিকল্পনা। একদিকে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে জিম্মি বিনিময় ও মানবিক সহায়তার নিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে এই প্রস্তাবকে ট্রাম্প আখ্যা দিলেন ‘শান্তির জন্য ঐতিহাসিক দিন’। তবে একই সঙ্গে কড়া হুঁশিয়ারিও দিলেন, হামাস যদি অস্বীকার করে, তবে ইসরায়েলকে ‘কাজ শেষ করার’ পূর্ণ সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামাসকে ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মি ও নিহত জিম্মিদের দেহাবশেষ মুক্তি দিতে হবে। এর বিনিময়ে শত শত ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল। যুদ্ধ থেমে গেলেও ফ্রন্টলাইনের অবস্থা অপরিবর্তিত থাকবে, পরে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার করা হবে।
আরও পড়ুন : ফের বাড়ল সোনার দাম
পরিকল্পনা স্পষ্ট করেছে—হামাস কোনোভাবেই গাজার শাসনে জড়িত থাকবে না। পরিবর্তে একটি ‘প্রযুক্তিনির্ভর, অরাজনৈতিক ফিলিস্তিনি কমিটি’ গাজা চালাবে। এর তত্ত্বাবধানে থাকবে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’ যার নেতৃত্বে থাকবেন ট্রাম্প নিজেই। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ইতিমধ্যেই এই বোর্ডের সদস্য হিসেবে ঘোষণা পেয়েছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার হামাসকে অস্ত্র নামাতে ও প্রস্তাব মেনে নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা একে ‘শান্তির সুযোগ’ বলে উল্লেখ করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, ফ্রান্স আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে প্রস্তুত এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পথে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগকে ‘সৎ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ প্রচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে হামাস জানিয়েছে, তারা প্রস্তাব খতিয়ে দেখবে, কিন্তু কোনো সমাধান তখনই গ্রহণযোগ্য যখন ইসরায়েলি সেনারা পুরোপুরি প্রত্যাহার করবে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের নিশ্চয়তা থাকবে। হামাসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘দখল চলা পর্যন্ত প্রতিরোধের অস্ত্র লাল রেখা।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় প্রায় ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত হয় এবং ২৫১ জন জিম্মি হয়। তারপর থেকে গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে নিহত হয়েছে অন্তত ৬৬ হাজার ৫৫ জন। জাতিসংঘ বলছে, গাজায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে এবং এক তদন্ত কমিশন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে—যা ইসরায়েল অস্বীকার করছে।
শান্তি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হলে মানবিক সহায়তা তাৎক্ষণিকভাবে গাজায় পৌঁছাবে এবং পুনর্গঠন প্রকল্প চালু হবে। কিন্তু সব কিছুর শেষ নির্ভর করছে হামাসের সিদ্ধান্তের ওপর।
ঢাকা ডেস্ক 









