১০:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

দেশের পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ বৌদির ভাসমান হোটেল

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 146

বৌদির ভাসমান হোটেল। ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণাঞ্চলের ঝালকাঠির ভিমরুলি খালের এক প্রান্তে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের এক অনন্য পর্যটন আকর্ষণ ভাসমান পেয়ারা বাজার। বছরের প্রায় বারো মাসই পর্যটকদের ভিড় জমে এখানে। শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ভাসমান হাটকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই ছোট্ট রেস্টুরেন্ট – ‘বৌদির ভাসমান হোটেল’; যেখানে পাওয়া যায় ঘরোয়া পরিবেশে সুস্বাদু খাবার সাশ্রয়ী মূল্যে।

প্রায় পনেরো বছর আগে, সাথী রায় শুরু করেছিলেন এই ভাসমান হোটেলের যাত্রা। প্রথমে ব্যবসায়ীদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করতে শুরু করা এই উদ্যোগ, ধীরে ধীরে পরিচিতি পায় ‘বৌদির ভাসমান হোটেল’ নামে। সাথী রায় নিজেই রান্না করেন, আর তার স্বামী জয়দেব তা পরিবেশন করেন। তাদের হাতে তৈরি খাবারের গুণমান ভালো হওয়ায় এই হোটেল খুব দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

হোটেলের বিশেষ আকর্ষণ হলো সুগন্ধা ও বিষখালি নদীর তাজা ইলিশ মাছের নানা পদ, দেশি হাঁস ও মুরগির মাংস এবং বিভিন্ন রকমের ভর্তা। এছাড়া, সকালের নাশতায় পাওয়া যায় গরম গরম পুরি, সিঙ্গারা, সমুচা, মিষ্টি পরোটা আর সবজি ভাজি। সাথী রায় বলেন, ‘নিজের হাতে রান্না করে পর্যটকদের খাওয়াতে পেরে তিনি খুবই আনন্দিত।’

আরও পড়ুন : ছবির মতো সুন্দর সিলেটের রাংপানি

মৌসুমে, এই হোটেলে প্রতিদিন গড়ে ছয় থেকে সাত হাজার টাকার বিক্রি হয়। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে পর্যটকের সংখ্যা কমে গিয়ে ব্যবসায় বেশ মন্দা যাচ্ছে।

ঝালকাঠি বিসিকের উপব্যবস্থাপক কর্মকর্তা আলী আজগর নাসির বলেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের পাশে রয়েছে এবং সার্বিক সহযোগিতা করবে।

তবুও, পর্যটকদের কাছে বৌদির এই ছোট্ট রেস্টুরেন্টটি এখনও একটি বড় আকর্ষণ। ফলমূল কেনাকাটার পর সবাই কিছুক্ষণের জন্য হলেও বসে যান বৌদির হোটেলে। এক কাপ চা আর গরম খাবারের স্বাদে তারা অনুভব করেন বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও আতিথেয়তার পূর্ণ রূপ। যারা একবার এখানকার খাবার চেখে দেখেন, তারা বারবার ফিরে আসতে চান। এমনটাই মনে করেন সাথী রায়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

দেশের পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ বৌদির ভাসমান হোটেল

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দক্ষিণাঞ্চলের ঝালকাঠির ভিমরুলি খালের এক প্রান্তে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের এক অনন্য পর্যটন আকর্ষণ ভাসমান পেয়ারা বাজার। বছরের প্রায় বারো মাসই পর্যটকদের ভিড় জমে এখানে। শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ভাসমান হাটকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই ছোট্ট রেস্টুরেন্ট – ‘বৌদির ভাসমান হোটেল’; যেখানে পাওয়া যায় ঘরোয়া পরিবেশে সুস্বাদু খাবার সাশ্রয়ী মূল্যে।

প্রায় পনেরো বছর আগে, সাথী রায় শুরু করেছিলেন এই ভাসমান হোটেলের যাত্রা। প্রথমে ব্যবসায়ীদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করতে শুরু করা এই উদ্যোগ, ধীরে ধীরে পরিচিতি পায় ‘বৌদির ভাসমান হোটেল’ নামে। সাথী রায় নিজেই রান্না করেন, আর তার স্বামী জয়দেব তা পরিবেশন করেন। তাদের হাতে তৈরি খাবারের গুণমান ভালো হওয়ায় এই হোটেল খুব দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

হোটেলের বিশেষ আকর্ষণ হলো সুগন্ধা ও বিষখালি নদীর তাজা ইলিশ মাছের নানা পদ, দেশি হাঁস ও মুরগির মাংস এবং বিভিন্ন রকমের ভর্তা। এছাড়া, সকালের নাশতায় পাওয়া যায় গরম গরম পুরি, সিঙ্গারা, সমুচা, মিষ্টি পরোটা আর সবজি ভাজি। সাথী রায় বলেন, ‘নিজের হাতে রান্না করে পর্যটকদের খাওয়াতে পেরে তিনি খুবই আনন্দিত।’

আরও পড়ুন : ছবির মতো সুন্দর সিলেটের রাংপানি

মৌসুমে, এই হোটেলে প্রতিদিন গড়ে ছয় থেকে সাত হাজার টাকার বিক্রি হয়। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে পর্যটকের সংখ্যা কমে গিয়ে ব্যবসায় বেশ মন্দা যাচ্ছে।

ঝালকাঠি বিসিকের উপব্যবস্থাপক কর্মকর্তা আলী আজগর নাসির বলেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের পাশে রয়েছে এবং সার্বিক সহযোগিতা করবে।

তবুও, পর্যটকদের কাছে বৌদির এই ছোট্ট রেস্টুরেন্টটি এখনও একটি বড় আকর্ষণ। ফলমূল কেনাকাটার পর সবাই কিছুক্ষণের জন্য হলেও বসে যান বৌদির হোটেলে। এক কাপ চা আর গরম খাবারের স্বাদে তারা অনুভব করেন বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও আতিথেয়তার পূর্ণ রূপ। যারা একবার এখানকার খাবার চেখে দেখেন, তারা বারবার ফিরে আসতে চান। এমনটাই মনে করেন সাথী রায়।