০২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বের বৃহত্তম মাটির মসজিদ সম্পর্কে জেনে নিন

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০৯:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 158

মালির এই মাটির মসজিদটি হাজার বছরের ইতিহাসের প্রতীক। ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি শুধুই খরা, মহামারি আর অনাহারে জর্জরিত। কিন্তু না, এই দেশটির বুকেই দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বের এক অন্যতম আশ্চর্য স্থাপনা। মসজিদটি মালির একটি ছোট্ট গ্রাম জেনিতে অবস্থিত যা এ মসজিদের জন্যেই বিশ্বব্যাপী পরিচিত।

এই গ্রামের মাটির মসজিদটি হাজার বছরের ইতিহাস আর ঐতিহ্যের মূর্ত প্রতীক। বিশ্বজুড়ে যা পরিচিতি ‘গ্রেট মস্ক অব জেনি’ হিসেবে।

কাদামাটি দিয়ে তৈরি এই স্থাপত্য শুধু তার অসাধারণ নকশার জন্য নয়, বরং দীর্ঘ ইতিহাসের জন্যও বিখ্যাত। মসজিদটি প্রথম নির্মিত হয়েছিল ৮০০ থেকে ১৩০০ শতাব্দীর মধ্যে।

যখন জেনির রাজা কোনবোরো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তখন নিজের প্রাসাদ ভেঙে মসজিদ নির্মাণ করেন। মাটির দেয়াল এবং তালগাছের কাঠের সমন্বয়ে তৈরি এই বিশাল মসজিদটি তখন থেকে গ্রামবাসীদের জন্য শুধুই প্রার্থনার কেন্দ্র নয়, বরং ইসলামী শিক্ষার একটি কেন্দ্রবিন্দু।

এটি এমন একটি মসজিদ, যার পরিচর্যা করতে প্রতি বছর গ্রামের মানুষ সমবেত হয়। ‘ক্রেপিসেজ দি লা গ্র্যান্ড মস্ক’ নামে বিশেষ উৎসবের সময় নাইজার নদী থেকে মাটি সংগ্রহ করে মসজিদের দেয়ালে নতুন কাদা প্রলেপ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন : গাজায় ৭৫০ বছরের পুরোনো আয়বাকি মসজিদ গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল

এই মসজিদকে ঘিরে আরও একটি বিশেষত্ব রয়েছে এর নির্মাণশৈলীর প্রায় প্রতিটি অংশে মাটির সঙ্গে টরল নামে পরিচিত তালগাছের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দেয়ালের মজবুতি বাড়ানোর জন্য। মসজিদের চূড়ায় ছিদ্র রাখা হয়েছে যাতে গ্রীষ্মের সময় ভেতরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ করে।

১৮২৭ সালে ফরাসি পর্যটক রেনে কেইলি প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে মসজিদটির অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন। তিনি তার জার্নালে উল্লেখ করেন, মসজিদটি তখন ভগ্ন অবস্থায় ছিল এবং তাকে রক্ষার জন্য নিয়মিত মেরামতের প্রয়োজন ছিলো।

এ মসজিদটি তার চূড়ান্ত রূপ পায় ১৯০৭ সালে, যখন স্থানীয় রাজমিস্ত্রীরা গ্রামবাসীর সহযোগিতায় পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ইউনেস্কো ১৯৮৮ সালে এই মসজিদটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে, যা মালি এবং জেনি গ্রামের গৌরবকেই বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

যদিও বাইরের বিনিয়োগকারীরা মসজিদটি কংক্রিট দিয়ে তৈরি করার প্রস্তাব দিয়েছিল, তবু জেনির মানুষ দৃঢ়ভাবে তাদের কাদামাটির ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। তাদের কাছে এই মসজিদ শুধুই প্রার্থনার স্থান নয়, এটি তাদের সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের মূর্ত প্রতীক।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

বিশ্বের বৃহত্তম মাটির মসজিদ সম্পর্কে জেনে নিন

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০৯:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি শুধুই খরা, মহামারি আর অনাহারে জর্জরিত। কিন্তু না, এই দেশটির বুকেই দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বের এক অন্যতম আশ্চর্য স্থাপনা। মসজিদটি মালির একটি ছোট্ট গ্রাম জেনিতে অবস্থিত যা এ মসজিদের জন্যেই বিশ্বব্যাপী পরিচিত।

এই গ্রামের মাটির মসজিদটি হাজার বছরের ইতিহাস আর ঐতিহ্যের মূর্ত প্রতীক। বিশ্বজুড়ে যা পরিচিতি ‘গ্রেট মস্ক অব জেনি’ হিসেবে।

কাদামাটি দিয়ে তৈরি এই স্থাপত্য শুধু তার অসাধারণ নকশার জন্য নয়, বরং দীর্ঘ ইতিহাসের জন্যও বিখ্যাত। মসজিদটি প্রথম নির্মিত হয়েছিল ৮০০ থেকে ১৩০০ শতাব্দীর মধ্যে।

যখন জেনির রাজা কোনবোরো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তখন নিজের প্রাসাদ ভেঙে মসজিদ নির্মাণ করেন। মাটির দেয়াল এবং তালগাছের কাঠের সমন্বয়ে তৈরি এই বিশাল মসজিদটি তখন থেকে গ্রামবাসীদের জন্য শুধুই প্রার্থনার কেন্দ্র নয়, বরং ইসলামী শিক্ষার একটি কেন্দ্রবিন্দু।

এটি এমন একটি মসজিদ, যার পরিচর্যা করতে প্রতি বছর গ্রামের মানুষ সমবেত হয়। ‘ক্রেপিসেজ দি লা গ্র্যান্ড মস্ক’ নামে বিশেষ উৎসবের সময় নাইজার নদী থেকে মাটি সংগ্রহ করে মসজিদের দেয়ালে নতুন কাদা প্রলেপ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন : গাজায় ৭৫০ বছরের পুরোনো আয়বাকি মসজিদ গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল

এই মসজিদকে ঘিরে আরও একটি বিশেষত্ব রয়েছে এর নির্মাণশৈলীর প্রায় প্রতিটি অংশে মাটির সঙ্গে টরল নামে পরিচিত তালগাছের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দেয়ালের মজবুতি বাড়ানোর জন্য। মসজিদের চূড়ায় ছিদ্র রাখা হয়েছে যাতে গ্রীষ্মের সময় ভেতরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ করে।

১৮২৭ সালে ফরাসি পর্যটক রেনে কেইলি প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে মসজিদটির অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন। তিনি তার জার্নালে উল্লেখ করেন, মসজিদটি তখন ভগ্ন অবস্থায় ছিল এবং তাকে রক্ষার জন্য নিয়মিত মেরামতের প্রয়োজন ছিলো।

এ মসজিদটি তার চূড়ান্ত রূপ পায় ১৯০৭ সালে, যখন স্থানীয় রাজমিস্ত্রীরা গ্রামবাসীর সহযোগিতায় পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ইউনেস্কো ১৯৮৮ সালে এই মসজিদটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে, যা মালি এবং জেনি গ্রামের গৌরবকেই বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

যদিও বাইরের বিনিয়োগকারীরা মসজিদটি কংক্রিট দিয়ে তৈরি করার প্রস্তাব দিয়েছিল, তবু জেনির মানুষ দৃঢ়ভাবে তাদের কাদামাটির ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। তাদের কাছে এই মসজিদ শুধুই প্রার্থনার স্থান নয়, এটি তাদের সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের মূর্ত প্রতীক।