নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ফের রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে আসতে পারে। তার মতে, আওয়ামী লীগের বিদ্যমান ভোটব্যাংকই তাদের সেই সুযোগ করে দেবে, আর এ দাবিকে সামনে আনা জামায়াতের জন্য হবে কৌশলগত ভুল।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় মান্না বলেন, “জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, দাবি করেছে পিআর। কিন্তু এই দাবি কার কাছে, কোন সরকারের বিরুদ্ধে? বর্তমান সরকার তো বলেই দিয়েছে তারা সরে দাঁড়াচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে পিআর দাবি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আমাদের দেশের ভোটার এখনো প্রার্থী দেখে ভোট দিতে অভ্যস্ত।”
আরও পড়ুন : একদিনে ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু
তিনি আরও বলেন, “অনেক দেশে পিআর পদ্ধতি ভালোভাবে কাজ করেছে, তবে অনেক জায়গায় ব্যর্থও হয়েছে। বাংলাদেশে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন জটিল। এখানে মেজরিটি-মাইনরিটির প্রশ্ন আছে। ধরুন, বড় একটি দল যদি ৪০ শতাংশ ভোট পায়, অন্য একটি ৩০ শতাংশ, আর বাকি ছোট ছোট দলগুলো মিলে পায় ৩০ শতাংশ—তাহলে সরকার গঠনের কাঠামো জটিল হয়ে যাবে।”
মান্না মনে করেন, পিআর চালু হলে আওয়ামী লীগই বেশি সুবিধা পাবে। তার ভাষায়, “আমরা নিজেরাও পিআরের পক্ষে ছিলাম। কিন্তু বাস্তবে দেখছি, আওয়ামী লীগের ভোট এখনো ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে তারা আবারও সংসদে শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারবে। অথচ যাদের উৎখাত করার কথা, তারাই ফিরে আসবে।”
পিআর নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখানে আবার দুই কক্ষের প্রসঙ্গও এসেছে—উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ। কেউ বলছে দুটো দরকার, কেউ বলছে একটাও দরকার নেই। এগুলো খুব জটিল বিষয়, আলোচনার মাধ্যমে সময় নিয়ে বোঝাতে হবে। একসঙ্গে সব চাপিয়ে দেওয়া সমাধান নয়।”
ঢাকা ডেস্ক 









