০২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

নেপালে অভ্যুত্থানের পর : জাতীয় স্বার্থে বিজেপির সঙ্গে সমঝোতায় তৃণমূল

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 99

নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সেনা অভ্যুত্থানের প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতার পথে এগিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস।

শিলিগুড়ি জেলার চিকেনস নেক করিডরের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে নেপালের প্রায় ১০০ কিলোমিটার স্থলসীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত অঞ্চলে অনুপ্রবেশ ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়ায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সোমবার কলকাতা সফরে আসা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত বিষয়। জাতীয় স্বার্থে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। এই বিষয়ে আমরা এক।”

আরও পড়ুন : মাকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের, বাবাসহ সৎমা গ্রেপ্তার

প্রসঙ্গত, ৯ সেপ্টেম্বর নেপালে দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিধিনিষেধের প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলন শুরু হয়। মাত্র দু’দিনের মধ্যে সরকারের পতন ঘটে এবং সেনাবাহিনী ক্ষমতা নেয়। পরে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যদিও পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শুধু অনুপ্রবেশই নয়, নকশালপন্থি রাজনৈতিক মতাদর্শ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। কারণ নেপালে কয়েকটি শক্তিশালী মাওবাদী দল সক্রিয় রয়েছে, যাদের প্রভাব এবারের অভ্যুত্থানেও দেখা গেছে।

মোদী-মমতা বৈঠকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথমত, ভারত-নেপাল সীমান্তে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) মোতায়েন করা হবে। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় জোরদার করা হবে।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে নেপালের অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুই পক্ষই আপাতত জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

নেপালে অভ্যুত্থানের পর : জাতীয় স্বার্থে বিজেপির সঙ্গে সমঝোতায় তৃণমূল

সর্বশেষ আপডেট : ০১:১১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সেনা অভ্যুত্থানের প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতার পথে এগিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস।

শিলিগুড়ি জেলার চিকেনস নেক করিডরের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে নেপালের প্রায় ১০০ কিলোমিটার স্থলসীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত অঞ্চলে অনুপ্রবেশ ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়ায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সোমবার কলকাতা সফরে আসা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত বিষয়। জাতীয় স্বার্থে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। এই বিষয়ে আমরা এক।”

আরও পড়ুন : মাকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের, বাবাসহ সৎমা গ্রেপ্তার

প্রসঙ্গত, ৯ সেপ্টেম্বর নেপালে দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিধিনিষেধের প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলন শুরু হয়। মাত্র দু’দিনের মধ্যে সরকারের পতন ঘটে এবং সেনাবাহিনী ক্ষমতা নেয়। পরে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যদিও পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শুধু অনুপ্রবেশই নয়, নকশালপন্থি রাজনৈতিক মতাদর্শ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। কারণ নেপালে কয়েকটি শক্তিশালী মাওবাদী দল সক্রিয় রয়েছে, যাদের প্রভাব এবারের অভ্যুত্থানেও দেখা গেছে।

মোদী-মমতা বৈঠকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথমত, ভারত-নেপাল সীমান্তে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) মোতায়েন করা হবে। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় জোরদার করা হবে।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে নেপালের অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুই পক্ষই আপাতত জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি