১২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রধান দলগুলোর সংসদ পুনর্বহালের দাবি

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 78

দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল নেপাল নতুন এক রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে। সহিংসতার জেরে ভেঙে দেওয়া পার্লামেন্ট পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে দেশটির প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল। তারা প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেলের এ পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলেও দাবি করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, নেপালের আটটি রাজনৈতিক দল— নেপালি কংগ্রেস, সিপিএন-ইউএমএল, মাওবাদী কেন্দ্রসহ— শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে সংসদ পুনর্বহালের দাবি তোলে। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের সংসদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের সংবিধান ও আদালতের রায়ের দৃষ্টান্তের পরিপন্থি।

এর আগে নবনিযুক্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির পরামর্শে প্রেসিডেন্ট সংসদ ভেঙে দেন। তবে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশও এই ভাঙনের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন নিহত হন। পরে ক্ষুব্ধ জনতা কাঠমান্ডুর পার্লামেন্ট ভবন ও একাধিক সরকারি কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসব ঘটনার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগে বাধ্য হন।

এরপর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন : গাজায় রক্তঝরা দিন, আরও ৪৭ ফিলিস্তিনি নিহত

শনিবার নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সুশীলা কার্কি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিনি মন্ত্রিসভা গঠন করবেন বলে জানা গেছে। দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তির কারণে তাকে সমর্থন জানিয়েছে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্মের “জেন জি” আন্দোলনের নেতারাও।

তবে তার সামনে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ: আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ক্ষতিগ্রস্ত সংসদ ভবন পুনর্গঠন, তরুণদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা।

প্রেসিডেন্ট পাউডেল বলেছেন, “অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতেও শান্তিপূর্ণ সমাধান এগিয়ে আসছে। সংবিধান ও গণতন্ত্র টিকে আছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত হবে।”

নেপালের সাম্প্রতিক অস্থিরতার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধকরণকে ঘিরে। হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ ২৬টি প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা দিলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। যদিও দ্রুত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়, তবুও আন্দোলন রাজনৈতিক এলিটদের দুর্নীতি ও দায়হীনতার বিরুদ্ধে রূপ নেয়।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া “নেপো কিড” প্রচারণায় রাজনীতিবিদদের সন্তানদের বিলাসী জীবনধারা ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর আন্দোলন আরও তীব্র আকার নেয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রধান দলগুলোর সংসদ পুনর্বহালের দাবি

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল নেপাল নতুন এক রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে। সহিংসতার জেরে ভেঙে দেওয়া পার্লামেন্ট পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে দেশটির প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল। তারা প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেলের এ পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলেও দাবি করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, নেপালের আটটি রাজনৈতিক দল— নেপালি কংগ্রেস, সিপিএন-ইউএমএল, মাওবাদী কেন্দ্রসহ— শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে সংসদ পুনর্বহালের দাবি তোলে। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের সংসদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের সংবিধান ও আদালতের রায়ের দৃষ্টান্তের পরিপন্থি।

এর আগে নবনিযুক্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির পরামর্শে প্রেসিডেন্ট সংসদ ভেঙে দেন। তবে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশও এই ভাঙনের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন নিহত হন। পরে ক্ষুব্ধ জনতা কাঠমান্ডুর পার্লামেন্ট ভবন ও একাধিক সরকারি কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসব ঘটনার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগে বাধ্য হন।

এরপর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন : গাজায় রক্তঝরা দিন, আরও ৪৭ ফিলিস্তিনি নিহত

শনিবার নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সুশীলা কার্কি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিনি মন্ত্রিসভা গঠন করবেন বলে জানা গেছে। দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তির কারণে তাকে সমর্থন জানিয়েছে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্মের “জেন জি” আন্দোলনের নেতারাও।

তবে তার সামনে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ: আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ক্ষতিগ্রস্ত সংসদ ভবন পুনর্গঠন, তরুণদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা।

প্রেসিডেন্ট পাউডেল বলেছেন, “অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতেও শান্তিপূর্ণ সমাধান এগিয়ে আসছে। সংবিধান ও গণতন্ত্র টিকে আছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত হবে।”

নেপালের সাম্প্রতিক অস্থিরতার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধকরণকে ঘিরে। হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ ২৬টি প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা দিলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। যদিও দ্রুত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়, তবুও আন্দোলন রাজনৈতিক এলিটদের দুর্নীতি ও দায়হীনতার বিরুদ্ধে রূপ নেয়।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া “নেপো কিড” প্রচারণায় রাজনীতিবিদদের সন্তানদের বিলাসী জীবনধারা ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর আন্দোলন আরও তীব্র আকার নেয়।