ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় মৃত্যু মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি আগ্রাসনে আরও অন্তত ৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৮০৩ জনে। এছাড়া অনাহারে মারা গেছেন আরও সাতজন, যাদের মধ্যে দুজন শিশু।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত একদিনে গাজা উপত্যকার বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ৪৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০৫ জন। সর্বমোট আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ২৬৪ জনে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বা রাস্তায় পড়ে রয়েছেন, যাদের কাছে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে পারছেন না অব্যাহত হামলার কারণে।
আরও পড়ুন : লোকসংগীতের বরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই
গত ২৪ ঘণ্টায় খাদ্য ও চিকিৎসাসহ মানবিক সহায়তা নিতে আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালায় ইসরাইলি সেনারা। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত ও ২৬ জনের বেশি আহত হন। ফলে শুধু মানবিক সহায়তা সংগ্রহের চেষ্টাকালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২ হাজার ৪৮৪ জনে। আহত হয়েছেন মোট ১৮ হাজার ১১৭ জন।
এছাড়া একদিনেই আরও সাতজন ফিলিস্তিনি অনাহারে প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে দুজন শিশু। ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২০ জনে, এর মধ্যে ১৪৫ জনই শিশু।
গত ২ মার্চ থেকে ইসরাইল কর্তৃপক্ষ গাজার সব সীমান্ত ক্রসিং পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে খাদ্য, ওষুধ ও ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ হয়ে মানবিক সংকট চরমে পৌঁছেছে।
জাতিসংঘ-সমর্থিত খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (IPC) জানিয়েছে, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে উত্তর গাজায় দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত হয়েছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ তা দেইর আল-বালাহ ও খান ইউনুস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে।
ঢাকা ডেস্ক 









