০২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে নতুন রাজনৈতিক সংকট: অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পতন

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 88

ফ্রান্স আবারও তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে অনাস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বিদায় নিচ্ছেন ফ্রাঁসোয়া বাইরু। সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত ভোটে ৩৬৪ জন এমপি তার বিরুদ্ধে এবং মাত্র ১৯৪ জন সমর্থনে ভোট দেন। ফলস্বরূপ মঙ্গলবারই তিনি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন ম্যাক্রোঁ। তার সামনে এখন তিনটি পথ খোলা—কেন্দ্র-ডানপন্থী কোনো নেতা থেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ, বামপন্থীদের সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া, কিংবা সরাসরি সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের ডাক দেওয়া।

বামঘেঁষা দল ‘ফ্রান্স আনবাউড’ সরাসরি ম্যাক্রোঁর পদত্যাগ দাবি করেছে, যদিও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেটা সম্ভাবনার বাইরে। তবে বাইরুর পতনে ফ্রান্স দুই বছরেরও কম সময়ে পঞ্চম প্রধানমন্ত্রীর সন্ধান করতে যাচ্ছে, যা ম্যাক্রোঁর দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন : ডাকসু নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

বাইরু আসন্ন ২০২৬ সালের বাজেটে ঋণ সংকট মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল—দুটি জাতীয় ছুটি বাতিল করা, কল্যাণ ভাতা ও পেনশন স্থগিত রাখা। লক্ষ্য ছিল বছরে ৪৪ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয়। কিন্তু এই প্রস্তাবই তার জন্য রাজনৈতিক আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়ায়।

বাম ও ডান—উভয় শিবিরের দলগুলো অনাস্থা ভোটকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে বাইরুকে সরাতে একত্রিত হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাইরু অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনাস্থা ভোটে নিজেকে উন্মুক্ত করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তার পতনের কারণ হয়েছে।

ভোটের আগে বাইরু সংসদে বলেন, ‘ঋণের দাসত্ব আর অস্ত্রের দাসত্ব একই। আজকের ঋণের বোঝা মানে আগামী প্রজন্মকে দাসত্বে ঠেলে দেওয়া।’

তবে তার এই সতর্কবার্তায় এমপিদের কেউই সাড়া দেননি।

দেশজুড়ে ঋণ সংকট নিয়ে মানুষের আগ্রহ তেমন নেই। বরং জীবিকার খরচ, নিরাপত্তা ও অভিবাসনই তাদের প্রধান উদ্বেগ। এদিকে ‘ব্লোকোঁ তু’ (সবকিছু থামাও) নামে একটি নতুন আন্দোলন বুধবার থেকে বিক্ষোভ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নও রাস্তায় নামার পরিকল্পনা করেছে।

রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রোঁর সম্ভাব্য পছন্দ হতে পারে তার ঘনিষ্ঠদের মধ্যে থেকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু, শ্রমমন্ত্রী ক্যাথরিন ভাত্রিন ও অর্থমন্ত্রী এরিক লমবার্ডের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে বামপন্থীদের সঙ্গে আপস করলে তা হবে ম্যাক্রোঁর পুরো নীতির দিক পরিবর্তন—যেখানে পেনশন সংস্কার বাতিলের দাবিও জড়িয়ে আছে।

 

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ফ্রান্সে নতুন রাজনৈতিক সংকট: অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পতন

সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ফ্রান্স আবারও তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে অনাস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বিদায় নিচ্ছেন ফ্রাঁসোয়া বাইরু। সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত ভোটে ৩৬৪ জন এমপি তার বিরুদ্ধে এবং মাত্র ১৯৪ জন সমর্থনে ভোট দেন। ফলস্বরূপ মঙ্গলবারই তিনি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন ম্যাক্রোঁ। তার সামনে এখন তিনটি পথ খোলা—কেন্দ্র-ডানপন্থী কোনো নেতা থেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ, বামপন্থীদের সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া, কিংবা সরাসরি সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের ডাক দেওয়া।

বামঘেঁষা দল ‘ফ্রান্স আনবাউড’ সরাসরি ম্যাক্রোঁর পদত্যাগ দাবি করেছে, যদিও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেটা সম্ভাবনার বাইরে। তবে বাইরুর পতনে ফ্রান্স দুই বছরেরও কম সময়ে পঞ্চম প্রধানমন্ত্রীর সন্ধান করতে যাচ্ছে, যা ম্যাক্রোঁর দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন : ডাকসু নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

বাইরু আসন্ন ২০২৬ সালের বাজেটে ঋণ সংকট মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল—দুটি জাতীয় ছুটি বাতিল করা, কল্যাণ ভাতা ও পেনশন স্থগিত রাখা। লক্ষ্য ছিল বছরে ৪৪ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয়। কিন্তু এই প্রস্তাবই তার জন্য রাজনৈতিক আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়ায়।

বাম ও ডান—উভয় শিবিরের দলগুলো অনাস্থা ভোটকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে বাইরুকে সরাতে একত্রিত হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাইরু অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনাস্থা ভোটে নিজেকে উন্মুক্ত করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তার পতনের কারণ হয়েছে।

ভোটের আগে বাইরু সংসদে বলেন, ‘ঋণের দাসত্ব আর অস্ত্রের দাসত্ব একই। আজকের ঋণের বোঝা মানে আগামী প্রজন্মকে দাসত্বে ঠেলে দেওয়া।’

তবে তার এই সতর্কবার্তায় এমপিদের কেউই সাড়া দেননি।

দেশজুড়ে ঋণ সংকট নিয়ে মানুষের আগ্রহ তেমন নেই। বরং জীবিকার খরচ, নিরাপত্তা ও অভিবাসনই তাদের প্রধান উদ্বেগ। এদিকে ‘ব্লোকোঁ তু’ (সবকিছু থামাও) নামে একটি নতুন আন্দোলন বুধবার থেকে বিক্ষোভ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নও রাস্তায় নামার পরিকল্পনা করেছে।

রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রোঁর সম্ভাব্য পছন্দ হতে পারে তার ঘনিষ্ঠদের মধ্যে থেকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু, শ্রমমন্ত্রী ক্যাথরিন ভাত্রিন ও অর্থমন্ত্রী এরিক লমবার্ডের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে বামপন্থীদের সঙ্গে আপস করলে তা হবে ম্যাক্রোঁর পুরো নীতির দিক পরিবর্তন—যেখানে পেনশন সংস্কার বাতিলের দাবিও জড়িয়ে আছে।