০৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ডাকসু নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে সংস্কৃতি উপদেষ্টার স্ট্যাটাস

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৩:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 103

শেখ হাসিনা ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এই নির্বাচনটি সবার একটি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই নির্বাচন দেশের পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ও নির্বাচনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করবে।

তাই ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশ নির্বাচনের ট্রেনে উঠে গেল বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলের নির্বাচনকে ব্যঙ্গ করে ফারুকী বলেন, ‘যে ভোট রাতেই করে ফেলা যায় সেটা দিন পর্যন্ত রাখা হলো কেনো? সময়ের কাজ সময়ে না করা এই জাতির বড় দুর্বলতা’।

 

আরও পড়ুন : টিএসসিতে প্রথম দেড়ঘণ্টায় পড়েছে ৭০০ ভোট

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতির কারণেই এমনটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষ্যে লাইলাতুল ইলেকশনের জননী, ব‍্যাংক লুটেরা, গুমের মাস্টারমাইন্ড, বিডিআর-শাপলা-জুলাই ম‍্যাসাকারের প্রধান পরিকল্পনাকারী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি খুনি হাসিনা যে কথা বলেনি।’

সবশেষে সংস্কৃতি উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘ফুটনোট : ডাকসুর মধ‍্য দিয়ে ইলেকশনের ট্রেনে উঠে গেলো বাংলাদেশ। এরপর চলে আসবে জাতীয় নির্বাচনের ট্রেন। সবাইকে নির্বাচন মোবারক!’

 

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের পর অনুষ্ঠিত হওয়া এ নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

২৮টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রেকর্ড ৪৭১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৬২ জন। অন্যদিকে হল সংসদের ১৩টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ৩৫ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন, যার মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৮৭৩ এবং ছাত্রী ভোটার ১৮ হাজার ৯০২ জন।

ভোটগ্রহণ হচ্ছে ৮টি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে। প্রতিটি ভোটারকে ডাকসু ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ৪১টি পদে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ভোট শেষে তাৎক্ষণিকভাবে গণনা শুরু হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে সিনেট ভবন মিলনায়তনে।

 

আরও পড়ুন : শহীদদের স্বপ্ন পূরণের সুষ্ঠু নির্বাচন চান সাদিক কায়েম

ভোট গণনায় প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) মেশিন। প্রতিটি কেন্দ্রে বড় এলইডি স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে ফলাফল।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়েছে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা। মোবাইল প্যাট্রল, ডগ স্কোয়াড, সোয়াত টিম, ডিবি, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, সিসিটিভি মনিটরিং সেলসহ বিশেষায়িত টিম মাঠে কাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য রাখা হয়েছে ব্রেইল ব্যালট ব্যবস্থাও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে ডাকসু বারবারই দেশীয় রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তাই এবারের ৩৮তম নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি।

 

 

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ডাকসু নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে সংস্কৃতি উপদেষ্টার স্ট্যাটাস

সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৩:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এই নির্বাচনটি সবার একটি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই নির্বাচন দেশের পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ও নির্বাচনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করবে।

তাই ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশ নির্বাচনের ট্রেনে উঠে গেল বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলের নির্বাচনকে ব্যঙ্গ করে ফারুকী বলেন, ‘যে ভোট রাতেই করে ফেলা যায় সেটা দিন পর্যন্ত রাখা হলো কেনো? সময়ের কাজ সময়ে না করা এই জাতির বড় দুর্বলতা’।

 

আরও পড়ুন : টিএসসিতে প্রথম দেড়ঘণ্টায় পড়েছে ৭০০ ভোট

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতির কারণেই এমনটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষ্যে লাইলাতুল ইলেকশনের জননী, ব‍্যাংক লুটেরা, গুমের মাস্টারমাইন্ড, বিডিআর-শাপলা-জুলাই ম‍্যাসাকারের প্রধান পরিকল্পনাকারী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি খুনি হাসিনা যে কথা বলেনি।’

সবশেষে সংস্কৃতি উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘ফুটনোট : ডাকসুর মধ‍্য দিয়ে ইলেকশনের ট্রেনে উঠে গেলো বাংলাদেশ। এরপর চলে আসবে জাতীয় নির্বাচনের ট্রেন। সবাইকে নির্বাচন মোবারক!’

 

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের পর অনুষ্ঠিত হওয়া এ নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

২৮টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রেকর্ড ৪৭১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৬২ জন। অন্যদিকে হল সংসদের ১৩টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ৩৫ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন, যার মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৮৭৩ এবং ছাত্রী ভোটার ১৮ হাজার ৯০২ জন।

ভোটগ্রহণ হচ্ছে ৮টি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে। প্রতিটি ভোটারকে ডাকসু ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ৪১টি পদে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ভোট শেষে তাৎক্ষণিকভাবে গণনা শুরু হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে সিনেট ভবন মিলনায়তনে।

 

আরও পড়ুন : শহীদদের স্বপ্ন পূরণের সুষ্ঠু নির্বাচন চান সাদিক কায়েম

ভোট গণনায় প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) মেশিন। প্রতিটি কেন্দ্রে বড় এলইডি স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে ফলাফল।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়েছে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা। মোবাইল প্যাট্রল, ডগ স্কোয়াড, সোয়াত টিম, ডিবি, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, সিসিটিভি মনিটরিং সেলসহ বিশেষায়িত টিম মাঠে কাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য রাখা হয়েছে ব্রেইল ব্যালট ব্যবস্থাও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে ডাকসু বারবারই দেশীয় রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তাই এবারের ৩৮তম নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি।