রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ জুলাই হলের ৯১ ছাত্রীকে ‘বিনা পারিশ্রমিকের যৌনকর্মী’ বলে মন্তব্য করায় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখ্দুম হল ছাত্রদলের সহসভাপতি আনিসুর রহমান মিলনে আজীবন বহিষ্কার করেছে শাখা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দপ্তর সম্পাদক নাফিউল ইসলাম জীবন স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করে ছাত্রদল। কিন্তু সেই কমিটি অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায়। তদন্ত কমিটিতে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিকও ছিলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তদন্ত কমিটির সদস্যরা অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান মিলনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব না দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, এ কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য তিনি ইচ্ছেকৃতভাবে করেছেন। এজন্য তাকে সহ সভাপতির পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন : রাবির সেই ৯১ ছাত্রীকে ‘বিনা পারিশ্রমিকের যৌনকর্মী’ বললেন ছাত্রদল নেতা
প্রসঙ্গত, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে দেরী করে ফেরায় ৯১ ছাত্রীকে নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুলাই ৩৬ আবাসিক হল’ কর্তৃপক্ষ। ওই নোটিশে বলা হয়, ‘জুলাই ৩৬ হলের অনাবাসিক ও গণরুমের ছাত্রীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে দেরিতে (রাত ১১টার পর) হলে ফেরার কারণে নিম্নে উল্লিখিত ছাত্রীদের ক্রমিক নম্বর ১-৪৫ পর্যন্ত মঙ্গলবার এবং ক্রমিক নম্বর ৪৬-৯১ পর্যন্ত বুধবার বিকেল চারটায় প্রাধ্যক্ষ মহোদয়ের অফিস কক্ষে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হলো।’
এ ঘটনায় তৈরি করা নিউজের ফটোকার্ডের নিচে ছাত্রদলের এই নেতা লেখেন, ‘এগুলো ছাত্রী নয়, এগুলো বিনা পারিশ্রমিক যৌনকর্মী’।
আনিসুর রহমান মিলন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখ্দুম হল শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আনিসুর রহমান মিলন। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে।
ঢাকা ডেস্ক 









