চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনসহ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না পেয়ে প্রশাসনের সহায়তা চেয়েও সাড়া না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সহ-উপাচার্য।
রবিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যালে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে তিনি বলেন,“আমাদের শিক্ষার্থীদের দা দিয়ে কোপানো হচ্ছে, প্রক্টর ও প্রো-ভিসি পর্যন্ত আহত হয়েছেন। কিন্তু আমরা এখনও আর্মি-বিজিবি বা প্রশাসনের কোনও সহায়তা পাইনি। আমি হাতজোড় করে অনুরোধ করছি— সবাই শান্ত হন, শিক্ষার্থীরা শান্ত হও। এ সংঘর্ষ আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নষ্ট করছে।”
তার কান্না দেখে উপস্থিত অনেক শিক্ষার্থীও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ঘটনাটির একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন : চবি এলাকায় প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারি
শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় দর্শন বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে ভাড়া বাসার দারোয়ানের বাগবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ, দেরিতে আসার কারণে ওই দারোয়ান তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ বাঁধে।
রাত থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ রোববার দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় চলে। স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে একত্রিত হন, অপরদিকে শিক্ষার্থীরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে মাইকিং করে সংঘর্ষে জড়ান।
সংঘর্ষে অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের দাবি, তাদের পক্ষেও ১০-১২ জন আহত হয়েছেন।
চবি মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ টিপু সুলতান জানান, অনেক শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে, যা সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন বলেন,“আমরা তোমাদের পাশে আছি। এ ঘটনার বিচার হবে। তবে এখনই সবাইকে শান্ত হতে হবে। এই পরিস্থিতি কোনওভাবেই চলতে দেওয়া যায় না।”
ঢাকা ডেস্ক 









