০৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

চবিতে আবারও শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের সংঘর্ষ, সহ-উপাচার্যসহ আহত ১০

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • 88

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন জোবরা গ্রামে মুখোমুখি অবস্থান নেওয়া দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

সকালে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কয়েক শ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের এক পাশে অবস্থান নেন, আর অপর পাশে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন এবং প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ উপস্থিত থেকে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করেন। তবে একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপে রক্তাক্ত অবস্থায় বহু শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনা হয়।

ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি না থাকায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের গুলি ছুড়তেও দেখা গেছে।

আরও পড়ুন : চবিতে শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের সংঘর্ষে সব পরীক্ষা স্থগিত

এর আগে শনিবার রাত সোয়া ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত একই এলাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে টানা সংঘর্ষ চলে। এক নারী শিক্ষার্থীকে ভাড়া বাসার দারোয়ান মারধর করলে ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শিক্ষার্থীরা ওই দারোয়ানকে ধরতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দেন এবং সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত সাড়ে তিনটার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ওই সংঘর্ষে অন্তত ৭০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন।

সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “এত সংখ্যক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে, প্রক্টর ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। স্থানীয় সন্ত্রাসীরা হামলায় জড়িত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবশ্যই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।”

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, দারোয়ানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ঘটনার পর স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে মানুষ জড়ো করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরাই প্রথমে হামলা চালায় এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে।

দুই দিনের টানা সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। ক্যাম্পাসে এখনো থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

চবিতে আবারও শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের সংঘর্ষ, সহ-উপাচার্যসহ আহত ১০

সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন জোবরা গ্রামে মুখোমুখি অবস্থান নেওয়া দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

সকালে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কয়েক শ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের এক পাশে অবস্থান নেন, আর অপর পাশে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন এবং প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ উপস্থিত থেকে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করেন। তবে একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপে রক্তাক্ত অবস্থায় বহু শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনা হয়।

ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি না থাকায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের গুলি ছুড়তেও দেখা গেছে।

আরও পড়ুন : চবিতে শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের সংঘর্ষে সব পরীক্ষা স্থগিত

এর আগে শনিবার রাত সোয়া ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত একই এলাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে টানা সংঘর্ষ চলে। এক নারী শিক্ষার্থীকে ভাড়া বাসার দারোয়ান মারধর করলে ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শিক্ষার্থীরা ওই দারোয়ানকে ধরতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দেন এবং সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত সাড়ে তিনটার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ওই সংঘর্ষে অন্তত ৭০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন।

সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “এত সংখ্যক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে, প্রক্টর ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। স্থানীয় সন্ত্রাসীরা হামলায় জড়িত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবশ্যই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।”

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, দারোয়ানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ঘটনার পর স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে মানুষ জড়ো করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরাই প্রথমে হামলা চালায় এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে।

দুই দিনের টানা সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। ক্যাম্পাসে এখনো থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।