০৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

চবি এলাকায় প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারি

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:১৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • 88

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের সংঘর্ষের জেরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে কার্যকর হওয়া এ আদেশ সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা পর্যন্ত বলবত থাকবে।

প্রশাসনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনসাধারণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট বাজারের পূর্ব দিক থেকে রেলগেট পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ-মিছিল, গণজমায়েত এবং অস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের একসঙ্গে অবস্থানও সীমিত করা হয়েছে।

এর আগে রোববার সকাল থেকে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন। তবে স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন : চবিতে আবারও শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের সংঘর্ষ, সহ-উপাচার্যসহ আহত ১০

শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের দাবি—শনিবার রাতের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় স্থানীয়দের একটি অংশ লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে এলে পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী ক্যাম্পাসসংলগ্ন শাহাবুদ্দীন ভবনে ফিরতে গেলে বাসার দারোয়ান তাকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেন। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর সহপাঠীরা দরজা খুললেও দারোয়ান ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, “রাত ১১টা ২০ মিনিটে আমি বাসায় ফিরি। নিয়ম অনুযায়ী রাত ১২টা পর্যন্ত ঢোকা যায়। কিন্তু দারোয়ান গেট খুলতে অস্বীকৃতি জানান। পরে রুমমেটরা দরজা খুলতে বাধ্য করলে তিনি আমার ওপর চড়াও হন এবং আমাকে মারধর করেন।”

এ ঘটনার পর থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বর্তমানে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

চবি এলাকায় প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারি

সর্বশেষ আপডেট : ০৪:১৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের সংঘর্ষের জেরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে কার্যকর হওয়া এ আদেশ সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা পর্যন্ত বলবত থাকবে।

প্রশাসনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনসাধারণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট বাজারের পূর্ব দিক থেকে রেলগেট পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ-মিছিল, গণজমায়েত এবং অস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের একসঙ্গে অবস্থানও সীমিত করা হয়েছে।

এর আগে রোববার সকাল থেকে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন। তবে স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন : চবিতে আবারও শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের সংঘর্ষ, সহ-উপাচার্যসহ আহত ১০

শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের দাবি—শনিবার রাতের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় স্থানীয়দের একটি অংশ লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে এলে পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী ক্যাম্পাসসংলগ্ন শাহাবুদ্দীন ভবনে ফিরতে গেলে বাসার দারোয়ান তাকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেন। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর সহপাঠীরা দরজা খুললেও দারোয়ান ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, “রাত ১১টা ২০ মিনিটে আমি বাসায় ফিরি। নিয়ম অনুযায়ী রাত ১২টা পর্যন্ত ঢোকা যায়। কিন্তু দারোয়ান গেট খুলতে অস্বীকৃতি জানান। পরে রুমমেটরা দরজা খুলতে বাধ্য করলে তিনি আমার ওপর চড়াও হন এবং আমাকে মারধর করেন।”

এ ঘটনার পর থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বর্তমানে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে।