০৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বাবার নির্দেশে ছোট ভাইয়ের চোখ তুলে নিল বড় দুই ভাই

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৫৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
  • 187

ছবি : সংগৃহীত

পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও টাকার লোভে ছোট ভাইয়ের দুই চোখ উপড়ে ফেলে বাবার হাতে তুলে দিয়েছেন বড় দুই ভাই। শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনাটা ঘটে বরিশালের মুলাদী উপজেলার সাহেবেরচর গ্রামে ।

গতকাল মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রা‌তে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এরকম একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

ভি‌ডিওটি এ প্রতিনিধির কাছে সংরক্ষিত আছে। এ ঘটনায় রিপনের স্ত্রী রোকসনা বেগম বাদী হয়ে আদালতে নালিশি আবেদন করলে আদালত তা মামলা হিসেবে রুজু করার নির্দেশ দেন।

চোখ হারানো ব্যক্তির নাম- সিরাজুল ইসলাম ওরফে রিপন বেপারী (৫০)। তিনি গ্রামের আরশেদ বেপারীর ছোট ছেলে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ভাই হলেন- রোকন বেপারী ও স্বপন বেপারী।

আরও পড়ুন : চন্দ্রনাথ পাহাড় ঘিরে উসকানিমূলক কার্যক্রমের চিহ্ন দেখামাত্র ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ তিন উপদেষ্টার

স্থানীয়রা জানায়, রিপন দীর্ঘদিন ঢাকায় বসবাস করতেন এবং বিভিন্ন সময়ে চুরি, ছিনতাই ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল টাকা ও স্বর্ণালংকার সংগ্রহ করেছেন। তিনি প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণ মেজ ভাই রোকনের কাছে গচ্ছিত রেখেছেন বলে দাবি করে আসছিলেন।

প্রায় তিন মাস আগে রিপন সেই টাকা ও স্বর্ণ ফেরত চান। কিন্তু রোকন অস্বীকার করলে তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিস বৈঠকও হয়, তবে সমাধান আসেনি।

গত শুক্রবার বিকেলে রিপন ঢাকা থেকে বাড়ি আসেন। সন্ধ্যায় ফের টাকা চাইলে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। রাত ১১টার দিকে আবার ঝগড়া শুরু হয়। তখন বাবা আশেদ ব্যাপারী ক্ষিপ্ত হয়ে রিপনকে মারধর করেন এবং চোখ উৎপাটনের নির্দেশ দেন। বাবার নির্দেশে রোকন ও স্বপন মিলে রিপনকে অমানবিক নির্যাতন করে চোখ উপড়ে ফেলে বাবার হাতে তুলে দেয়।

রিপনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আশুকাঠি হাসপাতালে, পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর থেকে আশেদ ব্যাপারী, রোকন ও স্বপন পলাতক রয়েছেন।

রিপনের ছেলে আব্দুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবার গচ্ছিত ৩৫ লাখ টাকা আর ২০ ভরি স্বর্ণ আত্মসাৎ করার জন্যই আমার চাচারা বাবাকে অন্ধ করে দিয়েছে। আগে অনেকবার মারধর করেছে, এবার চোখই তুলে নিল।

বড় ভাই খোকন ব্যাপারী বলেন, বাবার সামনেই এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। বাবা নিজে নির্দেশ না দিলে রোকন আর স্বপন এতটা করতে পারত না।

মুলাদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে তদন্ত চলছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী রিপনের বিরুদ্ধেও ঢাকার রমনা থানায় চুরি-ছিনতাইয়ের ৮টি মামলা এবং মুলাদী থানায় হত্যা মামলাসহ অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

বাবার নির্দেশে ছোট ভাইয়ের চোখ তুলে নিল বড় দুই ভাই

সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৫৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও টাকার লোভে ছোট ভাইয়ের দুই চোখ উপড়ে ফেলে বাবার হাতে তুলে দিয়েছেন বড় দুই ভাই। শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনাটা ঘটে বরিশালের মুলাদী উপজেলার সাহেবেরচর গ্রামে ।

গতকাল মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রা‌তে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এরকম একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

ভি‌ডিওটি এ প্রতিনিধির কাছে সংরক্ষিত আছে। এ ঘটনায় রিপনের স্ত্রী রোকসনা বেগম বাদী হয়ে আদালতে নালিশি আবেদন করলে আদালত তা মামলা হিসেবে রুজু করার নির্দেশ দেন।

চোখ হারানো ব্যক্তির নাম- সিরাজুল ইসলাম ওরফে রিপন বেপারী (৫০)। তিনি গ্রামের আরশেদ বেপারীর ছোট ছেলে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ভাই হলেন- রোকন বেপারী ও স্বপন বেপারী।

আরও পড়ুন : চন্দ্রনাথ পাহাড় ঘিরে উসকানিমূলক কার্যক্রমের চিহ্ন দেখামাত্র ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ তিন উপদেষ্টার

স্থানীয়রা জানায়, রিপন দীর্ঘদিন ঢাকায় বসবাস করতেন এবং বিভিন্ন সময়ে চুরি, ছিনতাই ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল টাকা ও স্বর্ণালংকার সংগ্রহ করেছেন। তিনি প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণ মেজ ভাই রোকনের কাছে গচ্ছিত রেখেছেন বলে দাবি করে আসছিলেন।

প্রায় তিন মাস আগে রিপন সেই টাকা ও স্বর্ণ ফেরত চান। কিন্তু রোকন অস্বীকার করলে তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিস বৈঠকও হয়, তবে সমাধান আসেনি।

গত শুক্রবার বিকেলে রিপন ঢাকা থেকে বাড়ি আসেন। সন্ধ্যায় ফের টাকা চাইলে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। রাত ১১টার দিকে আবার ঝগড়া শুরু হয়। তখন বাবা আশেদ ব্যাপারী ক্ষিপ্ত হয়ে রিপনকে মারধর করেন এবং চোখ উৎপাটনের নির্দেশ দেন। বাবার নির্দেশে রোকন ও স্বপন মিলে রিপনকে অমানবিক নির্যাতন করে চোখ উপড়ে ফেলে বাবার হাতে তুলে দেয়।

রিপনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আশুকাঠি হাসপাতালে, পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর থেকে আশেদ ব্যাপারী, রোকন ও স্বপন পলাতক রয়েছেন।

রিপনের ছেলে আব্দুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবার গচ্ছিত ৩৫ লাখ টাকা আর ২০ ভরি স্বর্ণ আত্মসাৎ করার জন্যই আমার চাচারা বাবাকে অন্ধ করে দিয়েছে। আগে অনেকবার মারধর করেছে, এবার চোখই তুলে নিল।

বড় ভাই খোকন ব্যাপারী বলেন, বাবার সামনেই এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। বাবা নিজে নির্দেশ না দিলে রোকন আর স্বপন এতটা করতে পারত না।

মুলাদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে তদন্ত চলছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী রিপনের বিরুদ্ধেও ঢাকার রমনা থানায় চুরি-ছিনতাইয়ের ৮টি মামলা এবং মুলাদী থানায় হত্যা মামলাসহ অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে।