১১:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

প্রথমবারের মতো মানবদেহে শূকরের ফুসফুস প্রতিস্থাপন চীনের

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:৪৯:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
  • 107

ছবি : সংগৃহীত

চীনে প্রথমবারের মতো ব্রেইন ডেড ব্যক্তির শরীরে জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত শূকরের ফুসফুস প্রতিস্থাপনের একটি অভূতপূর্ব পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। আর চীনে আগেই একটি শূকরের লিভার বা যকৃৎ প্রতিস্থাপনের পরীক্ষা করা হয়েছে।

এ ধরনের গবেষণা শূকরের অঙ্গ জীবিত মানুষের শরীরে সফলভাবে প্রতিস্থাপনের পথ তৈরি করেছে, যদিও এখন পর্যন্ত এ ধরনের মাত্র কয়েকটি অস্ত্রোপচার হয়েছে।

ব্রেইন ডেড যারা

ব্রেইন ডেড হলো এমন একটি অবস্থা, যখন কোনো ব্যক্তির মস্তিষ্ক সম্পূর্ণরূপে কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং সেই অবস্থায় সে আর জীবিত নয়, যদিও হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুসের সাহায্যে কিছুক্ষণ কাজ করতে পারে।

 

আরও পড়ুন : জোঁকের তেল কি সত্যিই উপকারী?

সাধারণত, যারা মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত, রক্তক্ষরণ, স্ট্রোক বা অক্সিজেনের অভাবে দীর্ঘ সময় মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তাদের ব্রেইন ডেড ঘোষণা করা হয়।

চীনের এই পরীক্ষা ৩৯ বছর বয়সী পুরুষের শরীরে সম্পন্ন হয়। রোগী আসলে ব্রেইন ডেড কি না, তা নিশ্চিত করতে চারটি আলাদা পরীক্ষা করা হয় এবং তার পরিবার থেকে লিখিত সম্মতি নেওয়া হয়।

এটি প্রথমবারের মতো অন্য প্রজাতির ফুসফুস মানবদেহে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা।

গুয়াংঝৌ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংযুক্ত হাসপাতালের অঙ্গ প্রতিস্থাপন বিভাগের ডাক্তার জিয়াং শি বলেন, ‘আমাদের দলের জন্য এটি একটি অর্থবহ সূচনা। ফুসফুসের এ ধরনের প্রতিস্থাপন অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় জটিল এবং বৈজ্ঞানিকভাবে চ্যালেঞ্জপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, এই গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল মানব প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা, এখনই এটি জীবিত রোগীদের জন্য ক্লিনিক্যাল ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত নয়।

অস্ত্রোপচারের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই ব্যক্তির শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা শূকরের ফুসফুসের বিরুদ্ধে সক্রিয় হওয়া শুরু করে। তবে এর পরও ওই ব্যক্তির শরীরে নবম দিন পর্যন্ত কার্যকরী ছিল শূকরের ফুসফুস।

রোগীর পরিবারের অনুরোধে নবম দিন পরীক্ষা বন্ধ করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই যে, ফুসফুস কত দিন পর্যন্ত কাজ করতে পারত, তবে নবম দিনে ফুসফুসের ক্ষতি স্পষ্ট ছিল।

এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন ট্রান্সপ্লান্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র গবেষক ড. অ্যাডাম গ্রাইসমার বলেন, ‘নবম দিনের ফুসফুস প্রতিস্থাপনে কেউ সাইন আপ করবে না। তবে এ ধরনের গবেষণা মস্তিষ্ক মৃত রোগীদের শরীরে করা জরুরি, কারণ পশুর মডেল থেকে মানবদেহের সঠিক প্রতিক্রিয়া অনুমান করা কঠিন।’

এই পরীক্ষায় ব্যবহৃত শূকরের ফুসফুস জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত ছিল, যেখানে সিআরআইএসপিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করে শূকরের তিনটি জিন নিষ্ক্রিয় করা হয় এবং তিনটি মানব জিন যুক্ত করা হয়, যাতে মানবশরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা তাকে গ্রহণ করে।

২০২৪ সালের মে মাসে ওই রোগীর শরীরে শূকরের বাম ফুসফুস লাগানো হয়, আর তার ডান ফুসফুস আগের মতোই থাকে। অস্ত্রোপচারের এক দিন আগে থেকেই রোগীর শরীরে প্রতিরোধক্ষমতা দমনকারী ওষুধ দেওয়া শুরু করা হয়।

আরও পড়ুন :  আমি মিথ্যা বলেছি!  হাতজোড় করে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি: আমির খান

প্রতিস্থাপনের পর রোগীর শরীরে কোনো ‘হাইপারঅ্যাকিউট রিজেকশন’ বা তীব্র অস্বীকৃতি দেখা যায়নি, তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফুসফুসে ফুলে ওঠা ও প্রদাহ দেখা দেয়। অস্ত্রোপচারের তৃতীয় দিনে রোগীর শরীর থেকে অঙ্গের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে শুরু করে, যা ফুসফুসে ক্ষতি করে।

গবেষকেরা বলেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরীক্ষায় নির্দিষ্ট রোগ প্রতিরোধ কোষের কার্যক্রম ও প্রদাহ সৃষ্টি করা সিগন্যাল ব্লক করলে উন্নতি হতে পারে। ফুসফুস একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ এটি বাইরের বাতাসের সংস্পর্শে থাকায় অনেক ধরনের প্রতিরোধী প্রোটিন ধারণ করে, যা মানবশরীরের জন্য ‘বহিরাগত’ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

এ ছাড়া ফুসফুসের নরম টিস্যু অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড বিনিময়ের জন্য সংবেদনশীল হওয়ায় রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার আক্রমণ খুবই ক্ষতিকর হতে পারে।

তথ্যসূত্র: লাইভ সায়েন্স

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

প্রথমবারের মতো মানবদেহে শূকরের ফুসফুস প্রতিস্থাপন চীনের

সর্বশেষ আপডেট : ০২:৪৯:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

চীনে প্রথমবারের মতো ব্রেইন ডেড ব্যক্তির শরীরে জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত শূকরের ফুসফুস প্রতিস্থাপনের একটি অভূতপূর্ব পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। আর চীনে আগেই একটি শূকরের লিভার বা যকৃৎ প্রতিস্থাপনের পরীক্ষা করা হয়েছে।

এ ধরনের গবেষণা শূকরের অঙ্গ জীবিত মানুষের শরীরে সফলভাবে প্রতিস্থাপনের পথ তৈরি করেছে, যদিও এখন পর্যন্ত এ ধরনের মাত্র কয়েকটি অস্ত্রোপচার হয়েছে।

ব্রেইন ডেড যারা

ব্রেইন ডেড হলো এমন একটি অবস্থা, যখন কোনো ব্যক্তির মস্তিষ্ক সম্পূর্ণরূপে কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং সেই অবস্থায় সে আর জীবিত নয়, যদিও হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুসের সাহায্যে কিছুক্ষণ কাজ করতে পারে।

 

আরও পড়ুন : জোঁকের তেল কি সত্যিই উপকারী?

সাধারণত, যারা মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত, রক্তক্ষরণ, স্ট্রোক বা অক্সিজেনের অভাবে দীর্ঘ সময় মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তাদের ব্রেইন ডেড ঘোষণা করা হয়।

চীনের এই পরীক্ষা ৩৯ বছর বয়সী পুরুষের শরীরে সম্পন্ন হয়। রোগী আসলে ব্রেইন ডেড কি না, তা নিশ্চিত করতে চারটি আলাদা পরীক্ষা করা হয় এবং তার পরিবার থেকে লিখিত সম্মতি নেওয়া হয়।

এটি প্রথমবারের মতো অন্য প্রজাতির ফুসফুস মানবদেহে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা।

গুয়াংঝৌ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংযুক্ত হাসপাতালের অঙ্গ প্রতিস্থাপন বিভাগের ডাক্তার জিয়াং শি বলেন, ‘আমাদের দলের জন্য এটি একটি অর্থবহ সূচনা। ফুসফুসের এ ধরনের প্রতিস্থাপন অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় জটিল এবং বৈজ্ঞানিকভাবে চ্যালেঞ্জপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, এই গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল মানব প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা, এখনই এটি জীবিত রোগীদের জন্য ক্লিনিক্যাল ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত নয়।

অস্ত্রোপচারের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই ব্যক্তির শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা শূকরের ফুসফুসের বিরুদ্ধে সক্রিয় হওয়া শুরু করে। তবে এর পরও ওই ব্যক্তির শরীরে নবম দিন পর্যন্ত কার্যকরী ছিল শূকরের ফুসফুস।

রোগীর পরিবারের অনুরোধে নবম দিন পরীক্ষা বন্ধ করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই যে, ফুসফুস কত দিন পর্যন্ত কাজ করতে পারত, তবে নবম দিনে ফুসফুসের ক্ষতি স্পষ্ট ছিল।

এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন ট্রান্সপ্লান্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র গবেষক ড. অ্যাডাম গ্রাইসমার বলেন, ‘নবম দিনের ফুসফুস প্রতিস্থাপনে কেউ সাইন আপ করবে না। তবে এ ধরনের গবেষণা মস্তিষ্ক মৃত রোগীদের শরীরে করা জরুরি, কারণ পশুর মডেল থেকে মানবদেহের সঠিক প্রতিক্রিয়া অনুমান করা কঠিন।’

এই পরীক্ষায় ব্যবহৃত শূকরের ফুসফুস জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত ছিল, যেখানে সিআরআইএসপিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করে শূকরের তিনটি জিন নিষ্ক্রিয় করা হয় এবং তিনটি মানব জিন যুক্ত করা হয়, যাতে মানবশরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা তাকে গ্রহণ করে।

২০২৪ সালের মে মাসে ওই রোগীর শরীরে শূকরের বাম ফুসফুস লাগানো হয়, আর তার ডান ফুসফুস আগের মতোই থাকে। অস্ত্রোপচারের এক দিন আগে থেকেই রোগীর শরীরে প্রতিরোধক্ষমতা দমনকারী ওষুধ দেওয়া শুরু করা হয়।

আরও পড়ুন :  আমি মিথ্যা বলেছি!  হাতজোড় করে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি: আমির খান

প্রতিস্থাপনের পর রোগীর শরীরে কোনো ‘হাইপারঅ্যাকিউট রিজেকশন’ বা তীব্র অস্বীকৃতি দেখা যায়নি, তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফুসফুসে ফুলে ওঠা ও প্রদাহ দেখা দেয়। অস্ত্রোপচারের তৃতীয় দিনে রোগীর শরীর থেকে অঙ্গের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে শুরু করে, যা ফুসফুসে ক্ষতি করে।

গবেষকেরা বলেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরীক্ষায় নির্দিষ্ট রোগ প্রতিরোধ কোষের কার্যক্রম ও প্রদাহ সৃষ্টি করা সিগন্যাল ব্লক করলে উন্নতি হতে পারে। ফুসফুস একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ এটি বাইরের বাতাসের সংস্পর্শে থাকায় অনেক ধরনের প্রতিরোধী প্রোটিন ধারণ করে, যা মানবশরীরের জন্য ‘বহিরাগত’ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

এ ছাড়া ফুসফুসের নরম টিস্যু অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড বিনিময়ের জন্য সংবেদনশীল হওয়ায় রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার আক্রমণ খুবই ক্ষতিকর হতে পারে।

তথ্যসূত্র: লাইভ সায়েন্স