ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এটি চালু করেছিলেন। শুরুতে এটি পরিচিতদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন ও ক্ষুদেবার্তা ভাগ করার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
২০১৯ সালে বাংলাদেশে ভিডিও মনিটাইজেশন চালু হওয়ার পর কনটেন্ট ক্রিয়েটররা আর্থিক সুযোগ পায়। এর আগে ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল প্রোগ্রামের মাধ্যমে খবর ও লেখা পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো।কিন্তু বর্তমানে ফেসবুক ইউটিউব ও টিকটকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ফেলে দিয়েছে। নিউজফিডে ভালো ও তথ্যবহুল কনটেন্টের চেয়ে ভাইরাল, অপ্রাসঙ্গিক এবং অনেক সময় অশ্লীল ভিডিও বেশি দেখা যায়। ব্যক্তিগত আইডি মনিটাইজেশন পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ধরনের ভিডিও আপলোড করছেন, যা শিশু ও সাধারণ দর্শকের জন্য অপ্রত্যাশিত ও ক্ষতিকর। ডলারের লোভে ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমগুলো ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।
আরও পড়ুন : জাতীয় পার্টি কি ভারতের ক্রীড়নক?
এভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক ধরনের “অসামাজিক” প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। পেশাদার সাংবাদিকতাও ভিউ প্রতিযোগিতার কারণে প্রভাবিত হচ্ছে, এবং সাংবাদিকদের বেতন-ভাতার অনেকাংশ নির্ভর করছে ভিডিওর ভাইরাল হওয়ার উপর। ফলে ক্রিয়েটররা কেবল অর্থের লোভে কাজ করছেন, সৃজনশীলতা নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজ ও পরবর্তী প্রজন্মের মানসিক বিকাশের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতন ব্যবহার এবং নীতিমূলক নিয়ন্ত্রণ জরুরি। নইলে এই প্ল্যাটফর্ম মেধা, মননের উৎকর্ষ এবং সামাজিক মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
লেখক: নাসিরউদ্দিন ফুরকান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষজ্ঞ
রিপোর্টার 









