০১:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশি পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ বেড়েছে ৩২ শতাংশ

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৫০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
  • 133

গত দুই মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ প্রায় ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি এবং চীন ও ভারতের সরবরাহ সংকটের কারণে বিদেশি ক্রেতারা ধীরে ধীরে বাংলাদেশে অর্ডার দিতে শুরু করেছেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ অনেক বেড়েছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে শুধুমাত্র পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৯৬ কোটি ডলার, যা দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৩ শতাংশ।

ইপিবি ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, “ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার গ্রহণ ও সময়মতো শিপমেন্ট সম্পন্ন হলে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বা তারও বেশি হতে পারে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আট মাসের মধ্যেই নির্ধারিত লক্ষ্য অতিক্রম সম্ভব।”

আরও পড়ুন : শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করার কড়া হুঁশিয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, চীনের শ্রমিক সংকট ও মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ক্রেতারা বাংলাদেশে অর্ডার সরিয়ে আনছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “যদি উৎপাদন ও সরবরাহের নিশ্চয়তা দেওয়া যায়, চলতি অর্থবছরে রপ্তানি খাতের প্রবৃদ্ধি ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।”

বিজিএমইএয়ের সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “আগের তুলনায় এবার জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট ক্রেতারাও এখন বাংলাদেশ থেকে অর্ডার দিচ্ছে, যা রপ্তানিতে সাফল্য এনে দিয়েছে।”

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ক্রেতাদের চাপে পণ্যের দাম কমানো যাবে না। মূল্যহ্রাস হলে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা হ্রাস পেতে পারে। এছাড়া বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট ও বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো না হলে নতুন অর্ডার পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন কঠিন হবে।

বাংলাদেশি তৈরি পোশাক খাতের এই উত্থান দেশীয় রপ্তানিকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।

তথ্যসূত্র: আমার দেশ

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

বাংলাদেশি পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ বেড়েছে ৩২ শতাংশ

সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৫০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

গত দুই মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ প্রায় ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি এবং চীন ও ভারতের সরবরাহ সংকটের কারণে বিদেশি ক্রেতারা ধীরে ধীরে বাংলাদেশে অর্ডার দিতে শুরু করেছেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ অনেক বেড়েছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে শুধুমাত্র পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৯৬ কোটি ডলার, যা দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৩ শতাংশ।

ইপিবি ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, “ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার গ্রহণ ও সময়মতো শিপমেন্ট সম্পন্ন হলে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বা তারও বেশি হতে পারে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আট মাসের মধ্যেই নির্ধারিত লক্ষ্য অতিক্রম সম্ভব।”

আরও পড়ুন : শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করার কড়া হুঁশিয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, চীনের শ্রমিক সংকট ও মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ক্রেতারা বাংলাদেশে অর্ডার সরিয়ে আনছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “যদি উৎপাদন ও সরবরাহের নিশ্চয়তা দেওয়া যায়, চলতি অর্থবছরে রপ্তানি খাতের প্রবৃদ্ধি ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।”

বিজিএমইএয়ের সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “আগের তুলনায় এবার জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট ক্রেতারাও এখন বাংলাদেশ থেকে অর্ডার দিচ্ছে, যা রপ্তানিতে সাফল্য এনে দিয়েছে।”

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ক্রেতাদের চাপে পণ্যের দাম কমানো যাবে না। মূল্যহ্রাস হলে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা হ্রাস পেতে পারে। এছাড়া বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট ও বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো না হলে নতুন অর্ডার পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন কঠিন হবে।

বাংলাদেশি তৈরি পোশাক খাতের এই উত্থান দেশীয় রপ্তানিকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।

তথ্যসূত্র: আমার দেশ