বাগেরহাটের মোল্লাহাটে টিকটক ব্যবহারকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের জেরে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার গাড়ফা গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে বুধবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় বৃষ্টি (২২) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারে চলছে আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে নানা অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ।
নিহত বৃষ্টি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মধুপুর গ্রামের জাকির শেখের মেয়ে। প্রায় দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক থেকে তার বিয়ে হয় একই জেলার চরগোবরা গ্রামের সাজ্জাদুল ইসলাম শেখের (২৭) সঙ্গে। সাজ্জাদুল দিনমজুরের কাজ করেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের সাড়ে তিন মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে একটি মোবাইল ফোন কিনে টিকটক ব্যবহার শুরু করেন বৃষ্টি। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঘটনার দিন বিকেলে সাজ্জাদুল মোবাইলটি বিক্রি করতে বাজারে যান। কিন্তু প্রত্যাশিত দাম না পেয়ে ফিরে আসেন।
আরও পড়ুন : ধুনটে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, কলেজছাত্র গ্রেপ্তার
বাড়িতে এসে তিনি স্ত্রীকে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাননি। পরে দরজার ফাঁক দিয়ে তিনি দেখতে পান, গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছেন বৃষ্টি। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় মোল্লাহাট থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হলেও নিহতের পরিবার দাবি করছে, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, সাজ্জাদুল প্রায়ই বৃষ্টিকে নির্যাতন করতেন এবং শেষ পর্যন্ত হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলুল হক বলেন, “প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে পরিবারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ঢাকা ডেস্ক 









