০৯:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বেশি বেশি হাই তোলা কীসের লক্ষণ?

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৬:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
  • 85

 

টিহাই তোলা খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। ক্লান্ত হলে, বিরক্ত লাগলে বা মনোযোগ কমে গেলে হাই তোলাটা একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া।

কিন্তু যদি আপনি সারাদিন বারবার হাই তুলতেই থাকেন, তাহলে এটা কেবল ক্লান্তি না। বরং এটি আপনার ঘুমের সমস্যার একটি লক্ষণও হতে পারে।

 

হাই তোলার কারণ কী?

এটি এক ধরনের স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া। যখন আমরা গভীরভাবে শ্বাস নিই, মুখটা বড় করে হাঁ করে নিই, তারপর ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ছাড়ি- এটাকেই মূলত হাই তোলা বলে।

হাই ওঠার থাকতে পারে বেশ কিছু কারণ। ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া বা শরীরের নিজেকে নিজে ফ্রেশ রাখার চেষ্টা- অনেক কারণেই হাই উঠতে পারে। সামান্য হাই ওঠা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। কিন্তু সারাদিন ঘন ঘন হাই উঠলে সেটা চিন্তার বিষয় হতে পারে।

 

ঘন ঘন হাই ওঠা ও ঘুমের সমস্যা

 

১. স্লিপ অ্যাপনিয়া (ঘুমের সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া)

 আরও পড়ুন : আজকের আবহাওয়া

অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন। ঘুমানোর সময় তাদের শ্বাস মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গভীর ঘুম হয় না। পাশাপাশি, এই রোগ চিকিৎসা না করলে হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে।

 

লক্ষণ: # জোরে নাক ডাকা # ঘুমের মাঝে হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া # সারাদিন ঝিম ধরা বা ঘন ঘন হাই ওঠা

 

২. অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়া

 

ঘুম আসতে দেরি হওয়া বা ঘন ঘন ঘুম ভেঙে গেলে শরীর ঠিকমতো বিশ্রাম পায় না। ফলে সারাদিন মাথা ঝিমঝিম করে আর হাই উঠতে থাকে।

 

৩. নারকোলেপসি

 

এ রোগ থাকলে হঠাৎ করে ঘুম চলে আসে। এটি একটি স্নায়ুবিক সমস্যা। যারা এতে ভোগেন, তারা দিনে অনেকবার হাই তোলেন এবং সারাদিনই দুর্বল বোধ করেন।

 

৪. রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম

 

এই সমস্যায় রাতে পা কাঁপতে থাকে বা অস্বস্তি হয়, যার ফলে ঘুম ঠিকমতো হয় না। ফলস্বরূপ দিনে বারবার হাই ওঠে।

 

অন্য কারণও হতে পারে

 

সব সময় ঘুমের সমস্যার কারণেই হাই ওঠে না। অন্য কিছু কারণও থাকতে পারে :

 

# উদ্বেগ বা মানসিক চাপ # কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া # বিষণ্নতা বা হতাশা # স্নায়ুর অসুখ (যেমন- পারকিনসন, মাইগ্রেন)

 

আরও পড়ুন : মিথ্যা বলায় হাতজোড় করে  ক্ষমা চাইলেন আমির খান

 

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

 

নিচের লক্ষণগুলো থাকলে আপনার উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। চিকিৎসক প্রয়োজনে ঘুমের টেস্ট বা পরামর্শ দিতে পারেন।

 

 ১। সারাদিন ঘন ঘন হাই উঠছে

২। ঘুম ভালো হলেও ক্লান্ত লাগছে

৩। কাজের মধ্যে মনোযোগ থাকছে না

 ৪। ঘুমের সময় নাক ডাকা, শ্বাস আটকে যাওয়া

 

ঘুম ভালো রাখার কিছু টিপস

 

বেশি বেশি হাই তোলা কীসের লক্ষণ?

 

১। প্রতিদিন এক সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার ও উঠার চেষ্টা করুন

২। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মোবাইল বা টিভি কম দেখুন

৩। ঘুমানোর আগে ক্যাফেইন বা চা-কফি খাবেন না

৪। শোবার ঘরের পরিবেশ ঘুমের সময় শান্ত ও অন্ধকার রাখুন

৫। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

বেশি বেশি হাই তোলা কীসের লক্ষণ?

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৬:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

 

টিহাই তোলা খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। ক্লান্ত হলে, বিরক্ত লাগলে বা মনোযোগ কমে গেলে হাই তোলাটা একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া।

কিন্তু যদি আপনি সারাদিন বারবার হাই তুলতেই থাকেন, তাহলে এটা কেবল ক্লান্তি না। বরং এটি আপনার ঘুমের সমস্যার একটি লক্ষণও হতে পারে।

 

হাই তোলার কারণ কী?

এটি এক ধরনের স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া। যখন আমরা গভীরভাবে শ্বাস নিই, মুখটা বড় করে হাঁ করে নিই, তারপর ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ছাড়ি- এটাকেই মূলত হাই তোলা বলে।

হাই ওঠার থাকতে পারে বেশ কিছু কারণ। ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া বা শরীরের নিজেকে নিজে ফ্রেশ রাখার চেষ্টা- অনেক কারণেই হাই উঠতে পারে। সামান্য হাই ওঠা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। কিন্তু সারাদিন ঘন ঘন হাই উঠলে সেটা চিন্তার বিষয় হতে পারে।

 

ঘন ঘন হাই ওঠা ও ঘুমের সমস্যা

 

১. স্লিপ অ্যাপনিয়া (ঘুমের সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া)

 আরও পড়ুন : আজকের আবহাওয়া

অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন। ঘুমানোর সময় তাদের শ্বাস মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গভীর ঘুম হয় না। পাশাপাশি, এই রোগ চিকিৎসা না করলে হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে।

 

লক্ষণ: # জোরে নাক ডাকা # ঘুমের মাঝে হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া # সারাদিন ঝিম ধরা বা ঘন ঘন হাই ওঠা

 

২. অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়া

 

ঘুম আসতে দেরি হওয়া বা ঘন ঘন ঘুম ভেঙে গেলে শরীর ঠিকমতো বিশ্রাম পায় না। ফলে সারাদিন মাথা ঝিমঝিম করে আর হাই উঠতে থাকে।

 

৩. নারকোলেপসি

 

এ রোগ থাকলে হঠাৎ করে ঘুম চলে আসে। এটি একটি স্নায়ুবিক সমস্যা। যারা এতে ভোগেন, তারা দিনে অনেকবার হাই তোলেন এবং সারাদিনই দুর্বল বোধ করেন।

 

৪. রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম

 

এই সমস্যায় রাতে পা কাঁপতে থাকে বা অস্বস্তি হয়, যার ফলে ঘুম ঠিকমতো হয় না। ফলস্বরূপ দিনে বারবার হাই ওঠে।

 

অন্য কারণও হতে পারে

 

সব সময় ঘুমের সমস্যার কারণেই হাই ওঠে না। অন্য কিছু কারণও থাকতে পারে :

 

# উদ্বেগ বা মানসিক চাপ # কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া # বিষণ্নতা বা হতাশা # স্নায়ুর অসুখ (যেমন- পারকিনসন, মাইগ্রেন)

 

আরও পড়ুন : মিথ্যা বলায় হাতজোড় করে  ক্ষমা চাইলেন আমির খান

 

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

 

নিচের লক্ষণগুলো থাকলে আপনার উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। চিকিৎসক প্রয়োজনে ঘুমের টেস্ট বা পরামর্শ দিতে পারেন।

 

 ১। সারাদিন ঘন ঘন হাই উঠছে

২। ঘুম ভালো হলেও ক্লান্ত লাগছে

৩। কাজের মধ্যে মনোযোগ থাকছে না

 ৪। ঘুমের সময় নাক ডাকা, শ্বাস আটকে যাওয়া

 

ঘুম ভালো রাখার কিছু টিপস

 

বেশি বেশি হাই তোলা কীসের লক্ষণ?

 

১। প্রতিদিন এক সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার ও উঠার চেষ্টা করুন

২। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মোবাইল বা টিভি কম দেখুন

৩। ঘুমানোর আগে ক্যাফেইন বা চা-কফি খাবেন না

৪। শোবার ঘরের পরিবেশ ঘুমের সময় শান্ত ও অন্ধকার রাখুন

৫। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন