আলাস্কায় শুক্রবার (১৫ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে এক অপ্রত্যাশিত মুহূর্তের মুখোমুখি হলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ সময় নিজেদের সামরিক শক্তি দেখাল যুক্তরাষ্ট্র। লাল কার্পেট সংবর্ধনার পর ট্রাম্পের সঙ্গে করমর্দন করে হাঁটছিলেন তিনি।
ঠিক সে সময় মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের ভয়ংকর বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান। আকস্মিক গর্জনে আকাশ-বাতাস কেঁপে ওঠে, আর হঠাৎ থমকে গিয়ে আকাশের দিকে তাকান পুতিন। কিছুক্ষণ পর ট্রাম্প হাসিমুখে তার কানে কিছু বললে আবারও স্বাভাবিক হয়ে হাঁটতে শুরু করেন তিনি।
২২ সেকেন্ডের একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, আলাস্কার জয়েন্ট বেস এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসনে দুই প্রেসিডেন্ট লালগালিচা ধরে মঞ্চের দিকে হাঁটছেন, এমন সময় তাঁদের মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায় বি-২ বোমারু ও যুদ্ধবিমান। পুতিনও সেই মুহূর্তে আকাশের দিকে তাকান।
এই প্রদর্শন আসলে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির স্পষ্ট বার্তা বহন করছিল।
প্রতিটি বি-২ বোমারু যুদ্ধবিমানের দাম প্রায় ২০১ কোটি মার্কিন ডলার, যা ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক বিমান। নর্থরপ গ্রুম্যান কোম্পানি এটি তৈরি করে। ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে উৎপাদন শুরু হলেও সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এর সংখ্যা সীমিত করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, অনেকগুলো বানানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ২১টি বি–২ বোমারু বিমান তৈরি করা হয়।
আরও পড়ুন : রাশিয়ায় গানপাউডার কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ১১
এই যুদ্ধবিমান একটানা ৬ হাজার নটিক্যাল মাইল (১১ হাজার ১১২ কিলোমিটার) উড়তে পারে, তা–ও আবার জ্বালানি ভরার প্রয়োজন হয় না। আকাশে জ্বালানি ভরলে এটি পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় আঘাত হানতে সক্ষম। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরি থেকে আফগানিস্তান, লিবিয়া ও ইরান পর্যন্ত দীর্ঘ মিশনে অংশ নিয়েছে এই বিমান।
বি–২ বোমারু বিমান ৪০ হাজার পাউন্ডের (১৮ হাজার ১৪৪ কেজি) বেশি ওজনের অস্ত্র বহন করতে পারে, যার মধ্যে থাকতে পারে পারমাণবিক বোমাও। সর্বোচ্চ ১৬টি বি-৮৩ পারমাণবিক বোমা বহন করতে সক্ষম এই যুদ্ধবিমান।
ভেতরে অস্ত্র রাখার জায়গা এমনভাবে বানানো, যাতে বিমানটির গোপন ক্ষমতা বজায় থাকে। এর মধ্যে এমনকি বিশাল ৩০ হাজার পাউন্ডের ‘বাংকার বাস্টার’ (বাংকারবিধ্বংসী) বোমাও বহন করা যায়। ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসের জন্য এই বিমান ব্যবহার করা হয়।
ঢাকা ডেস্ক 









