আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ শহরে এক অপ্রত্যাশিত দৃশ্যের সাক্ষী হলো বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে বিস্ময়ের মুহূর্তের মুখোমুখি হন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
লাল কার্পেট সংবর্ধনার পর ট্রাম্পের সঙ্গে করমর্দন শেষে ধীরগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎই আকাশ কাঁপিয়ে মাথার ওপর দিয়ে ছুটে যায় যুক্তরাষ্ট্রের ভয়ংকর বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান। আকস্মিক সেই গর্জনে কিছুক্ষণের জন্য থমকে যান পুতিন। চোখ তুলে তাকান আকাশের দিকে। তবে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাম্প মুচকি হেসে কানে কিছু বললে আবারও স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাঁটতে শুরু করেন তিনি।
এই পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে মাত্র ২২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে, যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আন্তর্জাতিক মহল একে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সুস্পষ্ট “শক্তি প্রদর্শন” হিসেবে।
আরও পড়ুন : ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক শেষে যে সিদ্ধান্ত এলো
বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক বিমানের তালিকায় শীর্ষে থাকা বি-২ স্টিলথ বোমারুর প্রতিটির দাম প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। নর্থরপ গ্রুমম্যান নির্মিত এই বিমান ১৯৮০-এর দশকে তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বহরে যুক্ত হয় মাত্র ২১টি। একবারে ৬ হাজার নটিক্যাল মাইল উড়তে সক্ষম এ বোমারু বিমান আকাশে জ্বালানি ভরলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে হামলা চালাতে পারে।
৪০ হাজার পাউন্ডের বেশি অস্ত্র বহনে সক্ষম বি-২ একইসঙ্গে ১৬টি পারমাণবিক বোমা বহন করতে পারে। এছাড়া ভূগর্ভস্থ শক্তিশালী স্থাপনা ধ্বংসে ব্যবহৃত হয় ভয়ংকর ‘বাংকার বাস্টার’ জিবিইউ-৫৭এ/বি বোমা। আফগানিস্তান, লিবিয়া থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা পর্যন্ত এ বোমারুর আঘাত দেখেছে বিশ্ব।
ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলের প্রত্যাশা ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সমাধানের কোনো ইঙ্গিত মিলতে পারে। তবে বৈঠক শেষে উভয়পক্ষ আলোচনাকে ‘ইতিবাচক’ বললেও যুদ্ধবিরতি বা সমাধান নিয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হাজারো প্রাণহানি ঘটেছে, আর সংঘাত এখনও অব্যাহত।
ঢাকা ডেস্ক 









