০৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ধানের জমিতে মেছো বিড়াল, পিটিয়ে হত্যা

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৭:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
  • 135

দেশে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে মেছো বিড়াল। ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহের শৈলকূপায় হারভেস্টার মেশিনের ধাক্কায় আহত মেছো বিড়াল পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে শৈলকূপা পৌরসভার সাতগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রামবাসী ও স্থানীয়রা জানান, দুপুরে সাতগাছি মাঠের একটি জমিতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার কাজ চলছিল। এ সময় জমিতে লুকিয়ে থাকা মেছো বিড়াল শাবকটি মেশিনের সামনে পড়ে মাথা ও পায়ে আঘাত পেয়ে গুরুতর জখম হয়।

এক পর্যায়ে বিড়ালটি পালিয়ে যাওয়ার সময় সেচ খালের সামনে পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন সেটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। পরে সেচ খালের পাশে গর্ত করে বাঘটিকে পুঁতে রাখা হয়।

স্থানীয় সংবাদকর্মী জাফরুল ইসলাম শিমুল বলেন, বাঘ আটকের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সেটি মেছো বিড়াল। সেটিকে মেরে ফেলা হয়েছে।

আরও পড়ুন : কৃষকের ভাগ্য বদলে দিল বিএডিসির সেচ প্রকল্প

শৈলকূপা উপজেলা বন কর্মকর্তা মোকলেসুর রহমান জানান, আমি সাক্ষ্য দিতে গাজীপুর আদালতে এসেছি। ঘটনাস্থলে আমার সহকর্মীকে পাঠানো হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবো।

এদিকে মেছো বিড়াল হত্যার ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা।

তার মত, ব্যাঙ বা ইঁদুর খেতেই প্রাণীটি ধানক্ষেতে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, প্রাণীটির প্রকৃত নাম মেছো বিড়াল (Fishing Cat)। কিন্তু অনেক এলাকায় এটিকে মেছোবাঘ নামেও ডাকে। বাঘ নামে ডাকার কারণে শুধু শুধু আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রাণীটি মানুষকে আক্রমণ করে না, বরং মানুষ দেখলে পালিয়ে যায়। তাই এটি নিয়ে ভীত হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই এই প্রাণীটি বিচরণ রয়েছে। জলাভূমি আছে এমন এলাকায় বেশি দেখা যায়। প্রাণীটি জলাভূমির মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া ছাড়াও পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করে। জনবসতি স্থাপন, বন ও জলাভূমি ধ্বংস, পিটিয়ে হত্যা ইত্যাদি কারণে বিগত কয়েক দশকে উপকারী এই প্রাণীটির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

আরও পড়ুন : সৌদির ফল সাম্মাম মাতিয়েছে পটুয়াখালীর কৃষকদের

জোহরা মিলা আরও বলেন, ২০০৮ সালে মেছো বিড়ালকে বিপন্ন প্রাণী প্রজাতির তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন)। তাছাড়া বন্যপ্রাণী আইন-২০১২ অনুযায়ী এই প্রজাতি সংরক্ষিত। তাই এই প্রাণীটি হত্যা বা এর কোনো ক্ষতিকরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ধানের জমিতে মেছো বিড়াল, পিটিয়ে হত্যা

সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৭:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

ঝিনাইদহের শৈলকূপায় হারভেস্টার মেশিনের ধাক্কায় আহত মেছো বিড়াল পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে শৈলকূপা পৌরসভার সাতগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রামবাসী ও স্থানীয়রা জানান, দুপুরে সাতগাছি মাঠের একটি জমিতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার কাজ চলছিল। এ সময় জমিতে লুকিয়ে থাকা মেছো বিড়াল শাবকটি মেশিনের সামনে পড়ে মাথা ও পায়ে আঘাত পেয়ে গুরুতর জখম হয়।

এক পর্যায়ে বিড়ালটি পালিয়ে যাওয়ার সময় সেচ খালের সামনে পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন সেটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। পরে সেচ খালের পাশে গর্ত করে বাঘটিকে পুঁতে রাখা হয়।

স্থানীয় সংবাদকর্মী জাফরুল ইসলাম শিমুল বলেন, বাঘ আটকের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সেটি মেছো বিড়াল। সেটিকে মেরে ফেলা হয়েছে।

আরও পড়ুন : কৃষকের ভাগ্য বদলে দিল বিএডিসির সেচ প্রকল্প

শৈলকূপা উপজেলা বন কর্মকর্তা মোকলেসুর রহমান জানান, আমি সাক্ষ্য দিতে গাজীপুর আদালতে এসেছি। ঘটনাস্থলে আমার সহকর্মীকে পাঠানো হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবো।

এদিকে মেছো বিড়াল হত্যার ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা।

তার মত, ব্যাঙ বা ইঁদুর খেতেই প্রাণীটি ধানক্ষেতে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, প্রাণীটির প্রকৃত নাম মেছো বিড়াল (Fishing Cat)। কিন্তু অনেক এলাকায় এটিকে মেছোবাঘ নামেও ডাকে। বাঘ নামে ডাকার কারণে শুধু শুধু আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রাণীটি মানুষকে আক্রমণ করে না, বরং মানুষ দেখলে পালিয়ে যায়। তাই এটি নিয়ে ভীত হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই এই প্রাণীটি বিচরণ রয়েছে। জলাভূমি আছে এমন এলাকায় বেশি দেখা যায়। প্রাণীটি জলাভূমির মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া ছাড়াও পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করে। জনবসতি স্থাপন, বন ও জলাভূমি ধ্বংস, পিটিয়ে হত্যা ইত্যাদি কারণে বিগত কয়েক দশকে উপকারী এই প্রাণীটির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

আরও পড়ুন : সৌদির ফল সাম্মাম মাতিয়েছে পটুয়াখালীর কৃষকদের

জোহরা মিলা আরও বলেন, ২০০৮ সালে মেছো বিড়ালকে বিপন্ন প্রাণী প্রজাতির তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন)। তাছাড়া বন্যপ্রাণী আইন-২০১২ অনুযায়ী এই প্রজাতি সংরক্ষিত। তাই এই প্রাণীটি হত্যা বা এর কোনো ক্ষতিকরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।