সরকারের পক্ষ থেকে জনস্বার্থে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত পুলিশের ৯ জন নিরস্ত্র পরিদর্শককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এ সিদ্ধান্ত আসে।
রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি অবসরের নথিতে স্বাক্ষর করেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—
১. মো. কামাল হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র), নৌ-পুলিশ, যমুনা সেতু-পূর্ব নৌ ফাঁড়ি
২. নুরুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক, সিআইডি মৌলভীবাজার
৩. আবু বকর সিদ্দিক, পুলিশ পরিদর্শক, টাঙ্গাইল মধুপুর সার্কেল
৪. মামুন অর রশিদ, পুলিশ পরিদর্শক, টুরিস্ট পুলিশ, মুন্সিগঞ্জ ও পদ্মা সেতু জোন
আরও পড়ুন : থানায় গিয়ে ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে মাতলামি, অতঃপর
৫. এস এম কামরুজ্জামান, পুলিশ পরিদর্শক, রিজার্ভ অফিস, নারায়ণগঞ্জ জেলা
৬. আব্দুল কুদ্দুস ফকির, পুলিশ পরিদর্শক, সিআইডি নরসিংদী
৭. শিকদার শামীম হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক, এপিবিএন-৪, বগুড়া
৮. আব্দুল লতিফ, পুলিশ পরিদর্শক, সিআইডি কন্ট্রোল রুম
৯. মো. সেলিমুজ্জামান, পুলিশ পরিদর্শক, কুলাউড়া রেলওয়ে থানা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘এটি সম্পূর্ণই জনস্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া পদক্ষেপ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
প্রসঙ্গত, গত জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের কিছু কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা হয়। আন্দোলন দমন এবং গ্রেপ্তার অভিযানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
এই নয় কর্মকর্তার অবসরের সিদ্ধান্তকে অনেকে সরকারের ‘বার্তা’ হিসেবে দেখছেন— যে ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কর্মকাণ্ডে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।
ঢাকা ডেস্ক 









