রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেন অগ্নিমূল্য! বিশেষ করে সবজি ও চালের বাজারে আগুন লেগেছে – আজকাল ৮০ টাকার নিচে সবজি খুঁজে পাওয়াই যেন সৌভাগ্যের বিষয়। এর পাশাপাশি বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে পেঁয়াজ, ডিম, আদা ও এলাচের জন্যও। ফলে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর শান্তিনগর, মালিবাগ, খিলগাঁওসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব সবজির দামই ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।
- বরবটি প্রতি কেজি ১২০ টাকা
- করলা, দেশি শসা ও গোল বেগুন ১০০-১২০ টাকা
- ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, হাইব্রিড শসা ৮০ টাকা
- গাঁজর ও টমেটো ছুঁয়েছে ১৮০ টাকা
- পেঁপে তুলনামূলক সস্তা, ৪০ টাকা কেজি
খিলগাঁও বাজারের ক্রেতা জহির উদ্দিন বলেন, ‘আমার মতো মানুষের পক্ষে প্রতিদিন সবজি কেনা এখন দুরহ হয়ে পড়ছে। পটোল আর ঢেঁড়স কিনলাম ৬০ টাকায়, সেটাই সস্তা মনে হচ্ছে।’
আরও পড়ুন : কমেছে কাঁচা মরিচের দাম, সবজিতে অস্থিরতা—মুরগি ও ইলিশে আগুন
মালিবাগ বাজারের হাবিব আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এত দাম দিয়ে সবজি কিনে খাওয়া কষ্টকর হয়ে উঠেছে। আগে এক কেজি কিনতাম, এখন কিনতে হচ্ছে আধা কেজি করে।’
বিক্রেতাদের দাবি, টানা বৃষ্টিতে সবজির সরবরাহ কমেছে। একই সঙ্গে কিছু সবজির মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। সরবরাহ সংকটের সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা নিচ্ছে বলেও অভিযোগ অনেকের।
পেঁয়াজ-ডিম-আদা: দাম বাড়ছেই
এদিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ১৫-২০ টাকা বেড়েছে। আগে যা ছিল ৬৫ টাকা, এখন তা ৮৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ডিমের ডজন এখন ১৪০ টাকা – যা একসময় ১২০ টাকায় পাওয়া যেত। আদার দাম ২৫০ টাকা, যা ছিল ১৮০ টাকার আশেপাশে।
কারওয়ান বাজারের এক পাইকারি বিক্রেতা জানান, উৎপাদন এলাকায় দাম বাড়ায় এবং বৃষ্টির কারণে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় এই মূল্যবৃদ্ধি।
চালেও নেই স্বস্তি
চালের বাজারেও নেই কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন।
- মোটা চালের কেজি ৬০ টাকার ওপরে
- মাঝারি মানের মিনিকেট ও নাজির: ৬৫-৭০ টাকা
- উন্নত মানের ব্র্যান্ডেড চাল: ৯০-১০০ টাকা পর্যন্ত
গত দেড় মাস ধরে চালের দাম স্থির থেকে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। বাজার মনিটরিংয়ের অভাব এবং পাইকারি পর্যায়ের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন অনেক ক্রেতা।
ঢাকা ডেস্ক 









