০১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সাংবাদিক তুহিনকে যে কারণে হত্যা করা হয়েছে

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫
  • 121

গাজীপুরের ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর গাজীপুর প্রতিনিধি মো. আসাদুজ্জামান তুহিনকে।

প্রাথমিকভাবে ‘চাঁদাবাজির লাইভ করার জেরে হত্যা’—এমন গুঞ্জন ছড়ালেও পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঈদগাহ মার্কেট এলাকায় এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার সূত্রপাত হয় বাদশা মিয়া নামে এক যুবকের সঙ্গে গোলাপীর নামের এক নারীর তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি থেকে।

গোলাপী পেশায় একজন কলগার্ল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার সঙ্গে থাকা দুর্বৃত্তরা বাদশা মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করলে, ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও করছিলেন সাংবাদিক তুহিন।

তুহিনের এই ভিডিও ধারণ দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে দুর্বৃত্তরা তাকে ধাওয়া করে এবং একপর্যায়ে ঈদগাহ মার্কেটের এক দোকানের সামনে ধরে ফেলে। সেখানেই তাকে প্রকাশ্যে বুক, গলা, পিঠ ও কাঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান।

আরও পড়ুন : গাজীপুরে সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যা

হত্যাকাণ্ডের সময় এলাকার কলকারখানা ছুটির কারণে আশপাশে প্রচুর লোকজন থাকলেও, দুর্বৃত্তদের হাতে থাকা ধারালো দা ও চাপাতির কারণে তুহিনকে বাঁচাতে কেউ সাহস করে এগিয়ে আসেননি।

প্রত্যক্ষদর্শী শামিম বলেন, ‘তুহিন ভাই ভিডিও করছিলেন বলেই ওরা তাকে মেরে ফেলেছে। যদি ওটা (ভিডিও) না করতেন, হয়তো আজ বেঁচে থাকতেন।’

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে হত্যার সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয় এবং অনেকেই লেখেন, ‘চাঁদাবাজির লাইভ করায় সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যা’।

তবে তুহিনের পরিবার, সহকর্মী এবং পুলিশ বলছে, এই অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

তুহিনের ফেসবুক আইডি ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি চাঁদাবাজি নিয়ে কোনো ভিডিও, লাইভ বা রিপোর্ট করেননি।

বরং এলাকাবাসীর দুর্ভোগ, ট্রাফিক সমস্যা এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক পোস্ট করতেন। মৃত্যুর ঠিক আগে তিনি ‘যেমন খুশি তেমন রাস্তা পার হওয়ার দৃশ্য’ শিরোনামে একটি ভিডিও আপলোড করেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার রবিউল ইসলাম জানান, ‘ঘটনাটি কোনো চাঁদাবাজি সংক্রান্ত নয়। নারীঘটিত ঘটনার ভিডিও ধারণ করাই মূল কারণ। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি নিচ্ছি।’

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

সাংবাদিক তুহিনকে যে কারণে হত্যা করা হয়েছে

সর্বশেষ আপডেট : ১২:২০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫

গাজীপুরের ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর গাজীপুর প্রতিনিধি মো. আসাদুজ্জামান তুহিনকে।

প্রাথমিকভাবে ‘চাঁদাবাজির লাইভ করার জেরে হত্যা’—এমন গুঞ্জন ছড়ালেও পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঈদগাহ মার্কেট এলাকায় এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার সূত্রপাত হয় বাদশা মিয়া নামে এক যুবকের সঙ্গে গোলাপীর নামের এক নারীর তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি থেকে।

গোলাপী পেশায় একজন কলগার্ল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার সঙ্গে থাকা দুর্বৃত্তরা বাদশা মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করলে, ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও করছিলেন সাংবাদিক তুহিন।

তুহিনের এই ভিডিও ধারণ দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে দুর্বৃত্তরা তাকে ধাওয়া করে এবং একপর্যায়ে ঈদগাহ মার্কেটের এক দোকানের সামনে ধরে ফেলে। সেখানেই তাকে প্রকাশ্যে বুক, গলা, পিঠ ও কাঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান।

আরও পড়ুন : গাজীপুরে সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যা

হত্যাকাণ্ডের সময় এলাকার কলকারখানা ছুটির কারণে আশপাশে প্রচুর লোকজন থাকলেও, দুর্বৃত্তদের হাতে থাকা ধারালো দা ও চাপাতির কারণে তুহিনকে বাঁচাতে কেউ সাহস করে এগিয়ে আসেননি।

প্রত্যক্ষদর্শী শামিম বলেন, ‘তুহিন ভাই ভিডিও করছিলেন বলেই ওরা তাকে মেরে ফেলেছে। যদি ওটা (ভিডিও) না করতেন, হয়তো আজ বেঁচে থাকতেন।’

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে হত্যার সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয় এবং অনেকেই লেখেন, ‘চাঁদাবাজির লাইভ করায় সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যা’।

তবে তুহিনের পরিবার, সহকর্মী এবং পুলিশ বলছে, এই অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

তুহিনের ফেসবুক আইডি ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি চাঁদাবাজি নিয়ে কোনো ভিডিও, লাইভ বা রিপোর্ট করেননি।

বরং এলাকাবাসীর দুর্ভোগ, ট্রাফিক সমস্যা এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক পোস্ট করতেন। মৃত্যুর ঠিক আগে তিনি ‘যেমন খুশি তেমন রাস্তা পার হওয়ার দৃশ্য’ শিরোনামে একটি ভিডিও আপলোড করেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার রবিউল ইসলাম জানান, ‘ঘটনাটি কোনো চাঁদাবাজি সংক্রান্ত নয়। নারীঘটিত ঘটনার ভিডিও ধারণ করাই মূল কারণ। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি নিচ্ছি।’