সাফল্যের অনন্য নজির গড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে (আইবিএ) ভর্তি হয়েছিলেন রাফিয়া সুলতানা কুইন। ২৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯টি ইউনিটে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর শেষমেশ নিজের স্বপ্নের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই গন্তব্যে পৌঁছানো হলো না তার—ক্লাস শুরু হবার এক সপ্তাহ আগে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন কুইন।
গত বুধবার (৬ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে রাজশাহীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী। জানা গেছে, হঠাৎ করেই অ্যাজমা ও জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, সেখানেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল খালেক আহমেদের কন্যা কুইন ভোলাহাট সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে চমকপ্রদ ফলাফলের মাধ্যমে দেশের নামকরা প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান করে নেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটে ৪৫২তম, ‘বি’ ইউনিটে ৪৭তম ও ‘সি’ ইউনিটে ৪৩তম স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন : অটো রিকশার চাকায় ওড়না পেঁচানো সেই এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু
এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮৩৯তম, জাহাঙ্গীরনগরে ৬৬তম, চট্টগ্রামে ৬২৯তম, শাহজালালে ৪০তম, খুলনায় ৬৮তম এবং গুচ্ছভুক্ত ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫৮তম স্থান অর্জন করে নজর কাড়েন এই কৃতী শিক্ষার্থী।
তবু সব সম্ভাবনার ঊর্ধ্বে উঠে কুইন স্বপ্ন দেখেছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ বিভাগে পড়ার। যেখানে ১৭ আগস্ট হওয়ার কথা ছিল তার প্রথম ক্লাস।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রেজাউল করিম তাঁর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, ‘একটা মৃত্যুর সংবাদ শুনে আমি ট্রমার মধ্যে চলে গেছি। এটা থেকে কিছুতেই বের হতে পারছি না। আহ্ জীবনের পথ কত ছোট, মৃত্যু কত নিকটে! ফুল ফোটার আগেই ঝরে গেল রাফিয়া সুলতানা কুইন।’
আইবিএ বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘রাফিয়ার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে আমরা মর্মাহত। সে আমাদের নবাগত শিক্ষার্থী ছিল। বিভাগের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’
ঢাকা ডেস্ক 









