০৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি পণ্যে শুল্ক কমানো সন্তোষজনক : আমীর খসরু

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩৭:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
  • 106

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করাকে দেশের রপ্তানি খাতের জন্য একটি ‘সন্তোষজনক অগ্রগতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার (১ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কহার ২০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের হার ১৯ শতাংশ, ভিয়েতনামের ২০ শতাংশ এবং ভারতের ২৫ শতাংশ—এই প্রেক্ষাপটে ২০ শতাংশ শুল্ক হার সার্বিকভাবে সন্তোষজনক বলেই মনে করি।’

তবে তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া আলোচনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানা দরকার। এই মুহূর্তে শুধু শুল্কহার জানানো হয়েছে, কিন্তু এই হার নির্ধারণের পেছনে কী শর্ত ছিল বা আমরা বিনিময়ে কী দিয়েছি—তা এখনও স্পষ্ট নয়।

 

আরও পড়ুন : আ. লীগ কর্মীদের প্রশিক্ষণের অভিযোগে মেজর সাদিক বিপাকে

আলোচনায় আরও কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা শুধু শুল্ক কমানো নিয়ে নয়, বরং পুরো প্যাকেজ আলোচনার অংশ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র কী পণ্য রপ্তানির সুযোগ চাইছে, কী শর্ত দিয়েছে—এসব তথ্য প্রকাশ পেলে পুরো পরিস্থিতি বোঝা সহজ হবে।’

সম্প্রতি বাণিজ্য সচিবের যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে দেওয়া মন্তব্য এই শুল্ক কমানোর সঙ্গে সম্পৃক্ত কিনা—এমন প্রশ্নে খসরু বলেন, ‘না, তবে কিছু একটা তো করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের উদ্দেশ্যই ছিল তাদের রপ্তানিকে সুরক্ষা দেওয়া।’

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসায়ীদের কতটুকু চাপ সহ্য করার ক্ষমতা আছে, সেটাও চিন্তা করতে হবে। এই সিদ্ধান্তে আপাতত কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে, তবে আমাদের সামগ্রিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির ভারসাম্য বিবেচনায় রাখা জরুরি।

আরও পড়ুন : ধানমন্ডি ৩২ নম্বর দেখতে এসেছিলেন যুবলীগ নেতা, অতঃপর..

খসরু আরও বলেন, ‘এখন সময় এসেছে আমাদের রপ্তানি বাজার ও পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর। কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। নতুন নতুন বাজারে প্রবেশ ও পণ্য উদ্ভাবনে কাজ করতে হবে—এটাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

এর আগে, শুক্রবার (১ আগস্ট) বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফার শুল্ক আলোচনা শেষ হওয়ার পর হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি পণ্যে শুল্ক কমানো সন্তোষজনক : আমীর খসরু

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩৭:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করাকে দেশের রপ্তানি খাতের জন্য একটি ‘সন্তোষজনক অগ্রগতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার (১ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কহার ২০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের হার ১৯ শতাংশ, ভিয়েতনামের ২০ শতাংশ এবং ভারতের ২৫ শতাংশ—এই প্রেক্ষাপটে ২০ শতাংশ শুল্ক হার সার্বিকভাবে সন্তোষজনক বলেই মনে করি।’

তবে তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া আলোচনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানা দরকার। এই মুহূর্তে শুধু শুল্কহার জানানো হয়েছে, কিন্তু এই হার নির্ধারণের পেছনে কী শর্ত ছিল বা আমরা বিনিময়ে কী দিয়েছি—তা এখনও স্পষ্ট নয়।

 

আরও পড়ুন : আ. লীগ কর্মীদের প্রশিক্ষণের অভিযোগে মেজর সাদিক বিপাকে

আলোচনায় আরও কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা শুধু শুল্ক কমানো নিয়ে নয়, বরং পুরো প্যাকেজ আলোচনার অংশ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র কী পণ্য রপ্তানির সুযোগ চাইছে, কী শর্ত দিয়েছে—এসব তথ্য প্রকাশ পেলে পুরো পরিস্থিতি বোঝা সহজ হবে।’

সম্প্রতি বাণিজ্য সচিবের যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে দেওয়া মন্তব্য এই শুল্ক কমানোর সঙ্গে সম্পৃক্ত কিনা—এমন প্রশ্নে খসরু বলেন, ‘না, তবে কিছু একটা তো করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের উদ্দেশ্যই ছিল তাদের রপ্তানিকে সুরক্ষা দেওয়া।’

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসায়ীদের কতটুকু চাপ সহ্য করার ক্ষমতা আছে, সেটাও চিন্তা করতে হবে। এই সিদ্ধান্তে আপাতত কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে, তবে আমাদের সামগ্রিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির ভারসাম্য বিবেচনায় রাখা জরুরি।

আরও পড়ুন : ধানমন্ডি ৩২ নম্বর দেখতে এসেছিলেন যুবলীগ নেতা, অতঃপর..

খসরু আরও বলেন, ‘এখন সময় এসেছে আমাদের রপ্তানি বাজার ও পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর। কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। নতুন নতুন বাজারে প্রবেশ ও পণ্য উদ্ভাবনে কাজ করতে হবে—এটাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

এর আগে, শুক্রবার (১ আগস্ট) বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফার শুল্ক আলোচনা শেষ হওয়ার পর হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।