১১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
আরো কি সুযোগ সুবিধা থাকছে

দশম গ্রেডে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন বাড়বে কত ?

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
  • 101

পুরোনো ছবি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীত করার মাধ্যমে তাদের প্রতি সরকার তার দায়বদ্ধতা ও সম্মান প্রদর্শন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার ঘোষণার পর সবার আগ্রহ সরকারের এমন পদক্ষেপে শিক্ষকদের বেতন ও বিভিন্ন ধরনের ভাতা কত টাকা বাড়লো, তা নিয়ে।

গত ২২ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এ নিয়ে একটি প্রস্তাবনা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল।

তাতে প্রধান শিক্ষকরা আগে কত টাকা বেতন ও ভাতা পেতেন, আর দশম গ্রেড বাস্তবায়ন হলে কত পাবেন; তা নিয়ে পরিপূর্ণ হিসাব ছিল।

সেই প্রস্তাবনা অনুযায়ী—প্রধান শিক্ষকদের কার কত টাকা বেতন-ভাতা বাড়লো, তা নিচে উল্লেখ করা হলো।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫০২টি। তার মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদে বর্তমানে কর্মরত ৩১ হাজার ৩৯৬ জন।

তাদের ১২তম গ্রেডে বেতন পান ১ হাজার ১৫৪ জন এবং ১১তম গ্রেড পান ১৩ হাজার ৮৫৪ জন। বাকি ১৬ হাজার ৩৮৮ জন অষ্টম, নবম ও দশম গ্রেডে আগেই উন্নীত হয়েছেন। তারা এখন উচ্চতর গ্রেড পাচ্ছেন।

সব প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেড দেওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দিতে বছরে সরকারের ব্যয় বাড়ছে ৩৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৪০ টাকা।

তবে বর্তমানে শুধু কর্মরত প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ বেতন গ্রেড বাড়ানোয় খরচ বাড়বে ১০৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আর প্রধান শিক্ষকের সবগুলো পদ পূরণ করা হলে আরও ২৪২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের হিসাবমতে, বর্তমানে প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত ১ হাজার ১৫৪ জন ১২তম গ্রেড পাচ্ছেন। তাদের দশম গ্রেডে উন্নীত করা হলে তারা মূল বেতন বেশি পাবেন ৪ হাজার ৭০০ টাকা।

যারা আগে ১১তম গ্রেড পেতেন, এখন দশম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন; তাদের মূল বেতন বাড়বে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। বাড়িভাড়া বাড়বে ১ হাজার ৯৫ টাকা (গড়ে ৪২ শতাংশ হারে হিসাবে), বিশেষ সুবিধা বাড়বে ৫২৫ টাকা, উৎসব ভাতা বাড়বে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, নববর্ষ ভাতা বাড়বে ৭০০ টাকা।

বর্তমানে দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬ হাজার ৩৮৮ জন কর্মরত প্রধান শিক্ষক উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। দশম গ্রেডে উন্নীত হলেও তাদের আগের নিয়মে বেতন-ভাতা বহাল থাকবে।

কারণ তারা আগে থেকেই এর চেয়ে বেশি বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা পাচ্ছেন।

 

আরও পড়ুন :আজ বিশ্ব বাঘ দিবস

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ সংখ্যা ৩৪ হাজার ১০৬টি। তার মধ্যে ৩১ হাজার ৪৫৯টি পদ পদোন্নতিযোগ্য। এসব পদে যারা পদোন্নতি পাবেন, তারা বর্তমানে ১১তম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।

ফলে তারা পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষক হলে তাদের মূল বেতন বাড়বে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। বাড়িভাড়া বাড়বে ১ হাজার ৯৫ টাকা (গড়ে ৪২ শতাংশ হারে হিসাবে), বিশেষ সুবিধা বাড়বে ৫২৫ টাকা, উৎসব ভাতা বাড়বে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, নববর্ষ ভাতা বাড়বে ৭০০ টাকা।

৩১ হাজার ৪৫৯টি প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর তারা দশম গ্রেড পাবেন। এতে সরকারের বাড়তি খচর হবে ২১৭ কোটি ৫০ লাখ ৭৫ হাজার ২৬০ টাকা।

 

সরাসরি নিয়োগযোগ্য ২৬৪৭ প্রধান শিক্ষকের জন্য খরচ হবে কত

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগযোগ্য শূন্যপদের সংখ্যা ২ হাজার ৬৪৭টি। এসব পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা শুরুতে ১২তম গ্রেড পেতেন।

তবে প্রধান শিক্ষক পদটি দশম গ্রেডে উন্নীত হওয়ায় এখন সরাসরি নিয়োগের পর তারাও দশম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাবেন। সেক্ষেত্রে তাদের জন্য আগের চেয়ে সরকারের ব্যয় বাড়বে ২৫ কোটি ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪০ টাকা।

সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তরা দশম গ্রেডে উন্নীত হওয়ায় তারা মূল বেতন আগের নিয়মের চেয়ে এখন বেশি পাবেন ৪ হাজার ৭০০ টাকা।

বাড়িভাড়া বাড়বে (গড়ে ৪২ শতাংশ ধরে) ১ হাজার ৬৩৫ টাকা, বিশেষ সুবিধা ভাতা বাড়বে ৭০৫ টাকা। এছাড়া উৎসব ভাতা বাড়বে ৪ হাজার ৭০০ টাকা, নববর্ষ ভাতা বাড়বে ৯৪০ টাকা।

এদিকে, সব প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেড দেওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দিতে বছরে সরকারের ব্যয় বাড়ছে ৩৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৪০ টাকা।

তবে বর্তমানে শুধু কর্মরত প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ বেতন গ্রেড বাড়ানোয় খরচ বাড়বে ১০৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আর প্রধান শিক্ষকের সবগুলো পদ পূরণ করা হলে আরও ২৪২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।

দশম গ্রেড দিয়ে সরকার প্রধান শিক্ষকদের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সম্মান দেখিয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীত করার মাধ্যমে তাদের প্রতি সরকার তার দায়বদ্ধতা ও সম্মান প্রদর্শন করেছে।’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনের পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে এ দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অধিদপ্তরও সব সময় আন্তরিকভাবে তাদের দাবি পূরণে সচেষ্ট ছিল।

সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন না হলে অধিদপ্তর বা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু করার থাকে না। এবার উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল।

তাতে অন্তর্বর্তী সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সায় ছিল। সেজন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য এটি যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ।’

আরও পড়ুন : বঙ্গোপসাগরে ভূমিকম্প

প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীতকরণে খুশি প্রাথমিকের শিক্ষক নেতারাও। তবে তাদের আরও তিন দফা দাবি রয়েছে।

সে দাবিগুলোও দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম।

তিনি বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড দেওয়ায় আমরা খুশি। প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সরকারকে সাধুবাদ জানাচ্ছে। তবে আমাদের প্রায় সাড়ে তিন লাখ সহকারী শিক্ষক।

তাদের ১১তম গ্রেডে উন্নীত করতে হবে। জ্যেষ্ঠ যেসব শিক্ষক রয়েছেন, তাদের শতভাগ পদোন্নতি দিতে হবে। তাছাড়া চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দিতে হবে।

এ দাবিগুলো পূরণে আমরা সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছি। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবিগুলোর সব পূরণ না হলে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে লাগাতর অনশন কর্মসূচিতে যাবেন শিক্ষকরা।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

আরো কি সুযোগ সুবিধা থাকছে

দশম গ্রেডে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন বাড়বে কত ?

সর্বশেষ আপডেট : ০১:১০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীত করার মাধ্যমে তাদের প্রতি সরকার তার দায়বদ্ধতা ও সম্মান প্রদর্শন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার ঘোষণার পর সবার আগ্রহ সরকারের এমন পদক্ষেপে শিক্ষকদের বেতন ও বিভিন্ন ধরনের ভাতা কত টাকা বাড়লো, তা নিয়ে।

গত ২২ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এ নিয়ে একটি প্রস্তাবনা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল।

তাতে প্রধান শিক্ষকরা আগে কত টাকা বেতন ও ভাতা পেতেন, আর দশম গ্রেড বাস্তবায়ন হলে কত পাবেন; তা নিয়ে পরিপূর্ণ হিসাব ছিল।

সেই প্রস্তাবনা অনুযায়ী—প্রধান শিক্ষকদের কার কত টাকা বেতন-ভাতা বাড়লো, তা নিচে উল্লেখ করা হলো।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫০২টি। তার মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদে বর্তমানে কর্মরত ৩১ হাজার ৩৯৬ জন।

তাদের ১২তম গ্রেডে বেতন পান ১ হাজার ১৫৪ জন এবং ১১তম গ্রেড পান ১৩ হাজার ৮৫৪ জন। বাকি ১৬ হাজার ৩৮৮ জন অষ্টম, নবম ও দশম গ্রেডে আগেই উন্নীত হয়েছেন। তারা এখন উচ্চতর গ্রেড পাচ্ছেন।

সব প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেড দেওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দিতে বছরে সরকারের ব্যয় বাড়ছে ৩৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৪০ টাকা।

তবে বর্তমানে শুধু কর্মরত প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ বেতন গ্রেড বাড়ানোয় খরচ বাড়বে ১০৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আর প্রধান শিক্ষকের সবগুলো পদ পূরণ করা হলে আরও ২৪২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের হিসাবমতে, বর্তমানে প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত ১ হাজার ১৫৪ জন ১২তম গ্রেড পাচ্ছেন। তাদের দশম গ্রেডে উন্নীত করা হলে তারা মূল বেতন বেশি পাবেন ৪ হাজার ৭০০ টাকা।

যারা আগে ১১তম গ্রেড পেতেন, এখন দশম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন; তাদের মূল বেতন বাড়বে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। বাড়িভাড়া বাড়বে ১ হাজার ৯৫ টাকা (গড়ে ৪২ শতাংশ হারে হিসাবে), বিশেষ সুবিধা বাড়বে ৫২৫ টাকা, উৎসব ভাতা বাড়বে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, নববর্ষ ভাতা বাড়বে ৭০০ টাকা।

বর্তমানে দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬ হাজার ৩৮৮ জন কর্মরত প্রধান শিক্ষক উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। দশম গ্রেডে উন্নীত হলেও তাদের আগের নিয়মে বেতন-ভাতা বহাল থাকবে।

কারণ তারা আগে থেকেই এর চেয়ে বেশি বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা পাচ্ছেন।

 

আরও পড়ুন :আজ বিশ্ব বাঘ দিবস

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ সংখ্যা ৩৪ হাজার ১০৬টি। তার মধ্যে ৩১ হাজার ৪৫৯টি পদ পদোন্নতিযোগ্য। এসব পদে যারা পদোন্নতি পাবেন, তারা বর্তমানে ১১তম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।

ফলে তারা পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষক হলে তাদের মূল বেতন বাড়বে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। বাড়িভাড়া বাড়বে ১ হাজার ৯৫ টাকা (গড়ে ৪২ শতাংশ হারে হিসাবে), বিশেষ সুবিধা বাড়বে ৫২৫ টাকা, উৎসব ভাতা বাড়বে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, নববর্ষ ভাতা বাড়বে ৭০০ টাকা।

৩১ হাজার ৪৫৯টি প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর তারা দশম গ্রেড পাবেন। এতে সরকারের বাড়তি খচর হবে ২১৭ কোটি ৫০ লাখ ৭৫ হাজার ২৬০ টাকা।

 

সরাসরি নিয়োগযোগ্য ২৬৪৭ প্রধান শিক্ষকের জন্য খরচ হবে কত

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগযোগ্য শূন্যপদের সংখ্যা ২ হাজার ৬৪৭টি। এসব পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা শুরুতে ১২তম গ্রেড পেতেন।

তবে প্রধান শিক্ষক পদটি দশম গ্রেডে উন্নীত হওয়ায় এখন সরাসরি নিয়োগের পর তারাও দশম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাবেন। সেক্ষেত্রে তাদের জন্য আগের চেয়ে সরকারের ব্যয় বাড়বে ২৫ কোটি ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪০ টাকা।

সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তরা দশম গ্রেডে উন্নীত হওয়ায় তারা মূল বেতন আগের নিয়মের চেয়ে এখন বেশি পাবেন ৪ হাজার ৭০০ টাকা।

বাড়িভাড়া বাড়বে (গড়ে ৪২ শতাংশ ধরে) ১ হাজার ৬৩৫ টাকা, বিশেষ সুবিধা ভাতা বাড়বে ৭০৫ টাকা। এছাড়া উৎসব ভাতা বাড়বে ৪ হাজার ৭০০ টাকা, নববর্ষ ভাতা বাড়বে ৯৪০ টাকা।

এদিকে, সব প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেড দেওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দিতে বছরে সরকারের ব্যয় বাড়ছে ৩৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৪০ টাকা।

তবে বর্তমানে শুধু কর্মরত প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ বেতন গ্রেড বাড়ানোয় খরচ বাড়বে ১০৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আর প্রধান শিক্ষকের সবগুলো পদ পূরণ করা হলে আরও ২৪২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।

দশম গ্রেড দিয়ে সরকার প্রধান শিক্ষকদের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সম্মান দেখিয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীত করার মাধ্যমে তাদের প্রতি সরকার তার দায়বদ্ধতা ও সম্মান প্রদর্শন করেছে।’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনের পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে এ দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অধিদপ্তরও সব সময় আন্তরিকভাবে তাদের দাবি পূরণে সচেষ্ট ছিল।

সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন না হলে অধিদপ্তর বা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু করার থাকে না। এবার উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল।

তাতে অন্তর্বর্তী সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সায় ছিল। সেজন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য এটি যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ।’

আরও পড়ুন : বঙ্গোপসাগরে ভূমিকম্প

প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীতকরণে খুশি প্রাথমিকের শিক্ষক নেতারাও। তবে তাদের আরও তিন দফা দাবি রয়েছে।

সে দাবিগুলোও দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম।

তিনি বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড দেওয়ায় আমরা খুশি। প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সরকারকে সাধুবাদ জানাচ্ছে। তবে আমাদের প্রায় সাড়ে তিন লাখ সহকারী শিক্ষক।

তাদের ১১তম গ্রেডে উন্নীত করতে হবে। জ্যেষ্ঠ যেসব শিক্ষক রয়েছেন, তাদের শতভাগ পদোন্নতি দিতে হবে। তাছাড়া চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দিতে হবে।

এ দাবিগুলো পূরণে আমরা সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছি। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবিগুলোর সব পূরণ না হলে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে লাগাতর অনশন কর্মসূচিতে যাবেন শিক্ষকরা।’